আল্লাহর সামনে একদিন দাঁড়াতে হবে এবং সব কর্মকা’ণ্ডের হিসাব দিতে হবে

আল্লাহর সামনে একদিন দাঁড়াতে হবে এবং সব কর্মকা’ণ্ডের হিসাব দিতে হবে- এই ভয়ে গু’নাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর হু’কুম মোতাবেক জীবনকে পরিচালিত করা। শুধু ভ’য় করার নাম তাকওয়া নয়। ভ’য়ের সাথে সাথে ভ’য়ের আছারাত ও ফলাফলও জীবনে প্রকাশ পেতে হবে। আল্লাহ তাআলা প্রথমে তাকওয়া অর্জনের কথা বলেছেন। তারপর বলেছেন, প্রত্যেক মানুষ যেন অবশ্যই ভেবে দেখে আগামীকালের জন্যে সে কী জমা করেছে। এই দুনিয়ার জীবনটা হল আজকের দিন।

আর আগামীকাল হল, মৃ’ত্যুর পর। কিয়ামতের ভ’য়াব’হতা এত বেশী হবে যে, দুনিয়ার জীবনটাকে মনে হবে এক সকাল বা এক বিকাল, বা তার চেয়েও কম। দুনিয়ার জীবন হল আযান ও ইকামতের পর নামায শুরু হতে যে সময়টুকু তার সমান। দেখ, জন্মের পরপরই তো তোমার জীবনের আযান-একামত হয়ে গেল। এখন নামাজ হওয়া বাকী। সেই নামাজ হবে তোমার মৃ’ত্যুর পর। এই আযান ও নামাজের মাঝের সময়টুকু তোমার জীবন।

এই আয়াতে বলা হয়েছে, আখেরাতের জীবনের জন্যে কী পাঠিয়েছি তা যেন চিন্তা করি। একে ‘মুহাসাবা’ বলে। ইসলাম বিভিন্ন আমল ফরয করেছে। ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয কাজ হল, এই ‘মুহাসাবা’। আমার কী করা দরকার ছিল, আমি কী করেছি? আমার কী করার কথা ছিল না, কিন্তু কতটুকু বেঁ’চে থেকেছি? নিজের কাছ থেকে নিজে এই হিসাব নেওয়া।

যদি নেক কাজ করে থাকি তাহলে আল্লাহর শোকর আদায় করা। আর যদি গুনাহের কাজ হয়ে থাকে তাহলে ইস্তেগফার করা। গুনাহের কাজ থেকে যত দ্রুত সম্ভব বের হয়ে আসার চেষ্টা করা। যদি অনেক গুনাহের কাজ হয় এবং সবগুলো একসাথে পরিত্যাগ করা সম্ভব না হয় তাহলে কিছু কিছু করে পর্যায়ক্রমে গুনাহের কাজ থেকে বেরিয়ে আসা। এভাবে ঈমানী হালত এবং আমলী হালতের খোঁ’জ-খবর নেওয়া। এই খোঁ’জ-খবর নেওয়াটা ফরজ।

ঈমানী হালত এবং আমলী হালতের খোঁ’জ-খবর না নেওয়া অনেক বড় গুনাহ। এটা হল নিজের অবস্থার খোঁ’জ-খবর নেওয়া। যদি আত্মীয়-স্বজনের খোঁ’জ-খবর নেওয়া ফরয হয়ে থাকে তাহলে নিজের খোঁ’জ-খবর নেওয়া তো আরো বড় ফরয। আমাদের কাছে নেক কাজের কোনো আকৃতি নেই। নামায, রোযা, হজ্ব যাকাত ইত্যাদি কোনো নেক কাজেরই কোনো আকৃতি আমাদের সামনে নেই।

কিন্তু আল্লাহর কাছে প্রতিটি নেক কাজেরই একটি আকৃতি আছে। কিয়ামতের ময়দানে মানুষ সে আকৃতিসহ তাদের কৃতকর্মগুলো দেখতে পাবে। ছোট বড় সবকিছুই দেখতে পাবে। আল্লাহ তাআলা আমল করার তাওফীক দান করুন।