নামাজরত ব্যক্তির মৃ’ত্যু সৌভাগ্যের

ফাইল ছবি

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা: সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাম জামে মসজিদে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বি’স্ফো’রণের ঘটনা ঘটে। এতে নামাজরত অবস্থায় বেশ কয়েকজন মুসল্লি নি’হত হয়েছেন। বাকিরা আশ’ঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে আছেন হাসপাতালের বিছানায়। হৃ’দয়বিদারক এ ঘটনা পুরো দেশ নাড়িয়ে দিয়েছে। স্বজন হারানোর বেদনায় যেমন শোকে মুহ্যমান পরিবার ও স্বজনরা, তেমনি গোটা মুসলিম উম্মাহর হৃদ’য়ে হচ্ছে র’ক্তক্ষরণ।

ঘটনাটি সবাইকে স্তম্ভিত করেছে। স্ত’ম্ভিত হওয়ারই কথা, মুসলমানরা যে মুসলমানদের চির আপন। এক দে’হের মতো। তবে সান্ত্বনার কথা হলো, যাঁরাই এই ঘটনায় আক্রা’ন্ত হয়েছেন, তাঁরা অত্যন্ত ভাগ্যবান। ইনশাআল্লাহ, তাঁরা মহান আল্লাহর কাছে এর উত্তম প্রতিদান পাবেন। কেননা হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ভালো চান, তাকে ‘মধুময় করেন।’ কেউ রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল মধুময় করার মানে কী?’ আল্লাহর রাসুল বলেন, ‘মৃ’ত্যুর আগে তাকে ভালো কাজে লি’প্ত করেন এবং সে অবস্থায় তাকে মৃ’ত্যু দান করেন।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৭৪৩৮)

অর্থাৎ মহান আল্লাহ যার ভালো চান, তাকে মৃ’ত্যুর আগে হেদায়েত নসিব করেন। তাওবা নসিব করেন। সে পাপকাজ ত্যাগ করে আল্লাহর পথে ফিরে আসে এবং আমৃ’ত্যু সে নেক আমলের মাধ্যমেই জীবন অতিবা’হিত করে। মধু যেমন খাবারের স্বাদ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, তেমনি নেক আমল মানুষের জীবনকে মধুময় করে দেয়। পূত (পবিত্র) করে দেয়। সুখময় করে দেয়।

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যখন আল্লাহ কোনো মানুষের কল্যাণ চান তাকে পবিত্র করেন। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করেন, কিভাবে বান্দাকে পবিত্র করা হয়, রাসুল (সা.) বলেন, তার মনে ভালো কাজের উদ্রেক ঘটিয়ে তাকে ভালো কাজে লি’প্ত করা হয়, এবং সে অবস্থায় তার জান কবজ করা হয়। (তবরানি, হাদিস : ৭৯০০)। অর্থাৎ আল্লাহ যার ভালো চান তাকে এমন হেদায়েত নসিব করেন যে সে পাপমুক্ত পরিশুদ্ধ জীবনের সন্ধান পেয়ে যায়। আমৃ’ত্যু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হয়।

যাদের মৃ’ত্যুটা মহান আল্লাহ নামাজরত অবস্থায় দিলেন, তারা কতই ভাগ্যবান যে শে’ষনিঃশ্বাস ত্যাগ করার সময় তারা মহান আল্লাহর ইবাদতে মশগুল ছিল। ইবাদতে লি’প্ত থাকা অবস্থায় মৃ’ত্যু যে কতটা সৌভাগ্যের তা রাসুল (সা.)-এর আরো কিছু হাদিস দ্বা’রা বেশ স্প’ষ্ট হয়ে যায়। জাবির (রা.) বলেন, আমি নবী (সা.)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক বান্দা কিয়ামতের দিন ওই অবস্থায় উ’ত্থিত হবে, যে অবস্থায় সে মৃ’ত্যুবরণ করেছে। (মুসলিম, হাদিস : ৭১২৪)

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক (মুহরিম) ব্যক্তি (হজের জন্য ইহরাম বাঁধা অবস্থায়) মা’রা গেল। তখন নবী (সা.) (সাহাবাদের) বলেন, তাকে কুলপাতার পানি দ্বারা গোসল করাও এবং তার কাপড়েই তাকে কা’ফন দাও। তার মাথা ও মুখমণ্ডল ঢাকবে না। কেননা তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় ওঠানো হবে। (নাসায়ি, হাদিস : ২৭১৪)

সুবহানাল্লাহ! এই হাদিসগুলো দ্বারা আমরা বুঝতে পারি, নারায়ণগঞ্জের দু’র্ঘটনায় আমাদের যে মুমিন ভাইয়েরা ইন্তে’কাল করেছেন মহান আল্লাহ অবশ্যই তাঁদের শহীদি মর্যাদা দান করবেন। কারণ রাসুল (সা.) আগু’নে পুড়ে মৃ’তদের শহীদ বলে আখ্যা দিয়েছেন। জাবির বিন আতিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী (সা.) তাঁকে দেখতে আসেন। জাবের (রা.)-এর পরিবারের কেউ বলল, আমরা আশা করতাম যে সে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে মৃ’ত্যুবরণ করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তাহলে আমার উম্মতের শহীদের সংখ্যা তো খুব কম হয়ে যাবে।

আল্লাহর পথে নি’হত হলে শহীদ, মহামা’রিতে নি’হত হলে শহীদ, যে নারী গ’র্ভাবস্থায় মা’রা যায় সে শহীদ এবং পানিতে ডুবে, আ’গুনে পু’ড়ে ও ক্ষ’য়রোগে মৃ’ত্যুবরণকারী শহীদ। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৮০৩) মহান আল্লাহ ওই ঘটনায় নি’হতদের শাহাদাতের মর্যাদা দান করুন, আ’হতদের দ্রুত সুস্থতা দান করুন। তাঁদের পরিবারকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ অনলাইন।