মরিচা পড়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে চাঁদ

মরিচা পড়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে চাঁদ। ফলে আর রূপালি থাকছে না পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাওয়ার এই প্রক্রিয়া চলছে বহু কোটি বছর ধরে। ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা-ইসরোর চন্দ্রযান-ওয়ানের পাঠানো ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

তারা বলছেন, মরচে ধরার উপযুক্ত বায়ুমণ্ডল চাঁদে না থাকার পরও, এমন ঘটনা বিস্ময় তৈরি করেছে। লোহায় মরচে ধরায় লাগে পানি ও অক্সিজেনের উপস্থিতি। তবে চাঁদে এখন পর্যন্ত তরল অবস্থায় পানির সন্ধান পাননি বিজ্ঞানীরা। মেলেনি অক্সিজেনের অস্তিত্ব। তারপরও চাঁদে পড়ছে মরচে, ক্ষয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এ তথ্য মিলেছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা-ইসরোর চন্দ্রযান-ওয়ানের ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুহাই লি সম্প্রতি চন্দ্রযান ওয়ানের মুন মিনারোলজি মাপার যন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে চাঁদে পানি নিয়ে গবেষণা চালান। এতেই সামনে আসে এই তথ্য।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বহু কোটি বছর আগে, হয়তো বায়ুমণ্ডল ছিল চাঁদে। তবে চাঁদের মধ্যাকর্ষণ শক্তি একেবারেই কম থাকায়, তা ধরে রাখা যায়নি। আরেকদল বিজ্ঞানী আবার চাঁদে মরিচার জন্য দায়ী করছেন পৃথিবীকেই। তারা বলছেন, পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্রের কারণে বায়ুমন্ডল থেকে কিছু অক্সিজেন পৌছাতে পারে চাঁদে। আর তা চাঁদে থাকা খনিজের সঙ্গে মিশে মরিচার সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়াও চন্দ্রপৃষ্ঠে থাকা বরফের থেকেও কিছু অক্সিজেন অবমুক্ত হয়ে মরিচা তৈরি করতে পারে। তবে এ নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত যাওয়া কঠিন। চাঁদে মরিচার সঠিক উৎস নিয়ে সদুত্তর মিলবে হয়েতো অদূর ভবিষ্যতে।