সালমান শাহ’র সুইসাইড নোটে যা লেখা ছিল

আমি চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার, পিতা-কমর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ১৪৬/৫, গ্রিন রোড, ঢাকা-১২১৫ ওরফে সালমান শাহ এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে আজ অথবা আজকের পরে যেকোনো দিন মৃ’ত্যু হলে তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে আমি আত্মহ’ত্যা করছি। এমনটিই লেখা ছিল বাংলা চলচ্চিত্রে ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহ’র সুইসাইড নোটে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহ’র মৃ’ত্যুর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেই সময় পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার জানান, দীর্ঘ তদন্তে সালমান শাহ’কে হ’ত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহের জেরে আ’ত্মহ’ত্যা করেছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে ২৫ বছর আগের সালমান শাহ’র লেখা সুইসাইড নোট তুলে ধরে পিবিআই।

সংবাদ সংম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, সেই সময়ের সুইসাইডাল নোট উ’দ্ধার করা হয়। আমরা সেটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। হ্যান্ড রাইটিং এক্স’পার্টকে আমরা সুইসাইড নোটটি দেখিয়েছি। উনি হাতের লেখা দেখে-তা সালমান শাহ’র বলে চিহ্নিত করেছেন।

তবে বিষয়টি অস্বী’কার করেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী। তিনি মানতে নারাজ ওটা সালমানের লেখা। নীলা চৌধুরী বলেছিলেন, আমরা ওকে ইমন নামেই ডাকতাম। অথচ চিঠিতে ইমন নামের কোনো অস্তি’ত্ব নেই। ও থাকে ইস্কাটনের বাসায়। কিন্তু ঠিকানা লেখা আছে আমাদের বাসার। সালমান শাহ নামটিও ঠিকানার পরে লেখা। কোনো ব্যক্তি আ’ত্মহ’ত্যা করার আগে এ রকম গুছিয়ে বাবার নাম, ঠিকানা উল্লেখ করে চিঠি লেখে বলে আমার জানা নেই।

১৯৯৬ সালের আজকের এই দিনে ক্ষ’ণজন্মা চিত্রনায়ক সালমান শাহ সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যান না ফেয়ার দেশে। মাত্র তিন বছর বড় পর্দায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন সালমান শাহ। এই অল্প সময়েই তিনি দর্শকদের হৃ’দয় জয় করে একের পর এক উপহার দিয়েছেন সুপারহিট সিনেমা। অভিনয় করেছেন মোট ২৭টি সিনেমায়।

দেশীয় সিনেমায় ধূমকেতু হয়েই যেন ধরা দিয়েছিলেন সালমান শাহ। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে পা রাখেন তিনি। একই সিনেমায় অভিষেক ঘটে চিত্রনায়িকা মৌসুমীরও।-ডেইলি বাংলাদেশ