সবসময় যে দোয়ায় আল্লাহর রহমত নাজিল হয়

মানুষের প্রতি মহান আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ অফুরন্ত। তার দয়া বা অনুগ্রহে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা কারো নেই। আল্লাহ তাআলার ঘোষণাও এমনই। আল্লাহ বলেন-

مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِن رَّحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهُ مِن بَعْدِهِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
‘মানুষের প্রতি আল্লাহ কোনো করুণা করলে কেউ তা নিবারণকারী (ফেরাবার) নেই। আর তিনি যা নিবারণ করেন তা তিনি ছাড়া অন্য কেউ তার প্রেরণকারী নেই। আর তিনি মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা ফাতির : আয়াত ২)

আল্লাহর অনুগ্রহে বাধা দেয়ার কেউ নেই। আল্লাহ তাআলার রহমত বা অনুগ্রহের দরজা যে মানুষের জন্য সব সময় খোলা তা এ আয়াতে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মানুষের যে কোনো চাওয়া-পাওয়ার আবেদন সরাসরি আল্লাহর কাছে করতে দেরি, তা কবুল বা নাজিল হতে দেরি হয় না।

তাই মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহর কাছে সব সময় তার রহমত কামনা করা। যেভাবে রহমত কামনা করতে শিখিয়েছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- اَللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَ لَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنكَ الْجَدِّ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা মানিআ লিমা আত্বাইতা, ওয়া লা মুত্বিয়া লিমা মানাতা, ওয়া লা ইয়াংফায়ু জাল ঝাদ্দি মিনকাল ঝাদ্দি। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি যা দানের ইচ্ছা কর, তা কেউ প্রতিরোধ করতে পারে না এবং তুমি যাতে বাধা দাও, তাও কেউ প্রদান করতে পারে না এবং কোনো সম্পদশালীর সম্পদ তোমার কাছে তাকে রক্ষা করতে পারে না।’

আল্লাহ তাআলা যেখানে কুরআনুল কারিমে আয়াত নাজিল করে বান্দাকে অভয় দিচ্ছেন যে, তিনি যাকে দান করেন, তার দানে কেউ বাধা দিতে পারে না। তাহলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা, অনুগ্রহ কামনা করায় প্রতিবন্ধকতা কোথায়?

আর তার কাছে রহমত কামনায়ও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বান্দাকে শিখিয়েছেন গুণগানসহ দোয়া। যা আল্লাহর রহমত লাভে বান্দার জন্য যথাযথ কার্যকরী আমল। মুমিন মুসলমান এ দোয়াটি প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে তাওহিদের ঘোষণার পর পড়ে থাকেন। হাদিসের নির্দেশনাও এমন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার অনুগ্রহে সিক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন। মুমিন মুসলমানকে দুনিয়া ও পরকালে যাবতীয় সফলতা লাভে তার রহমতের চাদরে ঢেকে রাখুন। আমিন।