শ্রীলংকার বিপক্ষে বোনাস হিসেবে টেস্ট সিরিজের পর তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ

শ্রীলংকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ পিছিয়ে যাওয়া থেকে কিছুটা লাভবান হয়েছে বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পাশাপাশি তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। আরএইচ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আগামী অক্টোবরে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। ঈদের পরেই আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এমনই খবর দিয়েছে শ্রীলঙ্কার শীর্ষ দৈনিক।

পাশাপাশি তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা সফরে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচে স্বাগতিক দেশের কোনো দল থাকবে না। বাংলাদেশ জাতীয় দলের পাশাপাশি প্রায় একই সময়ে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াড দ্বীপরাষ্ট্রে সফর করবে। জাতীয় দলকে এইচপি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে মূল লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় দুই বোর্ড সিরিজটি নিয়ে আলোচনা করছে। বিসিবির আশা শিগগিরই দুই সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হতে পারে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এখানে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এজন্য দেশের বাইরে সফর করতে আমরা আলোচনা করছি। বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর যত দ্রুত সম্ভব নিশ্চিত করতে চাই আমরা। যদি শ্রীলঙ্কা সফর চূড়ান্ত হয় তাহলে আমাদের পুনরায় মাঠে নামার সুযোগ হবে।’

কলম্বোয় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী অ্যাশলে ডি সিলভা বলেন, ‘আমরা অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশকে আতিথ্য দিতে চাই। শিগগিরই আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসবো।’ সিরিজ খেলার আগে দুই দলের ক্রিকেটারদেরই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন মেনে থাকতে হবে। এজন্য বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা সফর করলে সেখানে প্রস্তুতি ম্যাচে দল দিতে পারবে না তারা। তাই তিনদিনের ম্যাচে বিদেশ ভূঁইয়ে নিজেদের চেনা খেলোয়াড়দের সামলে প্রস্তুতি নিতে হবে মুমিনুল, মুশফিকদের।

ইতিমধ্যেই মাঠে ক্রিকেট ফিরাতে স্বল্পপরিসরে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ধারণা করা হচ্ছে এদের পরে বড় পরিসরের কন্ডিশনিং ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের। ঈদুল আজহার বিরতির পর আবারো নিজেদের ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করবে ক্রিকেটাররা এবং পরের পর্বে আরও কিছু ক্রিকেটারের যোগ দেয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের এক কর্মকর্তা।

যদি অনুশীলনের জন্য খেলোয়াড় সংখ্যা বাড়ে, তবে গ্রুপ ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে পারে বিসিবি। প্রতিটি গ্রুপে প্রাথমিকভাবে অল্প সংখ্যক খেলোয়াড় থাকতে পারে। একই সাথে অক্টোবরে শ্রীলংকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরুর করার চিন্তা করছে বিসিবি। ঈদের বিরতির পর আগামী ৮ আগস্ট থেকে শুরু হবে ক্রিকেটারদের অনুশীলন।

বিসিবির নেয়া কড়া প্রোটোকলের মাঝে প্রথম পর্বে দেশের সর্বমোট ১৪ জন ক্রিকেটার বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুশীলন করেছিল। স্টেডিয়ামে অনুশীলন করার জন্য নিজেরাই আগ্রহ প্রকাশ করে ক্রিকেটাররা। প্রাথমিকভাবে ১৯ জুলাই থেকে নয়জন খেলোয়াড়কে নিয়ে অনুশীলনের ব্যবস্থা করে বিসিবি। তারা চারটি ভেন্যুতে ব্যক্তিগত অনুশীলনের ব্যবস্থা করে। ভেন্যুগুলো হলো- ঢাকা, সিলেট, খুলনা ও চট্টগ্রাম।

পরবর্তীতে নাজমুল হোসেন শান্তর অনুশীলনের জন্য রাজশাহীকে ভেন্যু হিসেবে যোগ করে বিসিবি। এর আগে, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিথুন, শফিউল ইসলাম, ইমরুল কায়েস, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান রানা মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরু করেন। পরবর্তীতে সেখানে যোগ দেন এনামুল হক বিজয়।

অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ, মেহেদী হাসান ও উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান অনুশীলন করেন খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেন পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও স্পিনার নাসুম আহমেদ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছেন অফ-স্পিনার নাঈম হাসান।