শাহেদকে গ্রে’ফতার করে প্রমান করুন আপনারা ভাগ পাননি : ব্যারিস্টার সুমন

বাংলাদেশে নানা অভিযোগে সিলগালা করে দেয়া রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো: শাহেদকে নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠার পর এ বিষয়ে প্রতি’বাদ জানিয়েছেন সুপ্রিমকো’র্টের আইনজিবী ও সমাজসেবক ব্যারিস্টার সুমন।

ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি লাইভে এসে আজ তিনি শাহেদকে গ্রে’ফতার করার জোর আবেদন জানিয়েছেন। এবং অতিদ্রুত তাকে গ্রে’ফতার করে প্রমান করার দাবি জানিয়েছেন যে – তার কাছ থেকে প্রভাবশালীরা কোন ভাগ পাননি।

ব্যরিস্টার সুমন লাইভে এসে বলেন – এই সময়ে এসে করোনা ইস্যুতে বাংলাদেশটাকে প্রোডাক্ট বানিয়ে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক শাহেদ তিনি আইনের আওতায় আসেননি কেন। যেখানে বাংলাদেশের বড় বড় ক্রিমিনালরা দুই আড়াই ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার হয় সেখানে সাহেদকে কেন এখনও গ্রে’ফতার করা হচ্ছে না এই প্রশ্ন রাখেন তিনি।

ব্যারিস্টার সুমন সাহেদকে গ্রে’ফতার করার বিষয়ে বলেন, তাকে গ্রে’ফতার করতে কী নতুন করে কোন এলিট ফোর্স লাগবে।

প্রভাবশালীদের সাথে সাহেদের ছবির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপিসহ এমন কেউ নাই যার সাথে তার ছবি না আছে এখন যদি তাকে গ্রে’ফতার করা না হয় তাহলে অনেকে বলবে, ভিআইপিরা তার কাছ থেকে ভাগ খেয়েছে।

এছাড়াও ব্যারিস্টার সুমন বলেন- সোশ্যাল মিডিয়ায় লোকে বলাবলি করছে যে, সাহেদ এখন কোন মন্ত্রী অথবা কোন ভিআইপির বাসায় এসে আত্মগোপন করে রয়েছে অথবা তাকে আ’ত্মগোপ’ন করে রাখা হয়েছে। তাকে কেন গ্রে’ফতারর করা হচ্ছে না এই কথার যদি জবাব দিতে না পারেন তাহলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

ইতালিতে বাংলাদেশের ফ্লাইট আটকে দেওয়া এবং বাংলাদেশ থেকে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে গিয়ে সে দেশে করোনা পজিটিভ হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন এই সাহেদদদের কারণে গতকালকে ইতালিতে ১৯০ জন লোককে নামতে দেয়া হয় নাই। ইতালির পত্রিকায় গতকাল বাংলাদেশে ছিল সবচেয়ে বড় শিরোনাম সেই দেশেতে হেডলাইন ছিল বাংলাদেশে করোনা সার্টিফিকেট জালিয়াতির খবর। এতে বাংলাদেশ কলঙ্কিত হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, সাহেদের মত লোকেরা এই সার্টিফিকেট জাল করে বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে ছোট করে।

আওয়ামী লীগের সাথে সাহেদের সম্পর্ক বিষয়ে সুমন বলেন, এই সাহেদ দাবী করে যে সে আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং তার একটি নাম আমি দেখেছিও। জানিনা পুরোপুরি কতটা সত্য। কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে তাঁর ওঠাবসা রয়েছে এটা প্রমাণিত কথা। এবং তার মত এ সমস্ত লোকজন ক্ষমতার আশেপাশেই থাকে। তাই সঠিকভাবে তার বিচার না করলে আওয়ামী লীগকে এর দায় নিতে হবে।

তিনি বলেন – আমি আশ্চর্য হই আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুমে পায়ের উপর পা তুলে সচিবের সামনে এবং আমাদের স্বাস্থ্যম’ন্ত্রী সামনে যেভাবে সে তার আচরণ দেখাচ্ছিলো তাতে বোঝা যাচ্ছিল যে স্বা’স্থ্যমন্ত্রী সিন্ডিকেটের অংশ।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন – স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কথা তো কম বলি নাই। স্বা’স্থ্য মন্ত্রণালয় একটি দুই নম্বরি মন্ত্রণালয় তা আবারো প্রমাণ হয়েছে সাহেদ ইস্যুতে। কারণ সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতাল ৬ বছর আগে থেকেই কোন লাইসে’ন্স নাই তারপরও সেই হাসপাতালের সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি চুক্তি করেছে এরকম একটা হাসপাতাল মন্ত্রণালয় থেকে কিভাবে সরকারিভাবে বৈধতা দেয়া হয় এবং মন্ত্রণালয়ের লোকজন মিলে তার সাথে যখন চুক্তি করে তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করে বলতে হয় আর কত এ বিষয়গুলো সহ্য করবেন।

