বুক ফাটা আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে হাটহাজারীর বাতাস

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মরদে’হ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় এসে পৌঁছেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মরদে’হবাহী অ্যাম্বুলেন্স র‌্যাবের পাহারায় হাটহাজারী মাদ্রাসায় নিয়ে আসা হয়। এসময় তার ভক্ত-অনুসারীরা অ্যাম্বুলেন্স ধরে কান্নায় ভে’ঙে পড়েন।

মাদ্রাসার শূরা কমিটির সদস্য নোমান ফয়জী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উনার (আহমদ শফী) মরদে’হ হাটহাজারী মাদ্রাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। ক’বর খোড়ার প্রস্তুতিও শেষ। বাদ জোহর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মাদ্রাসার কব’রস্থানে লা’শ দাফ’ন করা হবে।’

এদিকে রাজধানী ঢাকা থেকে ভোর চারটায় রওনা হয়ে শোকার্ত মানুষের ভিড় ঠেলে দীর্ঘ পথ ফাঁড়ি দিয়ে দেশের সর্বজন শ্রদ্বেয় এ আলেমে দ্বীনের কফিন হাটহাজারীতে প্রবেশ করতেই সেখানে এক হৃদ’য় বিদারক দৃশ্যের অবতা’রণা হয়। হাজারো মানুষ কান্নায় ভে’ঙ্গে পড়েন।

শোকার্ত মানুষের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে হাটহাজারীর আকাশ-বাতাস। শুক্রবার রাত থেকে হাজারো মানুষ অপেক্ষায় ছিলো তাকে শেষ বারের মতো দেখতে। সকাল থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসে হাটহাজারীতে। হাটহাজারীমুখি সব সড়কে শোকার্ত মানুষের স্রোত।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হাটহাজারী সদরের সব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ক’ফিন মাদরাসার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। জোহারের নামাজ পর্যন্ত তাকে শেষ বারের মতো দেখার জন্য ক’ফিন সেখানে রাখা হবে। বাদ জোহর (দুপুর ২টায়) হাটহাজারী মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে নামাজে জানাযা। পরে মাদরাসার কব’রস্থানে তাকে দা’ফন করা হবে।

শুরা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাটহাজারী মাদরাসায় জানাযা ও দাফ’ন সম্পন্ন করতে মাদরাসা শুরা কমিটি ও প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।