গু’জব ছড়াবেন না, আসুন আমরা এই মহান শিল্পীর জন্য প্রার্থনা করি

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল এন্ড্রু কিশোরের মৃ’ত্যুর গু’জব। দেশের কিছু বড় তারকাও এই মৃ’ত্যুর সংবাদ না জেনেই ফেসবুকে শেয়ার করেন। যার ফলে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে কণ্ঠশিল্পীর মৃ’ত্যুর সংবাদ। এ ছাড়াও কিছু ওয়েবসাইটও এ সকল শোবিজ তারকাদের বরাত দিয়ে মৃ’ত্যুর সংবাদ প্রচার করে ফেলেছেন।

এ ঘটনায় ক্ষো’ভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত। তিনি বলেন, ‘একজন জীবিত মানুষকে কেন এভাবে মে’রে ফেলা হয়, কেন ফেসবুকে এসব মি’থ্যা সংবাদ ছড়ানো হয়? একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, কে কার আগে মৃ’ত্যুর সংবাদটা দিতে পারে। ফেসবুকে ভিউ, বা লাইক বাড়ানোর এই প্রতিযোগিতা মোটেও ভালো নয়।’

হানিফ সংকেত বলেন, ‘এর আগে এটিএম শামসুজ্জামানের মৃ’ত্যু সংবাদ একাধিকবার ছড়ানো হয়েছে। আলি আকবর রুপুকে নিয়ে হয়েছিল, কেন এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে? এন্ড্রু কিশোরের সাথে আমার যোগাযোগ রয়েছে। ঢাকা যখন আসছিল আমার সাথে যোগাযোগ ছিল। যাই হোক, এখন তার শরীরের অবস্থা খারাপ। যে কোনো সময় যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি সঙ্ক’টাপন্ন, তাই বলে জীবিত মানুষকে মে’রে ফেলা কাম্য নয়। আগে যে অবস্থায় এসেছিলেন, এখন তারচেয়েও খারাপ।’

সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে হানিফ সংকেত বলেন, ‘প্লিজ কেউ গু’জব ছড়াবেন না। তারচেয়ে আসুন আমরা এই মহান শিল্পীর জন্য প্রার্থনা করি। এটা এখন তাঁর পরিবারেরও চাওয়া, আমরা যারা শুভাকা’ঙ্ক্ষী রয়েছি তাদেরও চাওয়া।’

সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন মাত্র ক’দিন আগে। ক্যা’ন্সারের সাথে লড়াই করে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পরেও যেন পুরোপুরিও সুস্থ হতে পারেননি। তাঁর অবস্থা এখনসঙ্ক’টাপন্ন। দিন দিন তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে, দিতে হচ্ছে অক্সিজেন সাপোর্ট। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এন্ড্রু কিশোরের খালাতো ভাই রেমন্ড তপু।

শরীরে নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে এন্ড্রু কিশোর অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিলেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর শরীরে নন-হজকিন লিম্ফোমা নামের ব্লাড ক্যা’নসার ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। এই কয়েক মাস ধরে সিঙ্গাপুরে তাঁর চিকিৎসা চলে।

এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ জোগাতে বিক্রি করে দেন রাজশাহী শহরে তাঁর কেনা ফ্ল্যাটটি। শিল্পীর পরিবারের পাশাপাশি সংগীতশিল্পী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসীরা এগিয়ে এসেছেন। গেল ফেব্রুয়ারিতে সিঙ্গাপুর বিজনেস সোসাইটি এবং বাংলাদেশ চেম্বারের আয়োজনে সিঙ্গাপুরের স্থানীয় গেটওয়ে থিয়েটার হলে আয়োজন করা হয় ‘এন্ড্রু কিশোরের জন্য ভালোবাসা’ শিরোনামের সংগীতানুষ্ঠান।

সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী, সাবিনা ইয়াসমীন, মিতালী মুখার্জি, মোমিন বিশ্বাস, জাহাঙ্গীর সাঈদ ও মিলিয়া সাবেদ। এন্ড্রু কিশোরের এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাঁরা দুজনেই অস্ট্রেলিয়া থাকেন। মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা সিডনিতে গ্রাফিকস ডিজাইন ও ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তক মেলবোর্নে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে পড়াশোনা করছেন।

সংগীতজীবনের শুরুতে আবদুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সংগীতচর্চা শুরু করেন এন্ড্রু কিশোর। চলচ্চিত্রে তাঁর প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে। এরপর তাঁর গাওয়া অনেক গান জনপ্রিয় হয়। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অবদান রাখার জন্য তিনি কয়েকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ অনলাইন