বাংলাদেশে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হবে এবার : জাতিসংঘ

বাংলাদেশে ৩২ বছর পর এবারের বন্যা সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। দেশে বন্যার পানির পরিমাণ যেভাবে বাড়ছে তা আগামী মাসের আগে কমার সম্ভাবনাও কম। জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান এফেয়ার্সের (ওসিএইচএ) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়। ওসিএইচএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশের ১৮টি জেলার ২৪ লাখেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ৫৬ হাজার মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে।

এ পর্যন্ত বন্যার প্রভাবে দেশে অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ বাড়িঘর এ বছর বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ও বাঁধের মতো বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ভুক্তভোগীদের জরুরি খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ সুবিধা, নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য কিট, জরুরি আশ্রয়ের মতো বিষয়গুলোতে সরকারকে সহায়তা করছে জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তাকারীরা।

সংস্থাটির সেন্ট্রাল ইমারজেন্সি রেসপন্স ফান্ড (সিইআরএফ) সম্প্রতি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য প্রাথমিকভাবে ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের তহবিল দিয়েছে। গত ১১ জুলাই থেকে এ তহবিলের মাধ্যমে অংশীদারদের সহায়তায় দুর্গতদের কৃষিজাত সরঞ্জাম সুরক্ষায় সিলযোগ্য ড্রাম সরবরাহ, স্বাস্থ্য ও পরিচছন্নতা উপকরণ, নগদ অর্থ বিতরণের মতো প্রাথমিক সাহায্য দেয়া হচ্ছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আ’ম্ফান পরবর্তী পুনরু’দ্ধার প্রতিক্রিয়া এবং তার সঙ্গে করোনাভাই’রাস মহামারির কারণে বন্যায় সহায়তা ও পুনরু’দ্ধার চেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৮৮ সালের বন্যা সবচেয়ে মারা’ত্মক ও ক্ষয়ক্ষতিময় প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেই বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে হওয়া বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা। স্থানভেদে ১৫ থেকে ২০ দিন এ দুরবস্থা স্থায়ী ছিল।