বার্সেলোনা সমর্থকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিষ্ময়কর ফুটবলার আনসু ফাতি

আনসু ফাতি। বার্সেলোনার একাডেমী লা মেসিয়া থেকে উঠে আসা এই বিষ্ময়বালকের বিষ্ময় ছড়ানো যেন কমছেই না। ক্লাবের হয়ে নিজের পায়ের জাদু দেখানোর পর সেই ধারা অব্যহত রয়েছে জাতীয় দলের হয়েও। উয়েফা ন্যাশনস লিগে প্রথমবারের মতো স্পেনের হয়ে ডাক পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচেই নিজের জাত চেনাচ্ছেন ১৮ না পেরোনো এই বালক।

আনসু ফাতির এই উড়তে থাকা ফর্ম স্বপ্ন দেখাচ্ছে বার্সেলোনা সমর্থকদের। বাজে সময় পার করতে থাকা এই ক্লাবটির ভাগ্য বদলে দিতে পারেন ফাতি। ইউক্রেনের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর ৩১১ দিন বয়সে গোল করে স্পেন জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন ফাতি। এর আগে স্পেনের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার রেকর্ডটা ছিল হুয়ান ইরাজকুইন।

১৯২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৮ বছর ৩৪৪ দিন বয়সে স্পেনের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়েছিলেন। প্রায় শত বছরের এই রেকর্ডটা ফাতি ভেঙেছেন ২০ গজ থেকে করা দুর্দান্ত এক গোলে। অবশ্য রেকর্ড গড়াটা নতুন কিছু নয় এই বালকের কাছে। ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বার্সেলোনার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক হয় চ্যাম্পিয়নস লিগে।

বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে গোলশূন্য থাকা ম্যাচটির দিনে ফাতির বয়স ছিল ১৬ বছর ৩২১ দিন।  আর ইন্টার মিলানের বিপক্ষে গোল করে হয়ে যান চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা। শুধু কি তাই? বার্সার জার্সিতে সবচেয়ে কম বয়সে লা লিগায় গোল পাওয়ার রেকর্ডও তার দখলে। বার্সেলোনার ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ হলেও লা লিগায় তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা। অর্থাৎ স্প্যানিশ এই বালকের রেকর্ড গড়া-ভাঙ্গাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য। স্পেনের হয়ে এই উড়ন্ত সূচণা কাজে লাগিয়ে বার্সার হয়ে জ্বলে উঠতে পারলে বাজে সময় পার করতে থাকা কাতালান ক্লাবটির ভাগ্য বদলে যেতে পারে।

সঙ্গে বদলে যেতে পারে লিওনেল মেসির বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্ত। মেসির পাশে ফাতি নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে বার্সার আক্রমণ ভাগের দুর্দশা মিটে যেতে পারে। আর আক্রমণভাগে মেসি সফল হলে বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্তটি আরেকবার ভেবে দেখতে বাধ্য এই আর্জেন্টাইন। সেক্ষেত্রে মেসি থেকে গেলে বড় ধরণের বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারবে বার্সা।

তবে এতসব হিসেব নির্ভর করছে ১৭ বছর বয়সী বালক ফাতির উপরে। বার্সার খারাপ সময়ে নিজেকে কতটুকু মেলে ধরতে পারবেন তার উপরেই ঠিক হবে সকলকিছু।