বাড়িওয়ালার মহানুভবতার গল্প শোনালেন ভাড়াটিয়ারা

সিএনজিচালিত অটোরিকশা-চালক মো. মানিক, পরিবার নিয়ে বসবাস করেন ঢাকার কেরাণীগঞ্জের ঘাটারচর এলাকায়। বাংলাদেশে করোনা সংক’টের শুরুতে গত মার্চ মাসে ভীষণ বিপ’দে পড়েছিলেন মানিক। লকডাউনের কারণে উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে গ্রামে ফেরা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না তার। কিন্তু এই বিপ’দের সময় না চাইতেই মানিকের পাশে এসে দাঁড়ান তার ভাড়াবাসার মালিক মো. আকরাম হোসেন সুজন। ঘোষণা দেন- যতদিন করোনা থাকবে ততদিন পর্যন্ত অর্ধেক বাসাভাড়া দিলেই হবে।

যদি সেটুকু দেওয়ার সামর্থ্যও না থাকে তাহলে বিনা ভাড়াতেই থাকতে পারবেন ভাড়াটিয়ারা। শুধু মানিক নয়, এমন সুযোগ পেয়েছেন মো. আকরাম হোসেনের বাসায় ভাড়া থাকা ৫১টি পরিবার এবং তার মালিকানাধীন ১৩টি দোকানের ভাড়াটিয়াও। তাদেরই একজন মো. হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান, করোনা সংকটের শুরুতেই সাধারণ ছুটির কারণে দোকান বন্ধ হয়ে যায় তার। উপর্জনের একমাত্র অবলম্বন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে ভীষণ সংক’টে পড়তে হয় তাকে। তার এই বিপ’দে এগিয়ে আসেন দোকান মালিক আকরাম হোসেন সুজন।

মার্চ মাসের দোকানভাড়া মওকুফের পাশাপাশি ঘোষণা দেন, যতদিন দেশে করোনা থাকবে ততদিন পর্যন্ত ভাড়া অর্ধেক নেওয়ার। এখন পর্যন্ত সেটাই করছেন তিনি। আকরাম হোসেনের বাসার ভাড়াটিয়া পেশায় বাসচালক মো. রাজা জানান, এই বাড়িতে ৫১টি পরিবারের বসবাস। তাদের বেশিরভাগই বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানচালক। এছাড়াও কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আছেন। করোনার কারণে তাদের সবারই উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এই সময় বাড়ির মালিকের মহানুভবতায় পরিবার নিয়ে টিকে ছিলেন তারা।

এখন আবার তারা কাজ শুরু করতে পেরেছেন, কিন্তু এরপরও বাড়ির মালিক ঘোষণা দিয়েছেন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অর্ধেক ভাড়া দিলেই হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হাবিব ও তার স্ত্রী রোজিনা জানান, তারা ৬ বছর ধরে আকরাম হোসেনের বাড়িতে বসবাস করছেন। শুধু করোনাকালে নয়, অন্য সময়েও ভাড়াটিয়াদের বিপদে সবার আগে পাশে এসে দাঁড়ান আকরাম হোসেন সুজন। আশপাশের বাড়ির মালিকের তুলনায় বাসাভাড়াও অনেক কম নেন তিনি। আকরাম হোসেন সুজন জানান, কেরাণীগঞ্জ ও মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদে পৈতৃকসূত্রে পাওয়া ২টি বাড়ি আছে তার। এছাড়াও আছে ১৩টি দোকান। এসব থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ ভাড়া পান তিনি।

বাড়ি ও দোকানের ভাড়াই তার আয়ের একমাত্র উৎস। তাই ইচ্ছে থাকলেও সব ভাড়াটিয়ার ভাড়া মওকুফ করতে পারেননি তিনি। নিজের পরিবার ও জীবন চালাতে বাধ্য হয়ে কিছু ভাড়া নিতে হচ্ছে তাকে। কিন্তু যাদের একেবারেই সামর্থ্য নেই তাদের পুরো ভাড়া মওকুফ করেছেন। তিনি বলেন, আমার ভাড়াটিয়াদের বেশিরভাগই কর্মজীবী মানুষ। অনেকেরই দিন এনে দিন খায় অবস্থা। কাজ বন্ধ থাকায় পরিবারের খাবারই জোগাড় করতে পারছেন না অনেকে, তারা বাসাভাড়া দেবেন কীভাবে! সৌভাগ্যবশত আল্লাহ্‌ আমাকে অনেক দিয়েছেন, তাই এই বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।

সূত্র: সমকাল।