মোবাইল বি’স্ফো’রণ হয় যেসব কারণে, সুরক্ষায় করণীয়

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি বি’স্ফো’রণে মৃ’ত্যুর ঘটনা ঘটেছে৷ এছাড়া আহ’ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে৷ তাই প্রশ্ন, মোবাইল ফোনের ব্যাটারি কেন বি’স্ফো’রিত হয়? আর কীভাবে তা এড়ানো যায়? এ বিষয়ে প্রশ্ন-উত্তর বিষয় ওয়েবসাইট কোওরা-তে (quora) লিখেছেন কামরান পারভেজ ইভান। পারভেজের লেখাটি পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল;

আজকাল ইন্টারনেট খুললেই মোবাইল বা স্মার্টফোনের ব্যাটারিতে আ’গুন ধরে যাওয়া কিংবা ফোন বি’স্ফো’রণের মত ঘটনাগুলো চোখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঘটনায় ব্যবহারকারী আ’হত বা মৃ’ত্যু হওয়ার মত দুঃখজ’নক ঘটনাও দেখা যায়। এই তো কিছুদিন আগেই একটি ফোন বি’স্ফো’রিত হয়ে তাতে আহ’ত একটি মেয়ে শেষ পর্যন্ত মা’রাই গেল।

বিশ্বের নামীদামী ফোন নির্মাতা যেমন; অ্যাপল ও স্যামসাং এর তৈরি ফোনও বি’স্ফো’রিত হওয়ার রেকর্ড আছে। স্যামসাং তো ২০১৬ সালে তাদের ফ্ল্যাগশিপ ফোন গ্যালাক্সি নোট সেভেন বি’স্ফো’রণের ঘটনায় পুরো মডেলটিই মার্কেট থেকে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিলো। তাই এটা নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবারও সময় এসেছে।

স্মার্টফোনের সব অংশ বি’স্ফো’রণের জন্য দায়ী নয়। মূলত এর ব্যাটারিটিই বি’স্ফো’রিত হওয়ার ঘটনা বেশি চোখে পড়ে। বাকী যন্ত্রাংশ আসলে বি’স্ফো’রিত হওয়ার মত তেমন কিছু দিয়ে তৈরি নয়। ফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম আ’য়ন বা লিথি’য়াম পলিমার ব্যাটারি যথেষ্ট উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি, এবং এই ব্যাটারিগুলো স্ট্রেস নেয়ার উপযোগী করেই বানানো হয়েছে। কিন্তু তা সত্বেও দুটি কারণে এসব ব্যাটারিও কখনো কখনো বি’স্ফো’রিত হতে পারে। প্রথমটি হলো পাঙ্ক’চার বা লিকেজ।

হাত থেকে পড়ে, অত্যাধিক চাপে, কিংবা আ’ঘাত লেগে আপনার ব্যাটারির সেলগুলো পা’ঙ্কচার হয়ে এদের মাঝে শর্ট সার্কিট হয়ে ব্যাটারিতে আ’গুন ধরতে পারে। আর সস্তা, আজে বাজে ব্র্যান্ডের ব্যটারিগুলোতে মাইক্র’স্কোপিক অনেক ভেজাল মিশ্রিত থাকতে পারে। এগুলোও অনেক ক্ষেত্রেই সেলগুলোর সংস্প’র্শে এসে শর্ট সার্কিট ঘটাতে পারে।

লিথি’য়াম আয়ন ব্যাটারিতে কেন বি’স্ফো’রণ ঘটে এটা জানতে হলে আগে জানতে হবে লিথিয়াম আ’য়ন ব্যাটারি গঠন সম্পর্কে। লিথি’য়াম আ’য়ন ব্যাটারির দুটি ইলেক্ট্রোড থাকে- একটি ধনাত্মক আয়’নের ক্যাথো’ড, অন্যটি ঋণা’ত্মক আয়নের অ্যা’নোড। দুটি অংশকে আলাদা করে রাখে খুবই পাতলা একটি প্লা’স্টিক পর্দা। লিথি’য়াম আ’য়ন ব্যাটারি যখন চার্জ দেওয়া হয়, তখন ক্যাথো’ড থেকে ইলেক্ট্রোলাইট বা লিথি’য়াম আ’য়নগুলো বল প্রয়োগের কারণে অ্যানো’ডের অংশে ধাবিত হয়।

