মেয়ে আয়রা’কে বুকের মধ্যে নিয়ে গান গেয়ে ঘুম পাড়াচ্ছেন সৃজিত

আইরা মিথিলার প্রথম পক্ষের মেয়ে। কিন্তু ১০ বছরের আইরা তার নতুন বাবারও নয়নের মণি। মেয়েকে প্রচণ্ড ভালবাসেন সৃজিত। করোনা ভাইরাসের থাবা, লকডাউনের ভ্রুকুটি , দুই দেশের সীমান্ত…প্রতিকূলতা… পরিস্থিতি যতই নিষ্ঠুর হোক না কেন, ভালবাসার শক্তির কাছে সবই তুচ্ছ… সেটাই আরেকবার প্রমাণ করেছেন বাংলার পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী, বাংলাদেশের অভিনেত্রী, সমাজকর্মী, আধ্যাপিকা রাফিয়াত রশিদ মিথিলা।

সব বাধা-বিপ’ত্তির ঊর্ধে ভালবাসারই জয় হয়েছে… ভালবাসাই মিলিয়ে দিয়েছে সৃজিত-মিথিলাকে। ১৫ অগাস্ট, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিন বাংলাদেশের সীমান্ত পার করে স্বামীর কাছে ফিরে এসেছেন মিথিলা। নিজেই এই সুখবর সোশ্যাল মি’ডিয়ায় জানিয়েছিলেন সৃজিত। লিখেন, ”১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট বহু মানুষ ঘৃণার কারণে সীমান্ত পার করেছিলেন। ২০২০-র ১৫ অগাস্ট দু’জন মানুষ ভালবাসার জন্য সীমান্ত পার করলেন।”

পো’স্টের সঙ্গে পেট্রাপোল সীমান্ত পার করে মিথিলা ও মেয়ে আয়রাকে এ’দেশে নিয়ে আসার বেশ কয়েকটি ছবিও পো’স্ট করেন সৃজিত। আয়রা মিথিলার প্রথম পক্ষের মেয়ে। কিন্তু বছরের দশেকের আয়রা তার নতুন বাবারও নয়নের মণি। মেয়েকে প্রচণ্ড ভালবাসেন সৃজিত। লকডাউনে বাবা-মেয়েতে ভিডিও কল চলত, কিন্তু বাবার বুকের উপর আরামে, নিশ্চিন্তে মুখ গুঁজে নেওয়াটা হত না। এখন আর সে সবে বাধা নেই।

আয়রা’কে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছেন সৃজিত। সেই ছবিই পো’স্ট করলন পরিচালক মশাই। লিখলেন, ‘‘গান তুমি হও আমার মেয়ের ঘুমিয়ে পড়া মুখ।’’ গতবছর ৬ ডিসেম্বর সাতপাকে বাঁধা পড়েন সৃজিত ও মিথিলা। সুইৎজারল্যান্ডে মধুচ’ন্দ্রিমা সেরে মেয়ে আইরাকে নিয়ে বাংলাদেশ যান মিথিলা। পরবর্তী ‘কাকাবাবু’ সিরিজের শ্যুটিং করতে সৃজিতও পাড়ি দেন আফ্রিকা।

এরমধ্যেই জারি হয়ে যায় লকডাউন। সৃজিত কলকাতা ফিরলেন, কিন্তু দুইয়ের মাঝে কাঁটা হয়ে দাঁড়াল লকডাউন, মিথিলা ফিরতে পারলেন না এ’দেশে। দীর্ঘ সময় আলাদাই থাকতে হয় নবদ’ম্পতিকে। অবশেষে ভালবাসারই জয়… ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিনই সীমান্ত পেরিয়ে স্বামীর কাছে ফিরে এসেছেন মিথিলা ও আয়রা।-নিউজ১৮।