স্টিভ স্মিথরা কি পারবেন রাজস্থানের ১২ বছরের ট্রফি খরা কাটাতে?

২০০৮ সালে যখন প্রথমবার আইপিএলের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেসময় অজি কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের নেতৃত্বাধীন রাজস্থান রয়্যালস দল একেবারে তরুণ তুর্কিদের নিয়ে সবাইকে অবাক করে দেয়। শেষবেলায় ট্রফি জিতে বাজিমাত করে তারা। তারপর থেকে বেশ কিছুবার নক আউটে পৌঁছলেও সেভাবে দাগ কাটার মতো পারফর্ম্যান্স করতে পারেনি রাজস্থান রয়্যালস। এবার তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনে তৈরি তাদের দল ভাল কিছু করে দেখাতে মুখিয়ে রয়েছে।

দলে অভিজ্ঞ স্টিভ স্মিথ, উথাপ্পাদের উপস্থিতি অবশ্যই একটা বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে। আসুন দেখে নেওয়া যাক কীভাবে সাফল্যের রাস্তায় হাঁটতে পারে রাজস্থান রয়্যালস।

শক্তি:- অন্যান্য বেশ কিছু ফ্র্যান্ঞ্চাইজির মতো রাজস্থানের অন্যতম শক্তি হল তাদের ব্যাটিং লাইন আপ‌। স্টিভ স্মিথের মতো ক্রিকেটারের উপস্থিতি শুধু ব্যাট হাতেই দল এবং দলের অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পথপ্রদর্শক হবে তা নয়, তাঁর অধিনায়কত্বের পূর্ব অভিজ্ঞতাও দলের কাছে একটা বড় সম্পদ। এছাড়া রয়েছেন এই মুহূর্তে বিশ্বের সবথেকে বিপ’জ্জনক অল-রাউন্ডার বেন স্টোকস, যিনি যে কোনও দিন বল বা ব্যাট হাতে যে কোনও ম্যাচের রঙ বদলে দিতে পারেন। এছাড়াও ব্যাটিংয়ে মারকুটে জোস বাটলার, রবিন উথাপ্পা, সঞ্জু স্যামসন, শ্রেয়স গোপালরা যে কোনও দিন ব্যাট হাতে দলকে কা’ঙ্খিত জয় এনে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।

বোলিংয়ে স্পিন এবং পেস দুই বিভাগেই তারা প্রবল শক্তিধর। জোফ্রা আর্চার, জয়দেব উনাদকাট, বরুণ অ্যারন, মায়াঙ্ক মার্কান্ডে, বেন স্টোকস সমৃদ্ধ বোলিং লাইনআপ যে কোনও প্রতিপক্ষ ব্যাটিং লাইনআপকে ধরাশায়ী করার ক্ষমতা রাখে।

দুর্বলতা:- রাজস্থানের বিদেশি রিক্রুট যেমন তাদের একদিকে শক্তি তেমন তাদের দুর্বলতার জায়গাও হতে পারে। স্টিভ স্মিথ, জোফ্রা আর্চার, জোস বাটলার ও বেন স্টোকস, এই চার বিদেশী তাঁদের সেরা ফর্মে খেললে টম কারান, ওসেন থমাস, ডেভিড মিলার, অ্যান্ড্রু তাইদের ডাগ আউটেই বেশিরভাগ সময় কাটাতে হবে। তারপর যদি কেউ চোট পেয়ে বসেন বা ফর্ম হারান তখন হঠাৎ করে টিমে ঢুকে প্রথমদিন থেকে পারফর্ম্যান্স করা সহজ কাজ নাও হতে পারে।

সুযোগ:- রিয়ান পরাগের মতন নবীন তারকাদের কাছে আইপিএলের মঞ্চে পারফর্ম্যান্স করে নির্বাচকদের নজরে পড়ার এটা এক বিরাট সুযোগ। অভিজ্ঞ রবীন উথাপ্পা, ডেভিড মিলাররা যদি ব্যাট হাতে তাঁদের পুরনো ফর্ম ধরে রাখতে পারেন তাহলে ২০০৮ সালের পরে ফের একবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন সফল হতে পারে তাদের। শেষ মরশুমে রিয়ান পরাগ যেটুকু সুযোগ পেয়েছিলেন, তাতেই একটি অর্ধশতরান-সহ মোট ১৬০ রান করেন। বোলিংয়ে লেগ স্পিন করে তিনি ২টি উইকেটও তুলে নিয়েছিলেন। সামনেই টি-২০ বিশ্বকাপ রয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই পরাগ, মার্কান্ডে, জসওয়াল, স্যামসনরা চাইবেন ভালো পারফর্ম্যান্স করতে, যাতে বিশ্বকাপে তাঁদের দলে ঢোকার রাস্তা চাওড়া হয়।

বিপদ:- বেন স্টোকসের ব্যাকআপ অলরাউন্ডারের অভাব দলকে সমস্যায় ফেলতে পারে। অনিরুদ্ধ যোশী, লোমরর বা জসওয়ালরা ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম্যান্স করলেও এখনও বড় স্টেজে সেভাবে পরীক্ষিত নন। ফলে স্টোকসের যদি কোনও কারণে চোট লাগে, তা বিপ’জ্জনক হতে পারে দলের কাছে। শ্রেয়স গোপাল তাদের হয়ে শেষ মরশুমে ২০টি উইকেট নিলেও তার অপর সঙ্গী রাহুল তেওয়াটিয়া শেষ মরশুমে ভালো পারফর্ম্যান্স করতে পারেননি।

কিছু দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও যদি রাজস্থান সব ম্যাচে তাদের কোর ইউনিটকে ফিট রাখতে পারে, তাহলে এই মরশুমে দ্বিতীয়বারের জন্য তাদের ট্রফি ঘরে তোলার সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল।

রাজস্থান রয়্যালসের স্কোয়াড :- বেন স্টোকস, জোফ্রা আর্চার, স্টিভ স্মিথ, অঙ্কিত রাজপুত, জোস বাটলার, মাহিপাল লোমরোর, মনন ভোরা, মায়াঙ্ক মার্কান্ডে, রাহুল তেয়াটিয়া, রিয়ান পরাগ, সঞ্জু স্যামসন, শশাঙ্ক সিং, শ্রেয়স গোপাল, বরুণ অ্যারন, রবিন উথাপ্পা, জয়দেব উনাদকাট, যশস্বী জযসওয়াল, অনুজ রাওয়াত, আকাশ সিং, কার্তিক ত্যাগী, ওসেন থমাস, ডেভিড মিলার, অনিরুদ্ধ যোশী, অ্যান্ড্রু তাই, টম কারান।