লাদাখে চীনা সৈন্যরা সীমান্ত ল’ঙ্ঘন করেছে বলে ভারতের অভিযোগ

ভারত অভিযোগ করছে যে সম্প্রতি শান্তি আলোচনার সমঝোতা ভ’ঙ্গ করে চীন আবারও সীমান্ত ল’ঙ্ঘন করেছে। ভারত বলছে, লাদাখ অঞ্চলে যে স্থিতাব’স্থা রয়েছে তা বদলে দেয়ার উদ্দেশ্যে চীন ‘উসকা’নিমূলক সামরিক তৎপ’রতা’ চালিয়েছে। গত জুন মাসে দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘা’তে ভারতের অন্তত ২০ জন সৈন্য নি’হত হয়। চীনের তরফে অবশ্য হতা’হতের কোন সংখ্যা দেশটি প্রকাশ করেনি।

এই দুই পরমাণু শ’ক্তিধর দেশ সীমান্ত অতি’ক্রম করা এবং লড়াই করার জন্য পরস্পরের বিরু’দ্ধে অভিযোগ করেছে। তবে সীমা’ন্তের ‘স্ট্যাটাস কো’ বা স্থিতাব’স্থা ভ’ঙ্গ করার অভিযোগ চীন অস্বী’কার করছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, “চীনা সীমান্তর’ক্ষীরা বরাবরই ‘অ্যাকচুয়াল লাইন অব কন্ট্রোল’ বা প্রকৃত সীমান্ত রেখা মেনে চলেছে। এবং তারা সেই রেখা কখনই অতি’ক্রম করেনি।

তিনি বলেন, “সীমা’ন্তের ভূখ’ণ্ড নিয়ে দুই দেশের সীমান্তর’ক্ষী বাহিনী যোগাযোগ বজায় রাখছে।” তবে দিল্লির সরকার জানাচ্ছে, ২৯শে অগাস্ট রাতে ‘প্যানগং সো লেক-এর দক্ষিণ উপকুলে’ চীনা বাহিনীর তৎপর’তা ঠেকাতে ভারতীয় বাহিনী ‘আগাম পদক্ষেপ’ নেয়।ভারত একই সঙ্গে বলেছে যে শান্তি আলোচনার প্রতি তারা অঙ্গী’কারা’বদ্ধ। কিন্তু একই সাথে তারা আঞ্চলিক অখ’ণ্ডতা রক্ষা করার প্রশ্নে সংকল্পব’দ্ধ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের তরফ থেকে এ ধরণের প্রকা’শ্য বক্তব্যের অর্থ হলো চীন-ভারত সীমান্তে যে তুলনামূলক শা’ন্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা আবার ভ’ঙ্গ করা হয়েছে।

সীমান্তের দুই পাশে রণ হুংকার

এর আগে গালওয়ান উপত্যকায় র’ক্তক্ষ’য়ী সংঘ’র্ষের পর ভারতের সেনাবাহিনী লাইন অব অ্যাক’চুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি)-এ মোতায়েন সেনা কমা’ন্ডারদের যে কোনো ধরণের ‘পদ’ক্ষেপ নেয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা’ দিয়েছে বলে জুন মাসে খবর দেয় হিন্দু’স্তান টাইমস পত্রিকা। ঐ খবর অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমা’ন্ডারদের আর অ’স্ত্র ব্যবহার করায় কোনো নিষে’ধাজ্ঞা থাকবে না এবং তারা পরি’স্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। সেনাবাহিনীর সূত্রকে উ’দ্ধৃত করে পত্রিকাটি এই খবর প্রকাশ করেছে।

তারা দাবি করছে, ভারতের সেনাবাহিনী ‘রুলস অব এনগেজ’মেন্ট’ বা সংঘা’তের নিয়মে পরিবর্তন আনছে। গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সৈন্যদের মৃ’ত্যুর খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পর দেশটির বিরো’ধী দল প্রশ্ন তুলেছে যে কেন তাদের সৈন্যদের নির’স্ত্র অবস্থায় ঐ অঞ্চলে পাঠানো হলো।

এর জবাবে ভারত সরকার জানিয়েছে যে, সৈন্যদের কাছে অ’স্ত্র থাকলেও অ’স্ত্র না ব্যবহার করার শর্তে চীনের সাথে চুক্তি থাকার কারণে তারা সেগুলো ব্যবহার করেনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।