সৌম্যর ‘৫৯’ ও লিটনের ‘১৬’ নম্বর জার্সির পিছনে লুকোনো গল্প

জার্সি নম্বর কি সত্যিই শুধু একটি সংখ্যা? না এর পিছনেও লুকিয়ে থাকতে পারে মজার কিংবা আবেগময় কোনো গল্প? কথা প্রসঙ্গে মাঝেমধ্যে এরকম প্রশ্ন হঠাৎ করেই চলে আসে। কিন্তু সত্যি সত্যিই ক্রিকেটাররা তাদের পছন্দ অনুযায়ী জার্সি নম্বর বাছাই করতে পারেন কিনা – সেদিন এক সাক্ষাতকারে এরকম প্রশ্ন করা হয়েছিল জাতীয় দলের দুই তরুণ প্রাণ – লিটন দাস ও সৌম্য সরকারকে। উত্তরে তাঁরা জানালেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজেদের ইচ্ছামতো জার্সি নম্বর নিতে পারেন তারা। তাছাড়া অনেক সময় এই নম্বরের মাধ্যমে কোনো বিশেষ স্মৃতিকেও নাকি স্মরণে রাখতে চান তাঁরা।

লিটন জানালেন, ক্রিকেট বলে খেলা প্রথম ইনিংসকে স্মরণীয় করে রাখতে সেবারের রান সংখ্যাকে জার্সি নম্বরে রূপ দিতে চেয়েছিলেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে এই ‘২’ নম্বর জার্সিতেই খেলতেন তিনি। তবে বিপিএল এবং জাতীয় দলে পা রাখার পর সেই নম্বরটিকে আর ব্যবহার করতে পারলেন না তিনি। কারণটাও অবশ্য সবার জানা। দলের সফলতম অধিনায়ক, মাশরাফি বিন মর্তুজাও যে একই নম্বরে শুরু থেকে প্রায় সবসময় খেলে আসছেন।

এরপর কি হলো, সেটা নাহয় লিটনের মুখেই শুনে নেওয়া যাক, ‘যখন আমি প্রথম ঘরোয়া ক্রিকেট খেলি, আমার জার্সি নম্বর ছিল ০২। এর পেছনে একটা কারণ ছিল। কারণটা হলো, যখন আমি ক্রিকেট বলে প্রথম ম্যাচ খেলি, দুই রান করেছিলাম। তাই আমি এটাকেই জার্সি নম্বর হিসেবে পছন্দ করি। পরে বিপিএলে সুযোগ পাওয়ার পর আমি তখন মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কোনটা নেব। তিনি আমাকে বলেন, আমার যা পছন্দ। তারপর বিপিএলে আমি ১৯ নম্বর নেই। পরে সিদ্ধান্ত নেই, যেহেতু আমার জন্মদিন ১৬ তারিখ, জার্সি নম্বরও ১৬ নেব। সেটাই এখন পর্যন্ত আছে। যতদিন ক্রিকেট খেলব, এটাই থাকবে।’

তবে সৌম্যর জার্সি নম্বরের গল্পটা একটু অন্যরকম। বিকেএসপির এই কৃতি ছাত্র জার্সি নম্বর নির্ধারণ করেছেন বিকেএসপির ক্রেডিট নম্বরের আদলে। তাঁর ভাষায়, ‘বিকেএসপিতে আমার ক্রেডিট নম্বর ছিল ৪৫৯। কিন্তু জার্সিতে তিন ডিজিট রাখা কঠিন। তাই আমি ৪ বাদ দেই। শুধু শেষ দুই ডিজিট রাখি। এজন্যই আমার জার্সি নম্বর ৫৯।’