হিরো আলম ও সেফুদাকে ক্ষমা করে দিলেন অনন্ত জলিল!

আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমকে নিয়ে ছবি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। এ জন্য হিরো আলমকে ৫০ হাজার টাকা সাইনিং মানিও দিয়েছিলেন অনন্ত। তবে ‘চারিত্রিক বৈশিষ্টের কারণে’ হিরো আলমকে ছবি থেকে বাদ দেন অনন্ত জলিল। পরে হিরো আলম এক ভিডিও বার্তায় তাকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।

এদিকে, হিরো আলমকে ছবি থেকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে ভি’ডিও প্রকাশ করেছেন বিত’র্কিত প্রবাসী সেফাতুল্লাহ ওরফে সেফুদা। যা অনন্ত জলিলেরও নজরে আসে। এবার এই দু’জনকে নিয়ে আরও একটি ভি’ডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন অনন্ত জলিল। ভি’ডিওবার্তার শুরুতেই অনন্ত কেন হিরো আলমকে ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে সে প্রসঙ্গে আবারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কেন হিরো আলমকে ছবি থেকে বাদ দিলাম। আপনার দেখেছেন, আমি হিরো আলম ও জায়েদ খানের সঙ্গে মিটমাট করে দিয়েছি। তাদেরকে আমি সোনারগাঁতে নিয়ে লাঞ্চ করাই। তারা আমাকে কথা দিয়েছিল, এই বিষয় নিয়ে আর কোনো কথা বলবে না।

কিন্তু তারপরও আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি, হিরো আলম সেইম টপিক নিয়ে কথা বলছে। এই বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারিনি।‘ তিনি বলেন, ‘হিরো আলমের বোঝা উচিৎ ছিল যে, অনন্ত জলিল কে? অনন্ত জলিলের সমাজে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা আছে। আমি ব্যক্তি স্বার্থে তাদেরকে মিটমাট করে দেইনি। তারা কেউই আমার আত্মীয় না। সবাই ভালোভাবে, একসঙ্গে কাজ করবে এটাই কাম্য।’

অনন্ত জলিল বলেন, ‘মিটমাট করার পরও হিরো আলম এই বিষয়ে একটি ভি’ডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন। আর ক্যাপশনে সে লিখেছে, ‘‘অনন্ত জলিল আমাকে ইউজ করেছে।’’ হিরো আলম তুমি কী বোঝো ইউজ কাকে বলে? তোমার পাশে যদি কোনো এডুকেটেড পারসন থাকত তাহলে তোমাকে অক্ষরে অক্ষরে বুঝিয়ে দিতে পারত, ইউজ করা কাকে বলে।’

হিরো আলমের উদ্দেশে অনন্ত বলেন, ‘তোমাকে আমার অফিসে এনে আমার পাশে বসিয়ে লাঞ্চ করিয়েছি। আমার মেক-আপ আর্টিস্ট মনিরকে দিয়ে তোমার মেক-আপ করিয়েছি। মেক-আপ করার সময় আমি বারবার মনিরকে বলেছি, ওর মেক-আপ যেন ভালো লাগে, স্ক্রিন যেন ব্রাইট হয়। প্রত্যেকটা ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ডের পণ্য দিয়ে মেক-আপ করেছি। আমার পাশে বসিয়ে টক-শো করেছি।’

তিনি বলেন, ‘একদিন মেশার পরই অনন্ত জলিল তোমার জন্য যা করেছে, গত ৫ বছরে তোমার জন্য তা কেউ করেছে কি-না তা আমার জানা নেই। যখন তোমার একটা অশ্লীল ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে বেরিয়েছে, আমি আমার মিডিয়া ম্যানেজারকে বলেছি, ওকে ফোন করে বলো, এখন থেকে সাবধানে চলতে। দুইদিনের পরিচয়ে আমি তোমাকে সু-বুদ্ধি দিয়েছি, কু-বুদ্ধি নয়।’

ভি’ডিও’র এক পর্যায়ে সেফুদাকে হিরো আলমের শুভাকা’ঙ্ক্ষী উল্লেখ করে অনন্ত জলিল বলেন, ‘গতকাল তোমাকে ছবি থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে সেফুদা অনেকগুলো আপত্তিকর কথা বলেছে। কিন্তু আমি যখন তোমাকে ছবিতে সাইন করিয়েছি, কই তখন তো প্রশংসা করে একটা ভি’ডিওবার্তা সে দেয়নি। যদি সে তোমার শুভা’কাঙ্ক্ষী হয়ে থাকে তাহলে সে তোমার সুখে হাসবে, তোমার দুঃখে কাঁদবে। সেফুদা সাহেব তো সবাইকে বলেন অশিক্ষিত, গরীব, ছোটলোক। সেফুদা অনেক বড়লোক। সে তো অনেক টাকার মালিক। কই সে তো তোমাকে নিয়ে একটা ছবি ইনভেস্ট করতে পারল না।’

অনন্ত জলিল আরও বলেন, ‘উনি সবাইকে গালাগালি করেন। উনি ঠিক একইভাবে আমাকেও অশিক্ষিত, গরীব, ছোটলোক বলেছেন। সেফুদা সাহেব আমার বিষয়ে যা বলেছেন, তার কোনোটাই সত্য নয়। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি অশিক্ষিত’’, অথচ ২০০১ সালে আমি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ কমপ্লিট করি। তিনি বলেছেন, ‘আমি গরিব’, এজেআই (অনন্ত জলিল ইন্ডাস্ট্রিজ) গ্রুপ ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি আমাদের ফ্যামিলি বিজনেস। এতে ১১ হাজার লোক কাজ করে। এই কোম্পানি রান করতে প্রতি মাসে ১৭-১৮ কোটি টাকা খরচ হয়। তিনি বলেছেন ‘আমি গরিব, ছোটলোক।’ বাংলাদেশে এই পর্যন্ত ৯ বার আমি সিআইপি হয়েছি। বর্তমানেও সিআইপি আমি।’

সবশেষে অনন্ত বলেন, ‘আপনি আল্লাহর কাছে তওবা করেন। আপনি আল্লাহর কাছে বলেন, হে আল্লাহ আমি মানুষের সম্পর্কে না জেনে যে কটূ’ক্তি করেছি, তা থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন। পৃথিবী কয়দিনের। আপনাকে একজন স্যান্ডেল দিয়ে পেটানোর কথা বলেছেন। আমার জানা মতে, আপনাকে দোয়া করার কেউ নেই। আপনার পরিবারের কেউ যদি বাংলাদেশে থাকে তাহলে তাদের জিজ্ঞাস করবেন, আমি যে কথাগুলো বলেছি তা ঠিক কিনা। সেফুদা সাহেব আপনার অনেক বয়স হয়েছে।

আজ আমি আপনার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি। আল্লাহ যেন আপনাকে ক্ষমা দেন। আমি ক্ষমা করতে শিখেছি। আপনাদের দুজনকেই আমি ক্ষমা করে দিলাম।’ সবশেষে সেফুদার ভি’ডিও দেখা থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন এই চিত্রনায়ক।