ষোলোডা বছর বেটা বাড়ি আসে না

‘সবাই তো চাকরি করে, ঈদ উৎসবে বউ-ছেলেপেলে নিয়ে বাড়ি আসে, আনন্দ করে। আজ ষোলোডা বছর কেটে গেল, বেটা আমার বাড়ি আসে না।’ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামে নিজের ঘরের দাওয়ায় বসে বুকচাপা এমন দুঃখের কথা বললেন একমাত্র ছেলেকে হারানো হাসিনা বেগম। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ভ’য়াবহ গ্রে’নেড হা’মলায় নি’হত হন তৎকালীন বিরো’ধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার দেহরক্ষী মাহাবুব রশীদ।

মাহাবুবের মা ৭৫ বছর বয়সী হাসিনা বেগম ছেলের মৃ’ত্যুবার্ষিকী সামনে এলেই ছবিটি বুকে চেপে ধরে রাখেন, তার চোখ ভিজে যায়। হাসিনা বেগমের এখন একটাই চাওয়া- মৃ’ত্যুর আগে যেন ছেলের হ’ত্যাকারীদের ফাঁ’সিতে ঝুলিয়ে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্যকর করা হয়। ফ্রেমে বাঁধানো ছেলের ছবিটি মুছতে মুছতে হাসিনা বেগম জানালেন, মাহাবুবের বাবাও বয়সের ভারে ন্যুব্জ। নিজের শারী’রিক অবস্থাও বেশি ভালো নয়। এখন আর বেশি ভাবতে পারেন না। বুকের মধ্যে কেমন ধড়ফড় করে।

নি’হত ছেলের স্ত্রী প্রতিমুহূর্তেই তাদের খোঁজখবর নেয়। বৃদ্ধা জানালেন, এখন মাহাবুবের দুই ছেলেকে নিয়েই তার বড় স্বপ্ন। তারা বড় হয়ে বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে। হাসিনা বেগমের চাওয়াও সামান্য। ছেলের সমাধিস্থলটি সংরক্ষণ ও কব’রস্থানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা যেন করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এই করোনাতেও কেউ তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ায়নি। সরকারি সহায়তাও পাননি। উল্টো স্থানীয় নেতারা তার পরিবারকে রাজাকারের পরিবার বলে অপ’বাদ দেন। এ নিয়ে তিনি অনেক ক’ষ্ট পান, কিন্তু কোনো প্রতি’বাদ করেন না।

এবারও ছেলে মাহাবুবের মৃ’ত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাড়িতে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। হাসিনা বেগম বলেন, প্রতি মাসে কল্যাণ ফান্ড থেকে যে টাকা দেওয়া হয়, তা দিয়ে দু’জনের সংসার চলতে চায় না। বাড়িতে গরু আছে। সেই গরুর দুধ বিক্রি করেন। তা থেকে কিছু টাকা জমে। সেই টাকায় ছেলের মৃ’ত্যুবার্ষিকী পালন করবেন তারা।

সূত্র: সমকাল।