মাল্টা চাষে বোয়ালখালীর মনসুরের সাফল্য

চার বছর আগে সখের বশে খরণদ্বীপের আহমেদ মনসুর মাল্টা চাষ শুরু করেন। এতে উৎসাহ ছিল তৎকালীন উপজেলা কৃষি অফিসার আবু জাফর মো. মঈন উদ্দিন ও মাঠ কর্মকর্তা সৌমিত্র দের। চাষের সফলতায় এখন বাণিজ্যিকভাবে ঝুঁ’কছেন তিনি। উদ্বু’দ্ধ করছেন অন্যান্য কৃষককেও। খুঁজছেন পতিত উঁচু জমি। জমি চাষের চুক্তি করেছেন কয়েকজন ভূমি মালিকের সাথে। তিন বছরের মাথায় ফলন পেয়ে প্রথমেই দান করেছেন এতিমখানা, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে।

এ বছর ফলন অনেক ভাল, বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন। সব ঠিক থাকলে বছর দুয়েকের মধ্যে উৎপাদন খরচ উঠে আসবে বলে আশা করছেন তিনি। সরেজমিনে দেখা যায়, খরণদ্বী’প ১ নং ওয়ার্ডের আহমদ হোসেনের বাড়ির পাশে সারি সারি মাল্টা গাছ। জমি থেকে এক দেড় ফুট উঁচু করে লাগানো হয়েছে এ গাছ। থোকায় থোকায় ঝুলছে মাল্টা। একেকটিতে ২৫ থেকে ১শ পর্যন্ত মাল্টা। কাঁচাগুলো গাঢ় সবুজ এবং পাকাগুলো হালকা হলুদ রং ধারণ করেছে।

চাষী আহমদ মনসুর জানান, দুই বিঘা জমি নিয়ে তিনি মাল্টার চাষ শুরু করেন। ২০১৬ সালে ১২০টি চারা রোপণ করেন তিনি। এ চার বছরে জমি তৈরি, রোপণ পরিচর্যায় খরচ করেন প্রায় ১ লক্ষ টাকা। দুই বছরের মাথায় ফল পাওয়া যায়, বর্তমানে থোকায় থোকায় মাল্টার ফলন প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে যে কারও। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শমতে নিজের পতিত জমিতে ১২ ফুট দুরত্বে এ মাল্টার চারা লাগানো হয়।

এজন্য গর্ত করা হয় তিন বর্গফুটের। প্রতিটি গর্তে দেয়া হয় ৪০ কেজি গোবর, ৫ কেজি ছাই, ১ কেজি চুন, আধা কেজি করে এমওপি, টিএসপি, ইউরিয়া, ৫ গ্রাম বরিক এসিড। এ গর্তে সার দিয়ে রেখে দেয়া হয় ১৫/২০ দিন। তারপর চারা রোপণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, যেন পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখা হয়েছে। তবে পোকার আক্র’মণ ও কাঠবিড়ালীর জন্য মাল্টার চাষ ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।-পূর্বকোণ।