তিনি বলেন, সারা বিশ্ব যখন করোনা প্রতিরক্ষা কাজ করে যাচ্ছে সেখানে আমাদের এই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বড় দুর্নী’তিবাজ মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রমাণিত হবে তাই এসব থেকে উত্তরণের জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন জানিয়ে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, তাই অতিদ্রুত সাহেদকে গ্রে’ফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের সাথে এধরনের দু’র্নীতিবাজদের বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হওয়া ছবি বিষয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে – দু’দিন ধরে আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতার সাথে মো: শাহেদের অনেক ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হয়েছে এবং নানা আলোচনা চলছে।

গত বছর অ’বৈধ ক্যাসি’নো বাণিজ্যে যুবলীগের কয়েকজন নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মুখে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোতে শুদ্ধি অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেসব কী শুধু কথাতেই রয়ে গেছে, সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। করোনাভাই’রাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত সেই রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো: শাহেদ নিজেকে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করতেন।

তার এমন দাবির মুখোমুখি হয়েছিলেন আওয়ামী লীগেরই অনেক নেতা। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপ কমিটির একটি অনুষ্ঠানে মো: শাহেদ সেই কমিটির নেতাদের পাশে বসা রয়েছেন, এমন একাধিক ছবি ফেসবুকে ভাই’রাল হয়েছে।

এই উপকমিটির সদস্য সচিব ড: শাম্মী আহমেদ বলেছেন, মো: শাহেদকে তাদের কমিটিতে নেয়ার জন্য দলেরই অনেকে তদ্বিরও করেছিলেন। “আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেছেন যে, ছবি আছে, উনি আমাদের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। উনি নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন বুদ্ধিজীবী বা ঐ ধরণের হিসাবে পরিচয় দিতেন। উনি আমার বাসায়ও এসেছেন, আমাকে অনেক অনুরোধ করেছেন যে, আপা আমাকে আপনার কমিটিতে রাখেন। আমি কমিটিতে রাখিনি।”

ড: শাম্মী আহমেদ আরও বলেছেন, “ওনাকে আমাদের উপকমিটিতে রাখার ব্যাপারে এমন কিছু জায়গা থেকে আমাকে বলাও হয়েছে যে, তুমি তাকে রাখো। অনেক সিনিয়ররা বলেছেন। আমি তাদের নাম বলবো না। তারপরও আমি তাকে কমিটিতে রাখিনি।”

“আমাদের কমিটির অনুষ্ঠানের খবর কিভাবে পেতেন, তা জানিনা। কিন্তু উনি অনুষ্ঠানে এসে হাজির হতেন। তবে আমি দায়িত্ব নিয়েই বলছি, উনি আমার উপ কমিটির কোন সদস্য ছিলেন না।” তবে মো: শাহেদের কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগকে আবারও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে দলটির তৃণমুলের নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করেন।

কয়েকটি জেলা থেকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা কর্মী বলেছেন, এরআগেও বেশ কিছু ঘটনায় তাদের দল বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি পড়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই অসামা’জিক নানা অপ’রাধে জড়িত থাকার অভিযোগে যুব মহিলা লীগের একজন নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে দু’র্নীতি বিরো’ধী অভিযানে অবৈ’ধ ক্যা’সিনো বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবলীগ এবং কৃষক লীগের বেশ কয়েকজন নেতা গ্রে’ফতার হন। সেই পরিস্থিতিও আওয়ামী লীগকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে আওয়ামী লীগের একজন নেত্রী জিনাত সোহানা চৌধুরী বলেছেন, এখন মো:শাহেদের ঘটনার প্রেক্ষাপটে মাঠপর্যায়ে তারা আবার প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন।

