আমি নিজেও একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম : মুনমুন

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে চিত্রনায়িকা মুনমুনের একটি নাচের ভি’ডিও। তবে মসজিদের পাশে ডান্স করেছেন বলে মূলত এই সমালোচনার শিকার হচ্ছেন মুনমুন। বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এই চিত্রনায়িকা। মুনমুন বলেছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে কখনো দে’খিনি টিনের ঘরে মসজিদ থাকতে পারে। আমার ধারণা ছিল না টিনের ঘরে মসজিদ থাকতে পারে। সাইনবোর্ড টানানো আমি খেয়াল করিনি।

আমি অতটা অসচেতন নই যে মসজিদের সামনে ডান্স করবো, জানলে সেখানে বসতাম না। ঘটনার বিষয়ে মুনমুন বলেন, আমি মুসলিম নারী, পাশাপাশি নায়িকা। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন মেলার মাঠে অনুষ্ঠান করেছি। ডান্স আমার পেশা। সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখের ঘটনা। আমি একটি নৌকা ভ্রমণে গিয়েছিলাম। কখনো নৌকা ভ্রমণ করিনি। সখিপুর এলাকার কমিশনার ও গণ্যমান্যদের দাওয়াতে গিয়েছি’লাম। ওই দিন খুব গরম ছিল।

ছাতা নিয়ে বসেছিলাম। বেশি ঘুরতে পারি’নি। খাওয়া দাওর বিরতির জন্য একটি পরিত্য’ক্ত এলাকায় নৌকা ভেড়ানো হয়। খাওয়া-দাওয়া শেষে কমিশনার মিল্টন ভাই অনুরোধ করেন আপনার একটি ডান্স দেখতে চাই। তারা নাগিন ডান্স দেখতে ছিলাম। আমি বলেছিলাম এখানে নাগিন ডান্স করা সম্ভব না। তারা অনুরোধ করে বলেন, আপনার অনেক ভক্ত এ’খানে আসছেন, ডান্স না করলে তাদের মন খারাপ হবে। তাদের অনুরোধে ডান্স করি।

তিনি বলেন, আপনাদের কথা রাখতে গিয়ে আমি এতকিছু ভাবিনি। যে সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে ওটা আমার পেছনে ছিল, আমি ওই দিকে মুখ ঘুরাইনি, জানিও না। সবার অনুরোধ রাখতে গিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি গানের সঙ্গে ছোট ডান্স করি। আর ডান্স করিনি। এরপর ঢাকায় আসি। খবর পাই একটি ভিডি’ও পো’ষ্ট হয়েছে, আমাকে নেগটিভভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এরপর ওখানের প্রশাসনের সঙ্গে আমার কথা হয়। তারা বলেন, আপনার পোশাক অ’শ্লী’ল না। আপনি অ’শ্লী’ল কোনো অ’ঙ্গভ’ঙ্গি করেননি।

ওখানে মসজিদ ছিল কিং নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অন্য পাশে মসজিদ ছিল সেই সাইনবোর্ড এখানে টাঙানো হয়েছে। নতুনভাবে লেখা সাইনবোর্ড। যারা বলছেন আমি ধ’র্মীয় অনুভূ’তিতে আ’ঘাত হেনেছি। আপনারা কী’ভাবে ভাবলেন আমি এটা করেছি। আমি নিজে ধর্মপ্রাণ মুসলিম। এই কাজ করা ‘আমার পক্ষে অসম্ভব। তারপরেও যদি ধ’র্মী’য় অ’নুভূ’তিতে আ’ঘাত হানে আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা-প্রা’র্থী।

মানুষ মাত্র ভুল করেন। আপনাদের বোন হিসেবে, প্রিয় নায়িকা হিসেবে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। পৃথিবীটা কত্ত সুন্দর, আর সুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে সব সুন্দর বাকি দৃষ্টিতে দেখলে সব অসুন্দর। মুনমুন বলেন, কিছু কুচ’ক্রি’মহল ভি’ডিও পো’স্ট করে টাকা আয়ের উৎস খুঁজছেন।

আমি তাদের বলবো, আমার অনুমতি নিয়ে ভি’ডিও পো’ষ্ট করা উচিৎ ছিল। যা ইচ্ছে পো’স্ট করবেন আর আমি মেনে নেবো? হয়তো মেনে নাও নিতে পারি।

এদিকে, মুনমুনকে নাচিয়ে ক্ষমা চাইলেন আয়োজকরা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মসজিদের সামনে চিত্রনায়িকা মুনমুনকে নাচানোর ঘটনায় মসজিদের সামনে এসে তওবা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন আয়োজকরা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেই মসজিদের সামনে গিয়ে স্থানীয়দের সামনে তওবা ও পরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তারা।

এসময় কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব কাজী আশরাফ সিদ্দিকী, ইউনিয়ন আ. লীগের সভাপতি আ. খালেক মাষ্টার, এনায়েত করিম পীর সাহেব, মফিজ উদ্দিন মাষ্টার, পলাশতলী কলেজের অধ্যক্ষ আবু সাঈদ, ডা. দেলোয়ার হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য আবদুস সামাদ, রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তওবা শেষে আয়োজকরা মসজিদটি সংস্কারের সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, শনিবার উপজেলা মাইক্রোবাস মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে গঠিত আল মদিনা সমবায় সমিতি চিত্রনায়িকা মুনমুনকে টাংগাইলের সখিপুর উপজেলার পলাশতলীতে নৌকা ভ্রমণে আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসে। ভ্রমণ শেষে স্থানীয় বাজারে একটি মসজিদের সামনে সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে নায়িকা মুনমুনকে নিয়ে নাচের আসর বসানো হয়। পরে সেই নাচের ভি’ডিও ফেসবুকে মুহূর্তেই ভাই’রাল হয়।

এ বিষয়ে আল মদিনা সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. স্বপন বলেন, এ ঘটনায় আমরা অনুত’প্ত। আমরাও মুসলমানের সন্তান। ওখানে মসজিদ ঘর আছে বিষয়টি জানা থাকলে এ রকম হত না। আমরা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। ভবিষ্যতে আর মানুষ যেন মসজিদটি চিনতে আমাদের মতো ভুল না করে সেজন্য মসজিদ সংস্কারে সহযোগিতা করা হবে।

উপজেলা কওমী উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা সাইফুল্লাহ বেলালী বলেন, আয়োজক কমিটি ভুল স্বীকার করে তওবা করেছে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর না করার অঙ্গীকার করেছেন। এ ব্যাপারে আমাদের আর কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাহ আয়োজকদের তওবা কবুল করুন।