হাটহাজারীতে জনসমুদ্র, আল্লামা শফীর জানাজা ২টায়

আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটায় প্রিয় প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দীর্ঘদিন এই মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। এদিকে আল্লামা শফীকে একনজর দেখতে ও জানাজায় শরিক হতে তার ছাত্র ও ভক্তরা হাটহাজারীতে ভোর থেকেই আসতে শুরু করেছেন। সেখানে রীতিমতো জনস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে।

ইতোমধ্যে জানাজার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রবীণ এই আলেমকে শেষবারের মতো দেখা এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে রাখা হবে। এরপর বেলা ২টায় জানাজা শেষ মাদ্রাসার ভেতর উত্তর মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার ইতিহাসের অন্যতম এক নাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী। কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে এম এ সমমানের মর্যাদা আদায়ে তিনি ছিলেন প্রধান অগ্রপথিক। বিশ্বের আনাচে-কানাচে আল্লামা আহমদ শফীর ছাত্র, শিষ্য, মুরিদ, ভক্ত ও অনুসারী রয়েছে।

আল্লামা শফী পাঁচ সন্তানের জনক। দুই ছেলে তিন মেয়ে। বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ, ছোট ছেলে মাওলানা আনাস মাদানি। আল্লামা শফী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদে যোগ দেন আহমদ শফী। এরপর থেকে টানা ৩৪ বছর ধরে তিনি ওই পদে ছিলেন। লেখালেখিতেও রয়েছে তার রয়েছে বিশেষ অবদান। বাংলা ও উর্দু ভাষায় তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ২৫টি।

তার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে; বাংলা ভাষায়- হক ও বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্ব, ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা, ইসলাম ও রাজনীতি, সত্যের দিকে করুন আহ্বান, সুন্নাত ও বিদ-আতের সঠিক পরিচয় এবং উর্দু ভাষায়- ফয়জুল জারি (বুখারির ব্যাখ্যা), আল-বায়ানুল ফাসিল বাইয়ানুল হক ওয়াল বাতিল, ইসলাম ও ছিয়াছাত এবং ইজহারে হাকিকাত।