মালয়েশিয়ায় মিললো ডাইনোসরের পায়ের ছাপ!

১৪ কোটি বছর আগে বিশাল গ্রহাণুর আ’ঘাতে ধ্বং’স হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে রাজত্ব করেছে ডাইনোসর প্রজাতি। সরীসৃপ জাতীয় এ প্রাণীটিকে নিয়ে মানুষের কৌতূহলের কোনো শেষ নেই। এদের নিয়ে লেখা হয়েছে নানা কল্প-কাহিনী, নির্মিত হয়েছে সিনেমাও। এবার মালয়েশিয়ার কাতালন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক ডাইনোসরের সাতটি পায়ের ছাপ খুঁজে পেয়েছেন। কাতালনের তানাহ মেরাহের বুকিত পানাও নামক স্থানে তারা এসব ছাপ খুঁজে পেয়েছেন।

তাদের ধারণা, ছাপগুলো সৌরপড প্রজাতির ডাইনোসরের। অনুমান করা হচ্ছে, এগুলো ১ লক্ষ ৪৫ হাজার থেকে ৬৬ মিলিয়ন বছরের আগের হতে পারে। এই জীবাশ্ম আবিষ্কারক গবেষক দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাতালান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের প্রভাষক আরহাম মোকতার আছমাদ বাহার। দলটির অন্য সদস্যরা হলেন, প্রফেসর সুরোনো মারতোসুইতো, প্রফেসর উদি হারটোনো ও মোহাম্মদ সায়াকির সোলাইমান।

গবেষকদের দলনেতা আরহাম মোকতার বলেন, আমরা ২০১৭ সালে জীবাশ্ম আবিষ্কারের গবেষণাটি শুরু করেছি। সহকর্মীদের সহযোগিতায় আমরা সৌরপদ প্রজাতির ডাইনোসরদের পায়ের ছাপ ও চলাচলের রাস্তা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি। গত ১০ ও ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ট্রিপিক্যাল রিসোর্সেস এন্ড সাসটেইনেবল সাইন্সেস (সিটিআরইএসএস) ২.০ কনফারেন্সে এই আবিষ্কারের উপর ‘দ্য সৌরপড ডাইনোসর ট্র্যাকওয়ে ফ্রম তানাহ মেরাহ, কাতালন’ শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছি।

আরহাম মোকতার বলেন, আমাদের এই আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রমানিত হয় কাতালনের তামাহ মেরাহতে অন্তত ১৬০ থেকে ১৬৬ মিলিয়ন বছর পূর্বে ডাইনসররা বাস করতো। তিনি আরো বলেন, সাতটি পায়ের ছাপ পাওয়া সৌরপড প্রজাতির যে ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে সেটি একটি চার পা বিশিষ্ট ভেষজজীবী সরীসৃপ।

জীবাশ্মগুলো দেখে ধারণা করা যায়, এগুলো নয় মিটার লম্বা ও ৩০ থেকে ৪০ টন ওজনের কোন বিশালকায় প্রাণীর। এই প্রজাতির ডাইনোসর পৃথিবীর সব থেকে বড় প্রজাতির ডাইনোসর হিসেবেও পরিচিত।

আরহাম মোকতার বলেন, আবিষ্কারটি ইউএমকে’র জন্য একটি অর্থবহ সাফল্য। বিশেষত ভূ-বিজ্ঞান বিভাগের জন্য যেখানে ডাইনোসরদের জীবন নিয়ে গবেষণা করা হয়। গবেষকরা ১০ হাজার ঘন্টার বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান করে ছাপগুলো খুঁজে পেয়ছেন। পাশাপাশি, জাপানের ডাইনোসর ওয়ার্ল্ডের বিশেষজ্ঞরাও ছাপগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন।

আরহাম মোকতার বলেন, এর আগেও অনেক ভূতাত্ত্বিক ভৌগলিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে বুকিত পানাওতে ডাইনোসরগুলির অস্তিত্বও আছে বলে ধারণা করেছিলেন। যেগুলো দক্ষিণ থাইল্যান্ডের কিছু অঞ্চলে ডাইনোসরের জীবাশ্মের মিল থাকতে পারে।

আরহাম মোকতার আশা করেন, তাদের গবেষণাটি চলমান থাকবে। কেননা তার বিশ্বাস, বুকিতে হয়তো আরো বেশ কিছু ডাইনসরের জীবাশ্ম রয়েছে।

সূত্র : বারনামা, সময় নিউজ।