করোনার মধ্যেও চালিয়ে যেতে হবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড : প্রধানমন্ত্রী

করোনার মধ্যেও উন্নয়ন কর্মকা’ণ্ড চালিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, করোনা যেদিকেই যাক না কেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন তিনি। একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভি’ডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে সংযুক্ত হন। সংশ্নিষ্ট সচিবরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের সম্মেলন কেন্দ্র থেকে বৈঠকে যোগ দেন।

গত মার্চ থেকে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ২৪ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। লকডাউনের আওতায় আনা হয় বেশ কয়েকটি জেলা। এতে বড় বড় প্রকল্পসহ অনেক প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ব্যহত হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা কমিশন থেকে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ফ্রিল্যান্সিং পেশায় যারা আছেন তারা অনেক বেশি আয় করলেও তাদের স্বীকৃতি নেই। পরিচয়পত্রসহ তাদের সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তরুণদের বিদেশি ভাষা শেখারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি। শুধু বাংলা বা ইংরেজি জানলে হবে না। সঙ্গে ফ্রান্স, জার্মান ও চায়নিজ ভাষা শিখতে হবে। তাহলে বেশি ফ্রিল্যান্সিং কাজ পেতে সুবিধা হবে। প্রায় স্থবির হয়ে পড়া সিনেমা শিল্প রক্ষায় হল মালিকদের সহায়তায় বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, কোনো হল মালিক যদি ব্যবসা উন্নয়ন করতে চান তাহলে তাকে ঋণ দিতে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের গবেষণার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেকে গতকাল মোট পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন হয়। এসব প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে এক হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব জোগান। বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল ৮২ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেবে। বিদেশি ঋণ ৮৮৮ কোটি ৫৩ লাখ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনুদান ১১৪ কোটি টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত), মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প, ডিপিসিসির আওতাধীন এলাকায় উপকেন্দ্র নির্মাণ ও পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ক্যাপাসিটর ব্যাংক স্থাপন এবং স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থার প্রবর্তন প্রকল্প, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রচার কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প এবং শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (১১টি) প্রকল্প।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। দুটি প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন :বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেছেন।

প্রতিবেদন দুটি হলো- ‘বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১’ এবং ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট :বাংলাদেশ অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২০’। প্রধানমন্ত্রী গতকাল একনেক বৈঠকের শুরুতে প্রতিবেদন দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

সূত্র: সমকাল।