হাত জীবা’ণুমুক্ত করে ঘুষ নেওয়া সেই ওসিকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’

করোনাভাই’রাস সংক্র’মণের ভয়ে হাত জীবা’ণুমুক্ত করে ঘু’ষ গ্রহণের ভি’ডিও ভাই’রাল হওয়া লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলমকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া ওসিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে ঢাকায় পদায়ন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা।

জানা গেছে, সম্প্রতি একটি পারিবারিক মা’মলায় বাদীপক্ষকে ফাঁ’সাতে আসা’মিপক্ষকে পরামর্শ ও মা’মলা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ১০ হাজার টাকা ঘু’ষ গ্রহণ করেন ওসি মাহফুজ। এ টাকা গ্রহণ করার আগে ওসি মাহফুজ নিজে এবং ঘু’ষদাতার হাত জীবা’ণুমুক্ত করেন। এমন একটি ভি’ডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাই’রাল হয়। পরে সেই খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) আতিকুল ইসলাম।

অবশেষে আজ ওসি মাহফুজকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে পদায়ন করে একটি চিঠি আসে জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরে। ফাঁ’স হওয়া ভি’ডিওতে দেখা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কয়েকজন লোক একটি পরিবারিক মা’মলার আসা’মিপক্ষ থানার ওসি মাহফুজ আলমের কাছে এসেছেন। তারা ওসির কাছে মা’মলাটির বাদীকে হয়রানি করার কৌশল জানতে এসেছেন। কৌশল হিসেবে ওসির পরামর্শ মোতাবেক তারা মা’মলাটির বাদীর বিরু’দ্ধে একটি অভিযোগপত্র ও ১০ হাজার টাকা নিয়ে এসেছেন।

অভিযোগটি নিয়মিত মা’মলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে ওসিকে দিতে হবে ১০ হাজার টাকা। এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তাকে আরও দুই হাজার টাকা দিতে বলেন ওসি। ভি’ডিওতে ওসি মাহফুজ বলেন, ‘তোমাদের বাদীর তো জামিন হয় নাই। জামিন না হতেই থানায় হাজির হয়ে এজাহার দেওয়া হলে তো বেআইনি হবে। জামিনের কাগজসহ এসো, অভিযোগটি মা’মলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। মা’মলা না হওয়া পর্যন্ত কোনো ঝামেলা করা যাবে না। ঝামেলা হলে তোমরা প্যাঁচে পড়ে যাবে।’

এ সময় ওই লোকদের একজন বলেন, ‘আমরা ঝামেলা করি নাই, করব না। প্রয়োজনে ওদিকে (বাদীর এলাকায়) কেউ যাব না।’ এরপর ওসি মাহফুজ বলেন, ‘মামলা এখানে একটা করে দিবো, কো’র্টেও একটা মা’মলা করবা এবং চেক ডিজঅনার করবে। এভাবে ঘুরবে (আঙ্গুল ঘুড়িয়ে দিখিয়ে দেন), চড়কির মতো ঘুরবে। যারা বুদ্ধিদাতা তারা হেরে যাবে। তোমাকে ঠা’ণ্ডা মা’থায় করতে হবে। গরম করা যাবে না।’

ওই লোক তখন বলেন, ‘আস্তে আস্তে করতে হবে। একটা একটা করে।’ এরপর ওই ব্যক্তি বলেন, ‘স্যার টাকা আজকে দিবো, নাকি মামলার দিন?’ জবাবে ওসি বলেন, ‘সেটা তোমাদের ব্যাপার।’ ওই ব্যক্তি বলেন, ‘স্যার, আপনাকে কমিটমেন্ট করতে হবে। যেদিন মা’মলা হবে সেই দিনই আসামি ধরতে হবে।’

ওসি জানতে চান, ‘আসামিরা পুরুষ তো?’

এরপর ওসি মাহফুজের নিয়মানুযায়ী টাকা লেনদেনের জন্য ঘু’ষ প্রদানকারীকে টাকা বের করার আগে হাত জীবা’ণুমুক্ত করতে স্যানিটাইজার নিতে হবে। তাই ওই ব্যক্তি বলেন, ‘স্যার, স্যানিটাইজারটা একটু দেন।’ এরপর ওসি মাহফুজ কাজ ফেলে স্যানিটাইজার দিয়ে নিজেও হাত ধুয়ে নেন এবং টাকা প্রদানকারীর হাতেও স্যানিটাইজার দেন।

এ সময় ওই ব্যক্তি বলেন, ‘স্যার, টাকা থেকেও করোনা ছড়ায়। তদন্ত কর্মকর্তাকে আগে এক হাজার টাকা দিয়েছি স্যার।’ এরপর ওসির কাছে আসা ব্যক্তি পকেট থেকে টাকা বের করে টেবিলে রাখলে ওসি মাহফুজ আলম তা গ্রহণ করে প্যান্টের পকেটে রাখেন। ওসি মাহফুজ তখন বলেন, ‘টাকা দিয়ে বেশি ছড়াচ্ছে। এখানে কত টাকা দিয়েছ?’

জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘১০ হাজার আছে, স্যার।’ ওসি বলেন, ‘ওহ, ঠিক আছে। ওকে (মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে) আরও দুই হাজার টাকা দিও।’

সূত্র: আমাদের সময়।