সতীর্থদের ঘুমের যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, এ জন্য ফজরের নামাজ নিঃশব্দে পড়েন

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভদ্র ফুটবলারের নাম কী? কোন ফুটবলার অন্যতম সেরা হয়েও পা মাটিতে রেখেছেন? নিরহংকারী জীবন-যাপনে প্রতিনিয়ত উদাহরণ সৃষ্টি করছেন কে? ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এ প্রশ্নের জবাবে খুব বেশি দ্বিধা সৃষ্টি হয় না। বেশির ভাগের মুখেই উঠে আসবে চেলসির ফরাসি মিডফিল্ডার এনগোলো কন্তের নাম। কয়েক মাস আগে শোনা গিয়েছিল, স্টারবাকস বা আমাজনের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের চেয়েও বেশি কর দিয়েছেন কান্তে। তিনি এতটাই লাজুক স্বভাবের যে, বিশ্বকাপ জেতার পরও ট্রফি নিয়ে উদযাপন করতে পারেননি!

পরে সতীর্থ স্টিভেন এনজনজি জোর করে তার হাতে ট্রফি ধরিয়ে দিয়ে উদযাপন করতে বলেন। সতীর্থের ঘুমের যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, এ জন্য কন্তে ফজরের নামাজও নিঃশব্দে পড়েন বলে জানিয়েছিলেন তার সাবেক ক্লাবের এক সতীর্থ। নিয়মিত সাধারণ মানুষদের সঙ্গে মসজিদে নামজ পড়তে যাওয়া, হুট করে কোনো এক রেস্তোঁরায় গিয়ে ভক্তকে চমকে দেওয়া- এসব তো আছেই। এখন শোনা গেল, ঝামেলায় পড়া এক সতীর্থকে এক মাস নিজের বাসায় থাকতে দিয়েছিলেন কন্তে।

বর্তমানে দ্বিতীয় বিভাগের দল উইগান অ্যাথলেটিকের হয়ে খেলা ফরাসি ডিফেন্ডার সেড্রিক কিপরে জানিয়েছেন এ কথা। দুজন তখন লেস্টার সিটিতে খেলতেন। পিএসজি থেকে কিপরে যখন লেস্টারে যোগ দেন তার এক বছর পর ফরাসি ক্লাব কাঁ থেকে ইংল্যান্ডে আসেন কন্তে। তখন নিজের অ্যাপার্টমেন্টে কিছু সমস্যার কারণে বেশ যন্ত্রণায় ছিলেন কিপরে ও তার ভাই। কান্তেই তখন স্বপ্রণোদিত হয়ে এক মাস নিজের অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে দেন এই দুজনকে।

কিপরে বলেন, ‘লেস্টারে যখন খেলতাম, তখন কান্তের অ্যাপার্টমেন্টে আমি ও আমার ভাই এক মাস থেকেছি। সবাই এমন মহানুভবতা দেখাতে পারে না। কিন্তু কান্তে পেরেছিল। ওর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমি গর্বিত যে কান্তের মতো কারও সঙ্গে আমার এ জীবনে দেখা হয়েছে। ওর চেয়ে ভদ্র কাউকে আমি চিনি না।’সেই লেস্টারেই লিগ জিতে আলোচনায় আসেন কন্তে। পরে যোগ দেন চেলসিতে। এখন চেলসির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় বিশ্বকাপজয়ী এ মিডফিল্ডার।