ক্রিকেটার না হলে আমি রেলে চাকরি করতাম : ফরহাদ রেজা

ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন জাতীয় দলের হয়ে ৩৪টি ওয়ানডে আর ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা ফরহাদ রেজা ।

প্রশ্ন: কিভাবে ক্রিকেটার হলেন?

ফরহাদ রেজা: আসলে আমার পরিবার কখনওই চায়নি আমি ক্রিকেটার বা খেলোয়াড় হই। বলতে পারেন আমি লুকিয়ে লুকিয়ে খেলতাম। পাড়ায় টেপ টেনিস বলে খেলতাম। রাজশাহীর শিরোয়েল কলোনিতে পাড়ার বড় ভাইদের সঙ্গে খেলতাম। ২০০০ সালে শিরোয়েল সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি (মানবিকে) পাস করেছি।

মূলত এসএসসি পাস করার পরই ক্রিকেটে সেভাবে মনযোগ দেয়া। তার আগে খেলার জন্য পরিবার থেকে অনুমতি পাইনি। আমাদের শিরোয়েল কলনিতে আল -রশিদ নামে একটা ক্রিকেট অ্যাকাডেমি ছিল, সেই একাডেমিতে থেকেই ক্রিকেট খেলা শুরু করি। ওই ক্লাবটা সাদি ভাই নামে একজন চালাতেন। তার মাধ্যমেই আমি দ্বিতীয় বিভাগ এবং ইয়াং প্যাগাসাস ক্লাবের হয়ে ২০০৪ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগ পাই। ক্যারিয়ার শুরুর দিকে ক্রিকেটার হওয়ার জন্য আমাকে শানু স্যার অনেক প্র্যাকটিস করিয়েছেন।

ওই বছরই আমি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার হই, আমার ঠিক মনে নেই হয়ত ২৬ উইকেট শিকার করেছিলাম। ওই বছরই প্রথম শ্রেণির ম্যাচে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ২০০৪-২০০৫ সালে এইচপির হয়ে সাকিব-তামিম-মুশফিক-সোহরাওয়ার্দি শুভ, শামসুর রহমান শুভ, রকিবুল হাসান ও মার্শাল আইয়ুবদের সঙ্গে শ্রীলংকা সফরে গিয়ে পাঁচটি ওয়ানডে আর মনে হয় দুটি চার দিনে ম্যাচ খেলেছিলাম। সেই সফরে আমার পারফরম্যান্স ভালো ছিল। একটা ম্যাচে আমরা ওদের হারিয়ে ছিলাম।

শ্রীলংকা সফরে থাকা অবস্থাই খালেদ মাহমুদ সুজন ভাই আমাকে ঢাকা থেকে ফোন দিয়ে ওনার সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ডিওএইচএসে খেলার প্রস্তাব দিয়ে রাখেন। ওই বছর আমরা ঢাকা লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। আমাদের সেই ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের হয়ে খেলেছিলান আকরাম ভাই, সুজন ভাই, এনামুল হক মনি ভাই, শাহাজাদা, নাজিমুদ্দিন। ওই সময়ের সেরা ক্রিকেটারাই ওল্ড ডিওএইচএসে ছিলেন। ওটাই ছিল আমার ক্যারিয়ারের বাঁক বদলের টুর্নামেন্ট।

প্রশ্ন: কার হাত ধরে ক্রিকেটে আপনার হাতেখড়ি?

ফরহাদ রেজা: রাজশাহীর টিটু ভাই, সাদ ভাই, শানু স্যারের মাধ্যমে আমার ক্রিকেটার হয়ে ওঠা। তারাই আমাকে প্রাথমিকভাবে ক্রিকেটার হতে উৎসাহ যোগান এবং ক্রিকেটে সাফল্য পেতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় আসার পর খালেদ মাহমুদ সুজন ভাই আর বাবুল (মিজানুর রহমান বাবুল) স্যার আমাকে অনেক হেল্প করেছেন। বাবুল স্যারতো আমার কোচ ছিলেন। সুজন ভাইয়ের সঙ্গে খেলেছি, তিনি নিজেও অলরাউন্ডার ছিলেন যে কারণে আমাকে খুব ভালো বুঝতেন। ওনার কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েছি।

প্রশ্ন: কখন মনে হল ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেয়া যায়?

ফরহাদ রেজা: ২০০৪ সালের পর থেকেই মনে হয়েছে ক্রিকেটে পেশা হিসেবে নেয়া যায়। আমার বাবা (আমজাদ হোসেন), মা (ফাতেমা বেগম) দু’জনই রাজশাহী রেলওয়েতে চাকরি করেন। ওনারা চাচ্ছিলেন না আমি প্লেয়ার হই। তবে এসএসসি পাস করার পর বাবা-মা আমাকে খেলতে আর বারণ করেননি। তারা বলেছেন তুমি নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নেও কি করবে।

প্রশ্ন: ক্রিকেটার না হলে কী হতেন?

ফরহাদ রেজা: আমার বাবা-মা আর একমাত্র বোন (আনজুআরা) তিনিও রেলে চাকরি করেন। রেলেই আমার বড় হওয়া। ক্রিকেটার না হলে হয়ত আমিও রেলে চাকরি করতাম।