প্রথম বলে ব্যাটসম্যান আউট হলে ‘ডাক’ বলা হয় কেন?

‘নেড গ্রেগরি’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম শূন্য রান করেছিলেন। ইতিহাসের প্রথম টেস্টে প্রথম শূন্যের মালিক এই অস্ট্রেলিয়ান। বোলার ছিলেন ইংল্যান্ডের জেমস লিলিহোয়াইট। খেলাটি হয়েছিল মেলবোর্নে। সময়টা ১৮৭৭-এর মার্চ। ডাক মানে কী? ইংরেজি ডাক শব্দের বাংলা তর্জমা করলে অর্থ দাঁড়ায় ‘হাঁস’। তা হলে ক্রিকেটে প্রথম বলে শূন্য রান করে প্যাভিলিয়নের রাস্তা ধরলে কেন বলা হয় ব্যাটসম্যান ‘ডাক’ দেখেছেন?

নিশ্চিত করে কারণ বলা প্রায় অসম্ভব। বা এহেন শব্দবন্ধনীর শিকড়েও যাওয়া সম্ভব নয়। ক্রিকেট নিয়ে নানান মজাদার গল্প প্রচলিত রয়েছে যুগে যুগে। যত দূর জানা যায়, টেস্ট ক্রিকেট শুরুর অনেক আগে থেকেই ‘ডাক’ শব্দটি প্রচলিত ছিল। কোনও একটি ম্যাচে ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’ শূন্য রানে ফেরার পরে ১৮৬৬-র ১৭ জুলাই একটি পত্রিকায় লেখা হয়েছিল, ‘‘প্রিন্স রয়্যাল প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন হাঁসের ডিম নিয়ে!’’ এই ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’ই পরবর্তীকালে রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড বলে পরিচিত হন।

‘০’ দেখতে অনেকটা হাঁসের ডিমের মতোই। তাই হয়তো ওই পত্রিকাটি এহেন তুলনা টেনেছিল। সেই যে শুরু হল। এখনও তা চলছে। ‘ডাকস এগ’ থেকে ধীরে ধীরে ক্রিকেটে চালু হয়ে গেল শুধু ডাক! ‘নেড গ্রেগরি’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম শূন্য রান করেছিলেন। ইতিহাসের প্রথম টেস্টে প্রথম শূন্যের মালিক এই অস্ট্রেলিয়ান। বোলার ছিলেন ইংল্যান্ডের জেমস লিলিহোয়াইট। খেলাটি হয়েছিল মেলবোর্নে। সময়টা ১৮৭৭-এর মার্চ।

প্রথম টেস্টে যেমন গ্রেগরি শূন্য রানে ফিরে গিয়েছিলেন প্যাভিলিয়নে, প্রথম ওয়ান ডেতে অবশ্য কেউ শূন্য রানে আউট হননি। দ্বিতীয় ওয়ানডে-তে প্রথম শূন্য রান করেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার গ্রেম ওয়াটসন। বোলার ছিলেন জিওফ আর্নল্ড। টেস্টে সবথেকে বেশি শূন্য রানের মালিক ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলার কোর্টনি ওয়ালশ। তাঁর শূন্য রানের সংখ্যা ৪৩। ৩৬টা শূন্য করেছেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিস মার্টিন। তিনি রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি শূন্য করেছেন শ্রীলঙ্কার সনথ জয়সূর্য (৩৪)।

টেস্টে সবচেয়ে বেশিবার ব্যাটসম্যানকে শূন্য রানে ফিরিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রা। সংখ্যাটা ১৭৬। ওয়ানডেতে এই রেকর্ড পাকিস্তানের ওয়াসিম আক্রমের (১১০)। রেকর্ড অবশ্য গড়া হয় ভাঙার জন্যই। তাই আগামীদিনে এই রেকর্ড ভাঙতেই পারে।