এবার উইঘুর মুসলিমদের গণহ’ত্যার অভিযোগের তদন্ত করবে ব্রিটিশ ট্রাইব্যুনাল

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ মুসলমানের ওপর অমান’বিকভাবে নি’র্যাতন ও নিপী’ড়ন চালানো হচ্ছে। মুসলিমদের সংখ্যা কমানোর জন্য মুসলিম নারীদের জোরপূ’র্বক গ’র্ভপাত করানো, জোরপূ’র্বক জন্মনিয়’ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো, পবিত্র কোরআন নিষি’দ্ধ করা, ধর্মা’ন্তরিত করা, নারীদের ধ’র্ষণ, বন্দিশিবিরে আ’টকে রেখে নি’র্যাতন করা ইত্যাদি কর্মকা’ণ্ডের মাধ্যমে চীন সরকার প্রতিনিয়ত সংখ্যাল’ঘুদের মান’বাধিকার ল’ঙ্ঘন করে যাচ্ছে।

উইঘুর মুসলমানদের বিরু’দ্ধে চীন সরকারের করা নি’র্যাতন গণহ’ত্যা বা মানবতাবি’রোধী অপ’রাধ কি না তা খতিয়ে দেখতে লন্ডনে একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী বছরের বেশ কয়েকটি দিনের শুনানিতে নতুন প্রমাণ এবং সাক্ষ্য প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চীনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সর্বশেষ প্রচেষ্টা মূলত এটিই।

চীনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে স্বাধীন ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যারিস্টার জিওফ্রে নাইস। এর আগে তিনি বলকান যু’দ্ধ নিয়ে স্লোবোদান মিলোসেভিচের বিরু’দ্ধেও মা’মলা দায়ের করেছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদা’লতেও কাজ করেছেন। তিনিই ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসকে উইঘুর জনগণের বিরু’দ্ধে ‘নৃ’শংসতা ও সম্ভাব্য গণহ’ত্যা’ তদন্ত করতে বলেছিলেন।

নাইস বলেন, সম্ভাব্য গণহ’ত্যার বিষয়ে চীনের বিরু’দ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এমন প্রশ্ন তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত এবং তাদের উত্তর দেওয়া উচিত। তবে এ ধরনের দাবি কখনো জনসম’ক্ষে আইনিভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়নি।

স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল গঠনের আয়োজকরা প্রমাণ সংগ্রহের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী কয়েক মাস ধরে বিদেশে নির্বাসিত উইঘুরদের কাছ থেকে প্রচুর তথ্য পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। প্রমাণগুলোর মধ্যে জিনজিয়াংয়ের বন্দিশিবিরে জড়িত বেশ কয়েকজন সবেক নিরাপ’ত্তারক্ষীর সাক্ষ্যও থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ঘটনা নিয়ে লন্ড’নে অবস্থিত চীনা দূতাবাসকে মন্তব্য করার জন্য এপির পক্ষ থেকে ই-মেইল করা হলেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে সম্প্রতি লন্ডনে জাতিসং’ঘের কার্যালয়ের সামনে চীনের বিরু’দ্ধে প্রতি’বাদ জানিয়ে বিক্ষো’ভ করেছেন তিব্বতি ও উইঘুর সম্প্রদা’য়ের সদস্যরা। তিব্বত ও পূর্ব তুর্কিস্তানে চীনের ‘মানবতাবি’রোধী জঘ’ন্যতম অপ’রাধ’-এর নবম বার্ষিকী উপলক্ষে এই বিক্ষো’ভ করা হয়।

গত ২৯ আগস্ট যুক্তরাজ্যের তিব্বতি কমিউনিটি, ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস (ডাব্লিউইউসি) এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর তিব্বত ও নির্যা’তিত সংখ্যালঘুর (জিএটিপিএম) নেতৃত্বে এই প্রতি’বাদ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ’কারীদের হাতে ‘তিব্বত ও পূর্ব তুর্কিস্তানের বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক’, ‘উইঘুর মানুষদের বাঁচান’, ‘অভ্যন্তরীণ ক্যাম্পগুলোকে না বলুন’ ইত্যাদি স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়।

গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর তিব্বত ও জিএটিপিএমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) ১৯তম পলিটব্যুরোর সদস্য চেন কোয়াঙ্গুও পার্টির দ্বিতীয় পদের জন্য বিবেচিত হচ্ছেন। আর তিনি হলেন তিব্বত ও পূর্ব তুর্কিস্তান শাসন করা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্মম চীনা নেতা।’

তিব্বতের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পার্টির সেক্রেটারি ছিলেন চেন কোয়াঙ্গুও। জিনজিয়াংয়ে মান’বাধিকার লঙ্ঘ’নের ঘটনায় গত মাসে মার্কিন কর্তৃক নি’ষিদ্ধ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কর্মকর্তাদের একজন তিনি। ১৯৭৮ সালের দিকে চীনের গাওকাও পরীক্ষা (স্নাতক স্তরের প্রায় সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য এই পরীক্ষা দিতে হয়) আবার শুরু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

বিক্ষো’ভে ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের পরিচালক রহিমা মাহমুত বলেন, ‘আমরা সবাই যেন একত্রিত হই, এবং আমাদের প্রতি’বাদটা জানাই।’ রহিমা আরো যোগ করেন, ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস শিগগিরই উইঘুর গণহ’ত্যা বন্ধের প্রচার শুরু করবে।

সূত্র : জাস্ট আর্থ নিউজ, নিউ ইয়র্ক টাইমস, কালের কণ্ঠ অনলাইন।