একইভাবে ব্যাটারির চার্জ যখন খরচ হতে থাকে বা কমতে থাকে, তখন একেবারে উল্টা ঘটনা ঘটে। লিথি’য়াম আয়ন তখন অ্যানোড থেকে ক্যাথো’ডের দিকে ছুটতে থাকে। লিথি’য়াম আয়ন ব্যাটারি এতো কাজের, সেই একই কারণেই কিন্তু এ ধরনের ব্যাটা’রিতে বি’স্ফো’রণ ঘটে। লিথি’য়াম আয়ন ব্যাটারি বিদ্যুৎশক্তি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে অতুলনীয়। সঞ্চিত বিদ্যুৎ যখন ধীরে ধীরে খরচ হয়, তখন ব্যাটা’রিটি নিরাপদ। কিন্তু লিথি’য়াম আয়’ন ব্যাটারি যদি একবারেই এর সঞ্চিত সমস্ত বিদ্যুৎশক্তি ছেড়ে দিতে চায়, তখনই বি’স্ফো’রণের ঘটনা ঘটে।

যখন ব্যাটারির ভেতরে অ্যা’নো’ড এবং ক্যা’থোড’কে আলাদা করে রাখা পাতলা পর্দা কাজ না করায় কিংবা ন’ষ্ট হয়ে যাওয়ায় অ্যা’নো’ড এবং ক্যা’থোড পরস্পর যুক্ত হয়ে যায়, তখন ব্যাটারি গরম হতে থাকে। এর ফলে শর্ট সা’র্কিট হয়ে ব্যাটারিতে আগু’ন ধরে যায় এবং বি’স্ফো’রণ ঘটে। আরো যেসব কারণে বি’স্ফো’রিত হতে পারে সে সম্পর্কে একটু ধারণা নেই-

ডিজাইন ও উৎপাদনজনিত সমস্যা: ব্যাটারি ডিজাইনে যদি গ’ণ্ডগোল থাকে, সেক্ষেত্রে ব্যাটারির দুটি ইলে’ক্ট্রোড এবং পৃথক করে রাখা পর্দার মাঝে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এ সমস্যা হতে পারে। চার্জ দেওয়ার পর ব্যাটারির ইলেক্ট্রোড কিছুটা বাঁকানোর ফলে শর্ট সার্কিট হয়েও বি’স্ফো’রণের ঘটনা ঘটতে পারে।

বাহ্যিক প্রভাব: বাইরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলেও ব্যাটারি বি’স্ফো’রণের ঘটনা ঘটতে পারে। ব্যাটারি বা ফোন বারবার হাত থেকে ফেললে বা ব্যাটারিতে বাইরের কোনো আঘা’তের কারণেও মধ্যবর্তী সেপারেটর ক্ষতিগ্র’স্ত হতে পারে।

চার্জারে সমস্যা: চার্জারে ত্রুটির কারণেও লি’থিয়াম আয়ন ব্যাটারি ক্ষতিগ্র’স্ত হতে পারে যা থেকে বি’স্ফো’রণের ঘটনা ঘটে। লিথি’য়াম আয়’ন ব্যাটারিতে বাড়তি চার্জ প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। তবে কোনো কারণে এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে বাড়তি চার্জের কারণে ব্যাটারি গরম হয়ে বি’স্ফো’রণের ঘটনা ঘটে। এজন্য চার্জ দেওয়া সম্পন্ন হলে ফোন চার্জার থেকে খুলে ফেলতে হবে। এছাড়া ফোনের অরি’জিনাল চার্জার ছাড়া নিম্নমানের চার্জার দিয়ে ফোন চার্জ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

তবে অল্প কিছু বি’স্ফো’রণের ঘটনা ঘটলেও লিথি’য়াম আয়ন ব্যাটারি খুবই সময়োপযোগী এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাটারি।

সূত্র: সময় নিউজ।