বার্সা চায় ৭০ কোটি, ভক্তরা মেসির জন্য জমাচ্ছে ৯০ কোটি ইউরো

৩৩ বছর বয়সের কোন ফুটবলারকে ৭০ কোটি ইউরো দূরের কথা এক কোটি ইউরো দিয়ে কোন ক্লাব নিতে চাইবে না। কিন্তু সে ফুটবলারটি যদি মেসির মতোন কেউ হন হয়তো আগ্রহী ক্লাবগুলোকে দুইবার ভাবতে হবে। ৭০ কোটি ইউরোর ট্রান্সফারের বিশ্ব রেকর্ড গড়ে মেসিকে দলে নেবে কি না। তার আগের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার রেকর্ড বার্সার আরেক ফুটবলার মেসি পরবর্তী সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। পিএসজি তাকে ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরোতে দলে ভিড়িয়েছিলো। এবার মেসিকে নেয়ার দৌড়ে রয়েছে কাতার ধনকুবের ক্লাবটি। আগে আরব আমিরাতের ধনকুবের ক্লাব মেনসিটিও। বার্সা ছাড়তে না চাইলে তাদের গুণতে হবে ৭০ কোটি ইউরো- বাংলাদেশী টাকায় ৭ হাজার কোটি টাকা!।

শেষ পর্যন্ত মেসির ভবিষ্যতে কী লেখা আছে, ক্লাবের সাথে বনিবনা হবে কি না তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না। তবে এত কিছুর পরও মেসির ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন বার্সেলোনার সাবেক সভাপতি হুয়ান গাসপার্ত। যার হাত ধরে মেসির বার্সার পথ চলা শুরু তিনিই প্রশ্ন তুলেছেন- মেসি কেন বার্সেলোনা ছাড়তে চান? ২০০০ সালের জুলাই থেকে ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বার্সেলোনার সভাপতির দায়িত্ব পালন করা গাসপার্তের পরামর্শ, ক্লাবের দায়িত্বশীলদের উচিত হবে মেসিকে এই মৌসুমে তাঁর রিলিজ ক্লজের ১ ইউরো কমেও বিক্রি না করা।

তিনি বলেন, ‘মেসি ক্লাব ছাড়তে পারে না! যেতে হলে তাকে ২০২১ সালেই যেতে হবে। আমি চুক্তিটা দেখেছি, সেখানে সব পরিষ্কার করেই লেখা আছে। চুক্তির ওই শর্তটার মেয়াদ জুন মাসেই শেষ হয়ে গেছে, সেটিকে এখন আর কাজে লাগানো যাবে না। মেসি সে পরিকল্পনা করলে ভুল করবে। মৌসুম জুন মাসে শেষ হয়েছে। আমি বরং ওকে এখন ৭০ কোটি ইউরোর কমে ছাড়ার চেয়ে আগামী মৌসুমে ফ্রি-তে ছেড়ে দিতে রাজি।’

ক্লাবের ইতিহাসের সেরা ফুটবলারকে বার্সা সহজে ছাড়তে চাইবে না, এটি খুবই স্বাভাবিক। মেসির চুক্তিতে দশ মাস এখনো বাকি আছে। চুক্তিতে অবশ্য শর্ত অনুযায়ী যদি মেসি চান কোনো মৌসুমের শেষে ‘ফ্রি ট্রান্সফারে’ ক্লাব ছাড়তে পারবেন। এ চাওয়া পুরণ করতে ক্লাব মৌসুম শেষ হওয়ার আগে জানাতে হবে। চলতি মৌসুম ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী জুনে শেষ ধরলে মেসির সিদ্ধান্ত জুনের আগেই জানাতে হতো। কিন্তু করোনাভাই’রাস এর কারণে মৌসুম শেষ হচ্ছে আগস্টে। সে কারণে মেসি এখন সিদ্ধান্তের কথা জানালেও বার্সা তা মানতে রাজি নয়। তাঁকে বিনা মূল্যে ছাড়বে না বার্সা। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে মেসির ট্রান্সফার আদা’লত পর্যন্ত গড়াতে পারে।

কোনো ক্লাব মেসিকে নিতে চাইলে মেসিকে তাঁর ‘রিলিজ ক্লজে’র ৭০ কোটি ইউরো দিয়ে নিতে হবে, এমনটাই মত বার্সার। তবে ৩৩ বছর বয়সী একজনের জন্য ৭০ কোটি তো অসম্ভব। সে ক্ষেত্রে মেসিকে থাকতে রাজি করাতে না পারলে তাঁর জন্য অন্তত নেইমারের দলবদলের ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরোর চেয়ে বেশি চায় বার্সা।

