ওসি প্রদীপসহ তিন আসা’মি জবানবন্দি দিতে নারাজ

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হ’ত্যা মা’মলায় টেকনাফ থা’নার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে তৃতীয় দ’ফায় তিন দিনের রিমা’ন্ড মঞ্জুর করেছেন আদা’লত। দ্বিতীয় দ’ফায় চার দিনের রিমা’ন্ড শেষে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে তাদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টেকনাফ-৩ আদা’লতে হাজির করা হয়। এ সময় মাম’লার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে চার দিনের রিমা’ন্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

শুনানি শেষে বিচারক তামান্না ফারাহ তিন দিনের রিমা’ন্ড মঞ্জুর করেন। পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আসা’মিদের র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। একটি সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ১১ দিনের রিমা’ন্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও প্রদীপসহ প্রধান তিন আসা’মি এখনও স্বীকারো’ক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হচ্ছেন না। তারা একেক সময় একেক কথা বলছেন। কিছু প্রশ্নের জবাবে তারা কৌশলী উত্তর দিচ্ছেন। কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে তারা দীর্ঘ সময়ও নিচ্ছেন। বিশেষ করে লিয়াকত গু’লির কারণ নিয়ে এরই মধ্যে তিন ধরনের ব্যা’খ্যা দিয়েছেন।

জানা গেছে, এরই মধ্যে সিনহা হ’ত্যা মাম’লায় এপিবিএনের যে তিন সদস্য জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের বক্তব্যে ঘটনার সময় লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলালের ভূমিকার বিষয় উঠে আসে। তিনজনই বলেছেন, সিনহার ঘটনা প্রতি’হত করার মতো অবস্থা তাদের ছিল না। চোখের সামনে যা দেখেছেন, তা-ই জবানবন্দিতে তুলে ধরেছেন এপিবিএনের তিন সদস্য। এদিকে তদন্ত কার্যক্রম তদারক ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেছেন তিনি।

এদিকে আসা’মিদের ফের রিমা’ন্ডের বিরো’ধিতা করে জামিন আবেদন করেন চট্টগ্রাম থেকে আসা একদল আইনজীবী। বিচারক তাদের আবেদন নাক’চ করে দেন। মা’মলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রে’ক্ষিতে ২৪ আগস্ট ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশের দ্বিতীয় দফায় চার দিন করে রি’মান্ড মঞ্জুর করেছিলেন একই আ’দালত। তার আগে আসা’মিদের সাত দিনের রিমা’ন্ড শেষ হয়। শুক্রবার বিকেলে ওসি প্রদীপসহ তিন আ’সামিকে আদা’লতে তুলে রি’মান্ড আবেদন করা হলে আসা’মিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরো’ধিতা করেন।

আ’সামিপক্ষের আইনজীবী দলের প্রধান আহসানুল হক হেনা সাংবাদিকদের বলেন, আই’ন মতে, একটি মাম’লায় একজন আসা’মিকে সর্বোচ্চ ১৫ দিন রিমা’ন্ডে নেওয়া যায়। তার মক্কেল প্রদীপ কুমারসহ অন্যদের ৬ আগস্ট থেকে ২২ দিন ধরে র‌্যাব হেফাজতে রাখা হয়েছে। এরপর তৃতীয় দফায় আবারও তিন দিন রিমা’ন্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। সিআরপিসিতে স্পষ্ট বলা আছে, সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত পুলিশ কাস্ট’ডিতে রাখা যাবে। তারা শিগগির উচ্চ আদা’লতের শরণাপন্ন হবেন।

আহসানুল হক আদা’লতের দৃষ্টি আ’কর্ষণ করে বলেন, ইতোমধ্যে দুই দফায় ১১ দিন রিমা’ন্ডে নিয়ে নি’র্যাতন করে ওসি প্রদীপের হাত-পা ভে’ঙে দেওয়া হয়েছে। তাই তৃতীয় দফায় রিমা’ন্ডের প্রয়োজন নেই। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা নির্যা’তনের অভি’যোগ প্রত্যা’খ্যান করে আদা’লতকে বলেন, রিমা’ন্ডে নিয়ে প্রদীপের হাত-পা ভে’ঙে দিলে তিনি আদা’লতের কাঠগ’ড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন কীভাবে?

আদা’লতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে আসা’মিপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, সিনহাকে ওসি প্রদীপ গু’লি করেননি। ঘটনার সময় ওসি প্রদীপ ৩২ কিলোমিটার দূরে থা’নায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনা শুনে ওসি প্রদীপ ঘটনাস্থলে না গেলে তো বলা হতো যে, তিনি দায়িত্ব পালন করেননি। গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফে পুলিশের গু’লিতে নি’হত হন মেজর (অব.) সিনহা। ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদা’লতে হ’ত্যা মা’মলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

এতে প্রদীপসহ পুলিশের ৯ জনকে আসা’মি করা হয়। মাম’লায় এ পর্যন্ত পুলিশের সাতজন, এপিবিএনের তিনজন এবং স্থানীয় তিন বাসিন্দা গ্রে’প্তার হয়েছেন।

সূত্র: সমকাল।