মসজিদে বি’স্ফো’রণে মৃ’তের সংখ্যা বেড়ে ১১

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বি’স্ফো’রণের ঘটনায় দ’গ্ধ ১১ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আ’হত অবস্থায় চি’কিৎসাধীন ২৬ জন এখনও আশ’ঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বি’স্ফো’রণের পর আজ শনিবার সকালে তাঁদের মৃ’ত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লা’স্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

আহ’ত প্রত্যেক আ’হত সরকারি খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া এক শিশুর মৃ’ত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লা’স্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন । ৭ বছরের ওই শিশুটির নাম জুয়েল বলে জানিয়েছেন তিনি। তার ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি। গতকাল এশার ফ’রজ নামাজ শেষে মুসল্লিদের অনেকে যখন সুন্নত নামাজ পড়ছিলেন সে সময়েই হ’ঠাৎ একযোগে বি’স্ফো’রণ ঘটে মসজিদের ছয়টি শীতাতপ নি’য়ন্ত্র’ণ য’ন্ত্র-এসিতে।

এর আগে থেকেই মসজিদে গ্যাসের পাইপ থেকে ছিদ্র দিয়ে গ্যা’স লিক করে আসার অভিযোগ ছিল। গন্ধ পাওয়া যেত গ্যাসের। অ’গ্নিকা’ণ্ড ও বি’স্ফো’রণের পর মুসল্লিদের মধ্যে আত’ঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়া’হুড়ি করে অনেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের আর্তচি’ৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে যায়। ততক্ষ’ণে বেশির ভাগ মুসল্লি দ’গ্ধ হন।নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাম জামে মসজিদে গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এই মর্মা’ন্তিক ঘটনা ঘটে।

দ’গ্ধ মুসল্লিদের বেশির ভাগেরই অবস্থা আশ’ঙ্কাজ’নক। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লা’স্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ৩৮ জনকে ভর্তি করা হয়। তাঁদের সবার অবস্থাই আশ’ঙ্কাজনক বলে জানিয়েছিলেন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। পরে তাদের মধ্যে ১১ জনের মৃ’ত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তিনি।

বার্ন অ্যান্ড প্লা’স্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, দ’গ্ধদের শরীরের ৬০-৭০ শতাংশ পু’ড়ে গেছে। জানা গেছে, মসজিদে ৪০ থেকে ৫০ জনের মতো মুসল্লি ছিলেন। ওই সময় মসজিদে বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ আসার পরপরই এসিতে বি’স্ফো’রণের ঘটনা ঘটে। এরপরই মসজিদে বিদ্যুৎ চলে যায়। স্থানীয় লোকজন জানায়, মুসল্লিরা আর্তচিৎ’কার করতে করতে মসজিদের বাইরে বের হন। মসজিদের আশপাশে সড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে তাঁরা গড়াগড়ি দিয়ে আ’গুন নেভানোর চেষ্টা করেন।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আরেফিন জানান, ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৯ জনকে উ’দ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর আগে স্থানীয় লোকজন বেশির ভাগ দ’গ্ধ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। দ’গ্ধদের অবস্থা এত খারাপ ছিল যে তাঁদের শরীরে হাত দেওয়া যাচ্ছিল না। নারায়ণগঞ্জ ১০০ শ’য্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চি’কিৎসক নাজমুল হোসেন জানান, রাত ৯টা থেকে একের পর এক দ’গ্ধ মুসল্লি আসছিলেন।

তাঁদের সবার নাম লিপিব’দ্ধ করা হয়নি। যাঁরা এসেছেন তাঁদের শরীরের ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ দ’গ্ধ হয়েছে। তাঁদের দ্রুত প্রাথমিক চি’কিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, যে ২০ থেকে ২৫ জন এসেছিলেন, তাঁদের কয়েকজনের শরীরে ৯৯ ভাগ পর্যন্ত দ’গ্ধ হয়েছে। মসজিদটি চারতলা। তিনতলা পর্যন্ত জামাত হয়। চারতলার কিছু অংশ মেস। ঘটনার পর সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বি’স্ফো’রণে সি’লিং ফ্যানগুলো বেঁকে গেছে। জানালার কাচ ভে’ঙে চূর্ণ-বিচূ’র্ণ হয়ে পড়েছে। মসজিদের মেসের ভাড়াটিয়া শাওন জানান, প্রচ’ণ্ড বি’স্ফোর’ণের শব্দে আগু’ন ও কালো ধোঁয়া চারতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

মসজিদের মেঝের নিচ দিয়ে গ্যাসের লাইন গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পানি ছিটানোর কারণে গ্যাসের বু’দ্বুদ্ বের হচ্ছিল। ফতুল্লা মডেল থা’নার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, গ্যাসের লিকেজের কারণে সম্ভবত এই বি’স্ফো’রণ। মসজিদটির নিচ দিয়ে তিতাস গ্যাসের লাইন আছে। আর পুরো মসজিদটি থাই গ্লাসে বদ্ধ থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

পরে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশর অ্যান্ড মেইনট্যানেন্স) লে. ক. জিল্লুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মসজিদটি থাই গ্লাসে আ’বদ্ধ ছিল। নিচ দিয়ে যাওয়া গ্যাসের পাইপের লিকেজ থেকে গ্যাস জমছিল। এই কারণে সম্ভবত বি’স্ফো’রণ ঘটেছে। সম্ভাব্য অন্যান্য কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সূত্র: কালের কণ্ঠ অনলাইন।