“শাহেদের মতো যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দল থেকে সুবিধা নিয়ে এসেছে, একটা দলকে বিব্র’তকর পরিস্থিতিতে নিয়ে যেতে এদের এক বিন্দুও দ্বি’ধাবোধ বা সময় লাগবে না। এ ধরণের মানুষ যখন একটা বড় দলের নাম বিক্রি করে বা নামের ছত্রছায়ায় যখন এদের কর্মকা’ণ্ড চালায়, অবশ্যই সেটা আমাদের বিব্র’ত করে। মাঠ পর্যায়ে যখন কাজ করতে যাই, আমাদের অবশ্যই এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।”

তিনি আরও বলেছেন, “দলে শুদ্ধি অভিযানের যে বিষয়, আসলে প্রধানমন্ত্রী যে কাজগুলো হাতে নিয়েছেন,আমরা দেখেছি যে, প্রতি ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত কিন্তু প্রধানমন্ত্রী একাই লড়ে যাচ্ছেন এদের বিরু’দ্ধে।”

কে এই সাহেদ?

গাড়িতে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টিকার। সঙ্গে গানম্যান। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে সেই ছবি বিলবোর্ডে সাঁটিয়ে দিয়েছেন হাসপাতালের সামনে। তিনি সিলগালা করে দেয়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শাহেদ। ২০১৩ সালে হাসপাতালের লাইসে’ন্স নেয়ার পর আর নবায়ন করার গরজ অনুভব করেন নি।

লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকলেও এই প্রতিষ্ঠানকে করোনার মতো স্পর্শ’কাতর চিকিৎসাসেবা দেয়ার অনুমতি দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুরু থেকেই এই হাসপাতালের বিরু’দ্ধে করোনা চিকিৎসা নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ আসায় সোমবার হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

শাখা দুটি সিলগালা করে দেয়া হয়। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় হাসপাতালটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনার ভু’য়া সনদ, বাড়তি অর্থ আদায় করে আলোচনায় আসা এই হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শাহেদকে নিয়ে কৌতূহল চারপাশে। তিনি কীভাবে এমন একটি হাসপাতাল গড়ে তুললেন, করোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব বাগিয়ে নিলেন- এমন নানা প্রশ্ন মুখে মুখে। অভিযানের পর তিনি লাপাত্তা। পাওয়া যাচ্ছে না হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পর্কের সূত্রে তিনি নানা সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিতেন। নিজের ফেসবুক পেজে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ দাবি করে বলেছেন, মোহাম্মদ শাহেদ এমন কোনো কমিটিতে নেই। রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে মো. শাহেদ বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতেও অংশ নিতেন। দিতেন নানা পরামর্শ। নিজে প্রতা’রণার জাল ফেলে কীভাবে মানুষকে এভাবে নসিহতের বাণী শোনাতেন না নিয়ে বড় বিস্ময় মানুষের মাঝে।

মো. শাহেদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকলেও তার আসল নাম মো. শাহেদ করিম, পিতা: সিরাজুল করিম। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ি তার ঠিকানা হরনাথ ঘোষ রোড, লালবাগ, ঢাকা-১২১১। গ্রামের বাড়ী সাতক্ষীরা জেলায়। বিএনপি সরকারের সময়ে ক্ষমতাসীন অনেকের সঙ্গে তার সুস্পর্ক ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ১/১১ সরকারের সময় তিনি দুই বছর জেলে ছিলেন বলে তার ঘনিষ্টজনরা বলছেন। জেল থে?কে বের হয়ে শাহেদ ২০১১ সালে ধানমন্ডির ১৫ নং রোডে এমএলএম কোম্পানী বিডিএস ক্লিক ওয়ান খুলে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করে শত কোটি টাকা আত্ম’সাতের অভিযোগ আছে তার বিরু’দ্ধে।

আর সেসময় তিনি মেজর ইফতেখার করিম চৌধুরী বলে পরিচয় দিতেন। তার বিরু’দ্ধে ধানমন্ডি থানায় ২টি মামলা, বরিশালে ১ মামলা, বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিস এ চাকুরীর নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারনার কারণে উত্তরা থানায় ৮টি মাম’লাসহ রাজধানীতে ৩২টি মামলা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

এছাড়াও প্র’তারণার টাকায় তিনি উত্তরা পশ্চিম থানার পাশে গড়ে তুলেছেন রিজেন্ট কলেজ ও ইউনির্ভাসিটি, আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটি। এর একটিরও কোন বৈধ লাই’সেন্স নেই বলে অভিযোগ আছে। আর অনু? মোদনহীন আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটির ১২টি শাখা করে হাজার হাজার সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আ’ত্মসাৎ করার অভিযোগ আছে শাহেদের বিরু’দ্ধে। প্রতা’রণা করে অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজের কার্যালয়ে একটি টর্চার সেল গড়ে তুলেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