তবে গাসপার্ত চান, এমন কোনো সিদ্ধান্তই না হোক। মেসিকে চুক্তির পুরোটা মানতে বাধ্য করুক বার্সা, তা-ই চাওয়া তাঁর। রেডিও মার্কাতে গাসপার্ত বলেছেন, ‘মেসি ক্লাব ছাড়তে পারে না! যেতে হলে ২০২১ সালে যাবে। আমি চুক্তিটা দেখেছি, সেখানে সব পরিষ্কার করেই লেখা আছে। চুক্তির ওই শর্তটার মেয়াদ জুন মাসেই শেষ হয়ে গেছে, সেটিকে এখন আর কাজে লাগানো যাবে না। আমি বরং ওকে এখন ৭০ কোটি ইউরোর কমে ছাড়ার চেয়ে আগামী মৌসুমে ফ্রি-তে ছেড়ে দিতে রাজি।’

মেসি নন, বার্সেলোনারই হাতে পরিস্থিতির রাশ থাকবে, তা-ই চান বার্সার সাবেক সভাপতি, ‘এখানে ক্লাবই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে, খেলোয়াড় নয়। ক্লাব খেলোয়াড়কে বেতন তো দিচ্ছেই! আর এখানে টাকা পয়সাও মূল ব্যাপার নয়, এখানে একটা চুক্তি আছে, সেটাই বড় কথা।’ গাসপার্তের সময়েই বার্সেলোনার একাডেমিতে মেসির প্রথম পা ফেলা। এমন একজনের প্রতি ভালোবাসা গাসপার্তের আছেই, তবে এখানে ক্লাবই তাঁর কাছে বড় বলে দাবি করলেন, ‘আমি মেসিকে অনেক ভালোবাসি, কিন্তু বার্সেলোনাকে তার চেয়েও বেশি ভালোবাসি। কেউ ওকে চাইলে রিলিজ ক্লজের টাকা দিয়ে নিক।’

মেসিকে ক্লাবে নিয়ে আসা এবং লুইস ফিগোর আলোচিত দলবদল ঘটেছে গাসপার্ত সভাপতি থাকাকালীন সময়ে। তাঁর সময়েই বার্সেলোনা ছেড়ে লুইস ফিগোর রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। ফিগোকে রিয়াল নিয়ে গিয়েছিল রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করেই। গাসপার্ত বললেন, ‘লুইস ফিগোকে নিয়ে এক রাতে ওরা এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করে (রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করে) আমার কাছ থেকে নিয়ে গেছে। আমি রিভালদোকে একইভাবে এনেছি, কারণ আমি বার্সেলোনাকে ভালোবাসি। এখানেও (মেসির ক্ষেত্রে) ব্যাপারটা একই। চুক্তিতে রিলিজ ক্লজের অঙ্ক ৭০ কোটি ইউরো আর চুক্তি সই করাই হয় সেটি ঠিকভাবে পালন করার জন্য।’

মেসির ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের এই সময়ে তিনি সভাপতি থাকলে গাসপার্ত কি করতেন সেটিও বাতলে দিলেন, ‘বুঝতে পারছি ক্লাব ছাড়ার জন্য ওর ওপর অন্যরা চাপ দিচ্ছে, কিন্তু আমি এখন বার্সেলোনার সভাপতি থাকলে (মেসির দলবদলের জন্য) একটা ইউরো নিয়েও আলোচনা করতাম না। মেসি যদি ওর রিলিজ ক্লজের অঙ্কের চেয়ে এক ইউরো কমেও ক্লাব ছাড়ে সেটা ক্লাবের জন্য (বায়ার্ন মিউনিখের কাছে) ৮-২ হারের চেয়েও অপ’মানজনক হবে। মেসিরও এটা ভোলা উচিত নয় যে বার্সেলোনার সমর্থকেরা খেলোয়াড়ের চেয়ে ক্লাবকে বেশি ভালোবাসে। আর মেসি যদি আগামী বছর চলে যায়, সেটাও দু’র্ভাগ্যজনক হবে, ও ৩৪ বছর বয়সে ক্লাব ছাড়বে।’

মেসির সমালোচনা করে গাসপা’র্ত বলেন, ‘ও ক্লাব কেন ছাড়তে চাইছে, তা-ই বুঝতে পারছি না। কিছুটা বুঝতে পারছি, কারণ ফুটবল খেলোয়াড়দের এসব নাটক আমি খুব ভালোই জানি। আমরা সবাই চাই ও বার্সেলোনায় থাকুক। ও থাকতে চায় না? কী চলছে ওর মনে? ক্লাবের লাখো সমর্থক যে ওকে থাকতে অনুরোধ করছে সেটার দাম নেই? ও কি এটা মানে না যে আজ ও যেখানে, সেখানে আসতে বার্সেলোনাই ওকে সাহায্য করেছে?’

এবার মেসি ও বার্সা কে আগে থেকে সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে টেবিলে বসার আমন্ত্রণ জানান সেটি দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। সমঝোতা না হলে ক্লাবকে আদা’লত পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন এ সুপারস্টার