আজকের দিনে নিখাদ দেশপ্রেমের অনন্য নজির গড়েন তামিম ইকবাল

দেশের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। একসময় যাকে নিয়ে ট্রল ছিল- ‘ম্যাগি নুডুলস’ কিংবা চাচার জোরে খেলা ক্রিকেটার’। সেই তামিম এবার দেখিয়ে দিলেন ওসব নয়, দেশের টানেই খেলেন। ২০১৮ সালে এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ না হতেই যখন বলাবলি হচ্ছিল তার এশিয়া কাপ শেষ তখনই অনন্য এক নজির স্থাপন করেন তিনি।

কব্জির হাড় ভাঙলেও ব্যাটিং করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন তামিম। তার দেশপ্রেমের কাছে হার মানল ভাঙা হাড়ও! তামিমের এই দুঃসাহসিকতায় বিস্মিত পুরো ক্রিকেট দুনিয়া। প্রেসবক্সে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা তামিমের এই দেশপ্রেম দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের প্রশ্ন- নিজের ক্যারিয়ারের কথা না ভেবে কিভাবে এই ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিলেন এই ওপেনার!

চোট পেয়ে তামিমের কব্জির যে অবস্থা, সেটা কোনোভাবেই ব্যাটিং করার উপযোগী ছিল না। ব্যাট করা বাঁ হাতেই চোট পান তিনি। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে তাই ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে হয়েছিল তামিমকে। তার বিদায়ে বাংলাদেশ ১০ ব্যাটসম্যান নিয়েই খেলার জন্য তৈরি ছিল। মোস্তাফিজুর রহমান ২২৯ রানে নবম ব্যাটসম্যান হয়ে আউট হওয়ার পরই তাই শেষ হওয়ার কথা বাংলাদেশের ইনিংস। কিন্তু তামিম নামলেন গ্লাভস ছিড়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত নিয়ে।

আর মুশফিককে অবিশ্বাস্য সঙ্গ দিলেন একপ্রান্ত আগলে রেখে, দেখিয়ে দিলেন একটি উইকেটের মূল্য কত! শেষ জুটিতে মাত্র ১ বল এক হাতে ঠেকিয়ে গেলেন। তার এই সাহসিকতায় অন্য প্রান্তে মুশফিক ছিলেন আরও দুর্দান্ত। ২৫ বলে এই জুটির ৩২ রানই এল তার ব্যাট থেকে। ম্যাচ শেষে মুশফিক জানালেন তামিম তাকে কতটা উজ্জীবিত করেছেন, ‘যখন তামিম ব্যাট করতে এলো আবার, তখন আমার মনে একটা ব্যাপার ধাক্কা দিলো যে তার জন্য ও আমার দেশের জন্য কিছু করতে হবে।’

শুধু মুশফিককে নয়, গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তামিম। মাঠে নামার অল্প কিছুক্ষণ আগে ড্রেসিংরুমে প্লাস্টার করে বসে ছিলেন তিনি। মোস্তাফিজ আউট হতেই গ্লাভস কাটলেন ব্যান্ডেজ বাঁধা হাত বের করে রাখার সুবিধায়। তারপর নামলেন মাঠে, ততক্ষণে সবার চোয়াল বড় হয়ে গেছে। তামিমের এই সাহসিকতা দেখে ক্রিকইনফোর ধারাভাষ্যকার বলেছেন, ‘অবিশ্বাস্য দৃশ্য! ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম ব্যাটিংয়ে নামছেন। ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

তামিম খেলেছেন মাত্র একটি বল। তাও এক হাতে। তাতেই ক্রিকেট ভক্তদের কাছে বীর বনে গেছেন। মুশফিককে সঙ্গ দিয়ে দলের স্কোর নিয়ে যান ২৬১ তে। অথচ ফের এই আঙুলে বল লাগলে তার ক্যারিয়ারের বিরাট ক্ষতি হয়ে যেতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লঙ্কান শিবিরে ভয় ঢুকিয়ে দেন তিনি নিজেই।

তামিমের দেশপ্রেম আর বীরত্ব দেখে সবার মতোই খুশি ছিলেন তখনকার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ম্যাচ শেষেই বলেন, “একটা কথাই বলবো, মানুষের মনে রাখা উচিত তাকে।” তামিমকে নিয়ে বলেন, “বাঁ হাত ভেঙেছে, ডান হাতে জিতেছো লাখো হৃদয়।”