রিজেন্ট হাসপাতালের বিরু’দ্ধে যত অভিযোগ :

সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪২৬৪টি স্যাম্পল রিজেন্ট টেস্ট করেছে এবং এর বাইরে ৬ হাজারের বেশি স্যাম্পল টেস্ট না করেই তারা ভু’য়া রিপোর্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ২০১৪ সাল থেকে নেই। আর আইসিইউ যেটা আছে সেটা ভালোভাবে চলছিলো না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ডায়াগনো’সিস ল্যাব আছে, সেখানে কোনো মেশিন নেই, সেখানে কোনো টেস্ট না করেই রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অভিযান চলাকালে ফ্রিজের মধ্যে এক অংশে মেডিসিন অন্য অংশে মাছ মিলেছে। হাসপাতালটির ডিসপেনসারি সেখানে সব সার্জি’ক্যাল আইটেম ৫/৬ বছর আগের মেয়াদো’ত্তীর্ণ। নেই মালিকের গাড়ির রেজি’স্ট্রেশন। এর আগে প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালানোর সময় বেশ কিছু রিপোর্ট সেগুলো হাসপাতালে থাকার কথা সেগুলো মিলেছে রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, যেই চিকিৎসা বিনামূল্যে করার কথা সেটির জন্য রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে আবার সরকারের কাছ থেকেও সেই টাকা গ্রহণ করেছে হাসপাতালটি।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার বলেন, ‘করোনা উপস’র্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা এবং বাড়িতে থাকা রোগীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ভু’য়া রিপোর্ট প্রদান করতো রিজেন্ট হাসপাতাল। এ ছাড়াও সরকার থেকে বিনা’মূল্যে করোনা টেস্ট করার অনুমতি নিয়ে রিপোর্ট প্রতি সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা করে আদায় করতো তারা। এভাবে জনগণের সঙ্গে প্র’তারণা করে মোট তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রিজে’ন্ট। এই সমস্ত অপরা’ধ ও টাকার নিয়ন্ত্রণ চেয়ারম্যান সাহেব (রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ) নিজে করতেন অফিসে বসে।’

সারোয়ার আলম বলেন, ‘রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় থেকেই এই অপ’কর্মগুলো হতো বিধায় এটি সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের স্থানান্তর করে হাসপাতাল দুটিও সিলগা’লা করা হয়েছে।’ এর আগে সোমবার রাতেই মো. সাহেদের মালিকানাধীন হাসপাতাল থেকে অননুমোদিত র‌্যাপিড টেস্টিং কিট ও একটি গাড়ি জ’ব্দ করা হয়। ওই গাড়িতে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টিকার লাগানো ছিল। আই’নশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের চোখে ধুলো দিতেই ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টিকার ব্যবহার করা হতো।

৫০ শয্যার রিজেন্ট হাসপাতালটিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অনুমোদন দিয়েছিলো ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। পরে ২০১৭ সালে মিরপুরেও হাসপাতালটির আরেকটি শাখা খুলে তার অনুমোদন যদিও এসব হাসপাতালের লাইসে’ন্সের মেয়াদ একবার উত্তী’র্ণ হওয়ার পর আর নবায়ন করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

করোনা আক্রা’ন্ত বাবাকে রিজেন্টে ভর্তি করেন নি শাহেদ:

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. শাহেদের বাবাও করোনা আক্রা’ন্ত হন। তবে তাকে রিজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে ভর্তি করানো হয় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। বিষয়টি জানা যায়, এই হাসপাতালের একজন সাবেক কর্মীর মাধ্যমে। তিনিও করোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি রিজেন্ট হাসপাতাল ছেড়ে দিয়েছেন আগেই। তাকে ফোন দিয়েছিলেন মো. শাহেদ। তিনি প্লাজমা দেয়ার আবেদন জানিয়ে ছিলেন তার কাছে। তবে রক্তের গ্রুপ না মেলায় তিনি প্লাজমা দিতে পারেন নি। এ ছাড়াও নিজের ফেসবুক ওয়ালে বাবার জন্য বি পজেটিভ প্লাজমার জন্য আবেদন করে পোস্টও দিয়েছিলেন শাহেদ। তিনি ওই কর্মীকে জানিয়ে ছিলেন ইউনাইটেড হাসপাতালে তার বাবা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সূত্র : বিবিসি, মানবজমিন, পাবলিক ভয়েস।