অনন্য দৃষ্টান্ত, ১৪২০ ভাগ করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হলো মাংস

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বৈলাজান গ্রামের মানুষের কাছে ঈদুল আজহার আনন্দ যেন একটু অন্যরকম। শতবছরের পুরনো রীতি অনুযায়ী এই গ্রামের বাসিন্দারা একইসঙ্গে পশু কোরবানি করেন। এতে একই স্থানে শত শত পশু কোরবানির পর ৩ ভাগের এক অংশ সমবণ্টন করা হয় সবার মধ্যে। এ যেন অনন্য দৃষ্টান্ত!

দেশের বৃহত্তম এই কোরবানি মাঠে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাংস তৈরি ও বণ্টনের কাজ চলে। এবার ১৭৫টি গরু, ৯৫টি ছাগল ও কয়েকটি ভেড়া কোরবানি দেয়া হয়। কোরবানির ৩ ভাগের এক ভাগ জমা দিতে হয় পঞ্চায়েত কমিটির কাছে। দায়িত্বে থাকা কমিটির লোকজন এক হাজার ৪২০ ভাগ করে বাড়ি বাড়ি মাংস পৌঁছে দেন।

পুটিজানা ইউপি চেয়ারম্যান ময়েজ উদ্দিন তরফদার জানান, এই কোরবানি মাঠে আমার বাপ-দাদারা কোরবানি করেছেন। আমরাও কোরবানি করছি। পবিত্র কোরবানির যে মূল উদ্দেশ্য ত্যাগ, সেটিকে মাথায় রেখে প্রতিবছর কোরবানির ঈদের সময় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।

শত বছররে এই ঐতিহ্যই বৈলাজান গ্রামের মানুষে মানুষে সৃষ্টি করেছে ভ্রাতৃত্বের অন্যরকম এক সেতুবন্ধন। আর এমন রেওয়াজের কারণেই, গ্রামের সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট রয়েছে বলে মনে করেন সেখানকার বাসিন্দারা।