রাবাদার বিধ্বং’সী বোলিংয়ে সুপার ওভারের ম্যাচ জিতল দিল্লি ক্যাপিটালস

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলে আসরে দ্বিতীয় ম্যাচেই নানা নাটকীয়তা দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। টাই হয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের ম্যাচ। পরের সুপার ওভারে কাগিসো রাবাদা বিধ্বং’সী বোলিং এ ম্যাচে জয়লাভ করে দিল্লি ক্যাপিটালস।

সুপার ওভারে মাত্র তিন বল এই দুই উইকেট তুলে নেন কাগিসো রাবাদা। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের কে এল রাহুল এবং নিকোলাস পুরনের উইকেট তুলে নেন তিনি। ৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২ বলে সহজ জয় পেয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ১৫৭ রানের টার্গেটে দেয়ায দিল্লি ক্যাপিটালস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান সংগ্রহ করে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে গিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। ১৩ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে দিল্লি। পাঞ্জাবের পেসার মোহাম্মদ শামির আগুনে বোলিংয়ের সামনে টিকতেই পারছিল না শ্রেয়াস আয়ারের দল। পৃথ্বি শ ৫ রানে আউট হন। তার আগেই রানআউটের শিকার হন শিখর ধাওয়ান। কোনো রানই করতে পারেননি তিনি।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা শিমরন হেটমায়ার আউট হন মাত্র ৭ রান করে। দ্রুত তিন উইকেট পড়ার পর দিল্লি ঘুরে দাঁড়ায় অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ার এবং রিশাভ পান্তের ব্যাটে। এই দু’জনের ব্যাটে স্লো হলেও ৭৩ রানের জুটি গড়ে ওঠে। ৩২ বল খেলে আয়ার করেন ৩৯ রান। ২৯ বল খেলে ৩১ রান করেন রিশাভ পান্ত।

মূলতঃ মার্কাস স্টোইনিজের ঝড়ো ব্যাটিংয়েই শেষ পর্যন্ত একটা লড়াকু স্টোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয় দিল্লি। ২১ বলে ৫৩ রান করে রান আউট হন স্টোইনিজ। অক্ষর প্যাটেল করেন ৬ রান। অশ্বিন করেন ৪ রান। রাবাদা কোনো বলও খেলেননি, রানও করেননি। অ্যানরিখ নর্তজে করেন ১ বলে তিন রান। পাঞ্জাবের হয়ে একাই ৩ উইকেট নেন মোহাম্মদ শামি। শেলডন কটরেল নেন ২ উইকেট এবং রবি বিষনই নেন ১ উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের অধিনায়ক কে এল রাহুল। তবে দলীয় ৩০ রানের মাথায় ২১ রান করে রাহুল আউট হলে টপা-টপ উইকেট হারাতে থাকে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। মহিত শর্মা পর বল হাতে জ্ব’লে ওঠেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান কারণ নয়র এবং নিকোলাস পুরানকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে দেন তিনি।

তবে দল আরো বিপদে পড়ে যখন দলীয় ৩৫ রানের মাথায় মাত্র ১ রান করে কাগিসো রাবাদার বলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন গ্রীন ম্যাক্সওয়েল। এরপর দলীয় ৫৫ রানের মাথায় সরফরাজ খানের উইকেট তুলে নেন প্যাটেল। তবে অন্য প্রান্ত থেকে দলকে একাই আগলে রাখেন ওপেনার ব্যাটসম্যান মায়াঙ্ক আগরওয়াল।

কৃষ্ণপ্পা গৌতমকে সাথে নিয়ে ৪৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন তিনি। কাগিসো রাবাদা বলে ২০ রান করে কৃষ্ণপ্পা গৌতম আউট হলেও অন্য প্রান্ত থেকে ব্যাটিং তান্ডব শুরু করেন মায়াঙ্ক আগরওয়াল। দলকে একাই জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে থাকেন তিনি।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩ রানের। কিন্তু প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচে জয় সহজ করে ফেলেন মায়াঙ্ক আগরওয়াল। পরের বলে ২ এবং তৃতীয় বলে চার হাঁকিয়ে ম্যাচে সমতা করেন আগারওয়াল। তবে ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়েতে গিয়ে স্টোইনিজের বলে আউট হন মায়াঙ্ক আগরওয়াল। ৬০ বলে ৮৯ রান করে থাকেন মায়াঙ্ক আগরওয়াল। শেষ বলে জর্ডানের উইকেট তুলে নিলে ম্যাচ ড্র হয়।