‘মুশফিকুর রহিমের মত পরিশ্রমী ক্রিকেটার দেখেননি নিল ম্যাকেঞ্জি’

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তিন নম্বর ব্যাটিং পজিশন এ একাধিক ক্রিকেটারকে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। মাহমুদুল্লাহ, সাব্বির রহমান, ইমরুল কায়েস,সৌম্য সরকার সহ আরো কিছু ক্রিকেটার ব্যর্থ হলে তখন বাংলাদেশ দলের তিন নম্বর ব্যাটিং পজিশন এর দায়িত্ব নেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

ব্যাটিং পজিশন নম্বর পরিবর্তন করে দারুণ উন্নতি করেছেন সাকিব আল হাসান। তিন নম্বরে ব্যাট হাতে সাকিব কতটা দুর্দান্ত, তা গত বিশ্বকাপেই প্রমাণ করেছেন। ৮ ইনিংসে ২টি সেঞ্চুরি ও ৫টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৬০৬ রান করেছেন তিনি।

ব্যাটিং গড় ছিল- ৮৬.৫৭। বিশ্বকাপের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন সাকিব। তিন নম্বর ব্যাটিং পজিশন ইন সাকিব-আল-হাসান দুর্দান্ত বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য টাইগারদের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সড়ে দাঁড়ানোর দক্ষিণ আফ্রিকার নিল ম্যাকেঞ্জি।

ক্রিকেটের একটি ওয়েবসাইটে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘আমি মনে করি তিন নম্বরে দুর্দান্ত সাকিব। তার মতো খেলোয়াড়ের সব সময় ইতিবাচক মানসিকতা থাকে। তিন নম্বর একটি বিশেষ জায়গা এবং ব্যাটিং করার জন্যও ভালো। আমি মনে করি সে এই সুযোগটা নিতে চেয়েছিল এবং নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছিল।

আমার মনে হয়, সে কৌশলে এক-দুটি পরিবর্তন এনেছিল যা তার মাপের খেলোয়াড়দের জন্য খুবই সহজ। কৌশলগত সহায়তা না পেলেও অভিজ্ঞতার কারণে মানসিকতা এবং সামর্থ্য দিয়ে যেকোনো উপায়, খুঁজে বের করে ফেলতে পারে সাকিব। বিশ্বকাপে মানসিকতা এবং কৌশলগত দক্ষতা তাকে ভালো একটি অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল। এভাবেই সে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং তার কিছু ইনিংস দুর্দান্ত ছিল।’

তাই ম্যাকেঞ্জি মনে করেন, তিন নম্বরে ব্যাট করার জন্য যোগ্য। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তিন নম্বরে ব্যাট করার জন্য সে যোগ্য ব্যাটসম্যান এবং সে ব্যাটিং লাইনআপে যেকোনো জায়গায় ব্যাট করতে পারে। তিন নম্বরে সে ব্যাটিংয়ের জন্য বেশি সময় পায় এবং ভালো শট খেলতে পারে।

সাকিব বড় মাপের হিটার নয়, কিন্তু তার টাইমিং দারুন এবং স্কিলড হিটার। হাশিম আমলার মতো সাকিবও ভালো বোলারদের বিপক্ষে ভালো ব্যাটিং করতে পারে। সে ভালো বলেও চার মারতে পারে এবং যা বোলারকে চাপে ফেলে দেয়। পরিস্থিতি খুব ভালো বুঝতে পারে। দলের সেরা ব্যাটসম্যান যদি তিন নম্বরে খেলে, এটা বাংলাদেশের জন্য প্লাস পয়েন্ট।’

ম্যাকেঞ্জি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি না এটা প্রয়োজন ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আমি মনে করি এটি শুধু ব্যক্তিগত প্রস্তুতি। আপনি জানেন তামিম ও মুশফিকের মত ক্রিকেটাররা সম্ভবত এসবের সাথেই থাকেন। তারা অনেক বেশিই প্রশিক্ষণ নেয়, এটা ভালো দিক।’

তামিম সম্পর্কে ৪৪ বছর বয়সী এই প্রোটিয়া আরও যোগ করেন, ‘তামিম শুধু ভালো অনুভব করার জন্য প্রচুর ট্রেনিং করে, সে জানে কখন ভালো ব্যাটিং করবে, তার কি প্রয়োজন, কত বল হিট করতে হবে। সুতরাং সে নিজের খেলা বোঝার দিক থেকে সত্যি অসাধারণ।’

এদিকে মুশফিকের পরিশ্রমের কথা অজানা নয় কারোরই। টাইগারদের সদ্য বিদায়ী ব্যাটিং কোচ যোগ করলেন কতটা স্মার্টলি সেটি করে মিস্টার ডিপেন্ডেবল, ‘আমি মনে করি মুশফিকের মত একজন শুধু কাজই ভালোবাসে। সে প্রচুর পরিশ্রম করে আর সেটা স্মার্টলি। আমি তাকে কখনোই কড়া মেজাজে যেতে দেখিনি। সে সবসময় এমনভাবে ট্রেনিং করে যেখানে নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চায়। আর এটি একজন কোচের জন্য স্বপ্ন।’

‘প্রতিটি ক্রিকেটার নূন্যতম এক শতাংশ হলেও উন্নতির চেষ্টা করছিল, আপনি জানেন এটা একটা আদর্শ পরিস্থিতি। আমি মনে করি ঐ ছেলেদের বড় ব্যাপার হল তাদের প্রস্তুতি। তারা পরদিন কিংবা পরের সিরিজে কাদের বিপক্ষে খেলবে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে চায়।’