ছেলের জন্য কান্না থামছেই না বৃদ্ধ বাবার

বার্ন ইউনিটে দ’গ্ধ ছেলের আ’র্তনাদ, হাসপাতালের বাইরে কান্না থামছেই না বাবার। ‘ও ইমামরে ইমাম, কবে ফিইরা আইবিরে বাজান’ এ বলেই সারাদিন হাসপাতালের সামনে বৃদ্ধ বাবার আহাজারি। শত চেষ্টা করেও তাকে শান্ত করতে পারেনি কেউ। রোববার রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থাপিত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লা’স্টিক সার্জা’রি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের সামনে এমন হৃ’দয়বিদারক দৃশ্য সবাইকে কাঁদিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বি’স্ফো’রণে দ’গ্ধ হয়ে হাসপাতালে চি’কিৎসাধীন রয়েছেন ইমাম হোসেন। তার জন্যই কাঁদছেন বাবা শেখ আলাউদ্দিন। বি’স্ফো’রণে ইমামের শরীরের ৯০ শতাংশের বেশি পু’ড়ে গেছে। তার অবস্থা বেশ আশ’ঙ্কাজনক। প্রত্য’ক্ষদর্শীরা জানান, ছেলের জন্য সারাদিনই হাসপাতালের গ্রিল ধরে কেঁদেছেন শেখ আলাউদ্দিন। তার আত্মীয়-স্বজনরা খাবার নিয়ে এলেও কোনো কিছুই মুখে দেননি তিনি। সারাদিন শুরু আহাজারি করেই যাচ্ছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে দেখা গেছে এমন অনেক হৃ’দয়বিদারক দৃশ্য। নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে দ’গ্ধদের স্বজনরা কেউ নফল নামাজ আদায় করছেন, কেউ দোয়া করছেন, আবার কেউ স্বজনের মৃ’ত্যু সংবাদ শুনে কান্নায় ভে’ঙে পড়ছেন। পুরো হাসপাতালে শুধুই কান্না-আহাজারির শব্দ। যেন তাদের সান্ত্বনা দেয়ার কেউ নেই।

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এসি বি’স্ফো’রণ হয়। মুহূর্তে মসজিদের ভেতরে থাকা ৩৭ জন দ’গ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লা’স্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মৃ’ত্যু হয়। বি’স্ফো’রণে প্রাণহানী ও দ’গ্ধের ঘটনায় শনিবার সকালে ফতুল্লা মডেল থা’নায় মা’মলা হয়েছে। এতে অবহেলাজনিত কারণে বি’স্ফো’রণের অভিযোগ আনা হয়েছে। মা’মলার বাদী হয়েছেন ফতুল্লা থা’নার এসআই হুমায়ুন।

এছাড়া বি’স্ফো’রণের ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন চারটি কমিটি গঠন করেছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকেই মসজিদে বি’স্ফো’রণ ঘটেছে।-ডেইলি বাংলাদেশ