মাছের আড়তে কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে ক্রিকেটার আলমকে

বরিশালে মাছের আড়তে কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে বাংলাদেশ শারী’রিক প্রতিব’ন্ধী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় আলম খানকে। শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেটে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আলমের জীবন এখন দুর্বি’ষহ। জাতীয় দলের হয়ে খেললেও গত ৫ বছরে পারিশ্রমিক হিসেবে এক টাকাও পাননি বলে জানিয়েছেন ক্রিকেটার আলম খান। পরিবারের জন্য এখন দুই বেলা খাবার জোগাতে কাজ করতে হচ্ছে মাছের আড়তে।

আলম জানান, অনেকে মনে করেন আমরা তামিম-মুশফিকদের মতো বেতন পাই কিন্তু আসলে তো তা নয়। অর্থ সংক’টের কারণে প্রতিদিনই এখন মাছের আড়তে ছুটতে হচ্ছে। বিদেশের মাটিতেও আলম খানের অসাধারণ নৈপুণ্যে বহুবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ শারী’রিক প্রতিব’ন্ধী ক্রিকেট দল। ক্রিকেট খেলে বিভিন্ন সাফল্যের পাশাপাশি দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছেন তিনি এবং শারী’রিক প্রতিব’ন্ধী দল। যেখানে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের যশ-অর্থ কোনো কিছুরই অভাব নেই, সেখানে সম্মান প্রতিপত্তি যশ-অর্থ কোনোটাই জোটেনি আলম খানের।

বাবা কালু খান ছিলেন সংসারের উপার্জনক্ষ’ম ব্যক্তি। ছোট একটি দোকান ভাড়া নিয়ে বরিশাল নগরীতে খাবার হোটেল চালাতেন তিনি। ওই দোকানের আয় দিয়ে সংসার চলত। ফুসফু’সে ক্যা’ন্সারে আক্রা’ন্ত হয়ে ২০১৮ সালে মারা যান বাবা। বাবার মৃ’ত্যুতে সব এলোমেলো হয়ে যায় আলমের। ঘোর অন্ধকার নেমে আসে পরিবারে, থমকে যায় আলমের জীবন। পাঁচ সদস্যের সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে।

অনেক কষ্টে নগরীর পোর্ট রোডের একটি মাছের আড়তে কাজ পান আলম। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় প্রতি মাসেই। শারী’রিক প্রতিব’ন্ধী হয়েও পরিবারের দুই বেলা খাবার জোগাতে ক’ঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে জাতীয় দলে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করা আলমকে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শারী’রিক প্রতিব’ন্ধী ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব করা আলম খানের নেতৃত্বে দেশ ও বিদেশের মাটিতে ১১টি ম্যাচ খেলেছে দলটি। এর মধ্যে ৭টিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশের হয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে গত পাঁচ বছরে ভারত, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে একাধিক ম্যাচ খেলেছেন আলম। পারফরম্যান্স ছিল বেশ ভালো।

আলম খান ভারাক্রা’ন্ত ক’ণ্ঠে বলেন, সবাই বাইরে থেকে মনে করে আমরা জাতীয় দলে খেলি, খেলতে যাই বিদেশে। আমাদের ভেতরের ক’ষ্টটা কেউ দেখে না। জাতীয় দলের হয়ে খেললেও গত পাঁচ বছরে পারিশ্রমিক হিসেবে এক টাকাও পাইনি। কত ক’ষ্ট করে চলতে হয়, তা কেউ জানে না। জানি না সামনে কী হবে। টাকার অভাবে ক্রিকেটকে ঘিরে আমার সব স্বপ্ন হারিয়ে যাবে কিনা- এখন সেই শঙ্কায় থাকি।

বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মাহিমা এন্টারপ্রাইজের মাছের আড়তের মালিক নীরব হোসেন টুটুল বলেন, কয়েক বছর ধরে তার আড়তে আলম কাজ করছেন। ঝড়বৃষ্টির মধ্যেও আলম কাজে এসেছেন। কাজে ফাঁকি দেননি কখনও, সৎ ও নি’ষ্ঠাবান তিনি। ক্রিকেটের প্রতি প্রবল আগ্রহ তার। ক্রিকেটের জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে আলমকে। বরিশাল নগরীর বাসিন্দা ও জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় কামরুল ইসলাম রাব্বি বলেন, আলম আমার পছন্দের মানুষ। কিশোর বয়সে তার সঙ্গে টেপটেনিসে অনেক খেলেছি। বাধাবিপত্তি পেরিয়ে জীবনে যে অনেক দূর এগোনো যায়, আলম তার বড় প্রমাণ।

বরিশাল বিভাগীয় ক্রিকেট দলের কোচ ও সাবেক ক্রিকেটার তাসরিকুল ইসলাম টোটাম বলেন, প্রায় দেড় দশক ধরে তাকে আমি চিনি। আলম যখন কিশোর ছিল মাঝে-মধ্যে আমার কাছে এসে ব্যাটিং-বোলিং নিয়ে নানা প্রশ্ন করত। তাকে বলে দিলে মাঠের এক পাশে গিয়ে নিজে নিজেই দীর্ঘক্ষণ সেগুলো প্র্যাকটিস করত। এভাবে একা একাই অনুশীলন করে ব্যাটিং বোলিংয়ে উন্নতি করতে থাকে। শারী’রিক প্রতিব’ন্ধী আলম এখন যে ক্রিকেট বলে এত নিখুঁতভাবে স্ট্রো’ক খেলতে পারে, সেটি না দেখলে বোঝা যাবে না।-যুগান্তর।