অন্য কেউ সরকারে থাকলে করোনায় শুধু ‘ফায়দা লুটার’ উপায় খুঁজতো : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগে সরকার ক্ষমতায় না থাকলে অন্য যেকোনো শক্তি মানুষকে সহায়তা না করে শুধু ‘ফায়দা লুটার’ উপায় খুঁজত। একমাত্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই মহামারির মধ্যে মানুষের পাশে ‘জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে’ দাঁড়িয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় এসব কথা বলেন।

সভায় দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সভায় শেখ হাসিনা শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রাম ও পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট তাকে সপরিবারে হ’ত্যার কথা তুলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্ম’রণ করেন। পাশাপাশি করোনায় প্রাণ হা’রানো দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ও সাহারা খাতুনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, মহা’মারিতে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহায়তা করেছে সরকার। আমার মনে হয় একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল বলে এভাবে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেছে এবং মানুষকে সহযোগিতা করেছে। অন্য কোনো দল হলে এটা মোটেই করত না। বরং তারা দেখত এখান থেকে কিছু ফায়দা লুটতে পারে কিনা সেটাই ভাবত। কিন্তু আমাদের নীতি ও লক্ষ্য অনুযায়ী আমরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছি। জাতির পিতা এটাই আমাদের শিখিয়ে দেয়ামত আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে সেবা করাই আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য বিধায় করোনাভাই’রাস ছাড়াও বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দু’র্যোগ মোকাবেলায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। রাজ’নৈতিক দল হিসেবে আমরা যদি অন্য দলগুলো হয়ত শুধু ওই লিপ সার্ভিস..অর্থাৎ মুখে মুখে কথা বলতেই দেখি। কিন্তু প্রকৃত মানুষের কাছে গিয়ে মানুষকে সাহায্য করা সেটা কিন্তু আমরা অন্যদল বা অন্য সংস্থা.. অনেককেই আমরা দেখেছি তাদের উপস্থিতিটা ওভাবে দেখিনি। এবং ওই এনজিও-টেনজিও অনেকেই আছেন কিন্তু তাদেরকে কিন্তু আমরা ওভাবে দেখি নাই।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে মহামা’রির মধ্যে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান সদস্যসহ ভাই’রাস মোকাবেলায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে।

সভাপতিমণ্ডলীর সভা নিয়ে আওয়ামী লীগপ্রধান বলেন, দীর্ঘদিন পরে আমাদের এই সভা। করোনাভাই’রাসের পর থেকেই সারা বিশ্বব্যাপী একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চলছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শুধু আমাদের দেশ না, সারা পৃথিবীজুড়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, এই করোনাকে মোকাবেলা করে আমরা কীভাবে আমাদের দেশের অর্থনীতির গতিটা অব্যাহত রাখতে পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় প্রায় রপ্তানি থেমেই গিয়ে ইন্ডাস্ট্রিগুলোও প্রায় বন্ধ ছিল। সীমিত আকারে আস্তে আস্তে ইন্ড্রাস্ট্রিগুলো আবার চালু করেছি। সেই সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যটা যাতে সচল থাকে আর বিশেষ করে শ্রমিকদের বেতন দেয়া, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো এবং কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো। সেক্ষেত্রে আমরা প্রত্যেকের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি। এই প্রণোদনা আমাদের বাজেটের প্রায় চার শতাংশ আমরা এই প্রণোদনা দেই।

ক্ষমতাসীন দলের সভানেত্রী বলেন, করোনা মহামা’রির মধ্যেও সরকার ৫ লক্ষ কোটি টাকার মতো বিশাল বাজেট দিয়েছে সরকার যা মোটেই কম কথা নয়। কিন্তু আমার কথা ছিল..জানি না করোনার জন্য কতটুকু করতে পারব না পারব কিন্তু আমার কথা ছিল আমাদের প্রস্তুতিটা থাকতে হবে সম্পূর্ণভাবে। যদি অবস্থা ভালো হয় আমরা সবটুকু অর্জন করতে পারব। যদি না পারি তারপরও তখন সেটা আমরা আবার দেখব। আমরা পিছিয়ে না গিয়ে দেশের জন্য বাজেট ঘোষণা দিয়েছি।

করোনা মহামারির মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের ফেরত আসতে হয়েছে জানিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এই প্রবাসীদের ফেলে দিতে পারেন না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অনেকের ধারণা ছিল আমাদের রেমিটেন্স কমে যাবে। কিন্তু রেমিটেন্স কিন্তু কমেনি। কারণ ২ শতাংশ আমরা বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার ফলে রেমিটেন্স বেড়েছে। এটা অনেকে ভাবতে পারেনি যে আমাদের রেমিটেন্স এত বাড়বে। আমাদের রিজার্ভ এখন ৩৯.৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার। আমাদের রিজার্ভও কিন্তু ভালো রিজার্ভ আছে এটা আমি বলব। কাজেই সেদিক থেকে অর্থনীতি..আমরা মোটামুটি একটা ভালো অবস্থানে আছি। বাজেটের ডেফিসিট এবার আমরা ৬ শতাংশ ধরেছিলাম। এখানে আমার সিদ্ধান্ত ছিল দরকার হয় আমরা ১০ শতাংশ ধরব। কিন্তু সেটা আমাদের লাগেনি।

সরকার দেশের উন্নয়ন ও মানুষকে সুন্দর জীবন দিতে ডেল্টা প্লান প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যেহেতু.. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই সংগঠনই এই দেশের স্বাধীনতা এনেছে। কাজেই আমরা যখন সরকারে আছি আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে দেশটা শুধু বর্তমানেই না আগামী দিনের নতুন প্রজন্মের জন্য কীভাবে এই দেশটা এগিয়ে যাবে, কীভাবে চলবে সেটাই আমদের..এখন থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখবো বা নির্দেশনা দিয়ে দেব।

হ্যা, এটা ঠিক। এখন আমরা যেটা করছি সময়ের বি’বর্তনে সেটা কিন্তু সংশোধন করতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে, পরিশোধন করতে হবে। এটা করতে হবে- এটা নিয়ম। সেটা আমরা জানি। কিন্তু তারপরও একটা ফ্রেমওয়ার্ক, একটা ধারণাপত্র অথবা একটা দিক-নির্দেশনা সেটা যদি সামনে থাকে তাহলে যে কোনো কাজ খুব সহজে..যারাই আসুক ভবিষ্যতে তারাই করতে পারবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের তো বয়স হয়ে গেছে। আমি তো..৭৪ বছর বয়স..কাজেই সেটাও মাথায় রাখতে হবে যে আর কত দিন। এরপরে যারা আসবে তারা যেন দিকহারা না হয়ে তাদের জন্য যেন একটা দিক নির্দেশনা থাকে। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে..নাহ..আমাদের এখানে যেতে হবে।