বিশ্বমানের বোলার হওয়ার মিশনে নেমেছেন তাসকিন

এবার বিশ্বমানের বোলার হওয়ার মিশনে নেমেছেন তাসকিন। ২০১৮ সালের মার্চে খেলেছেন সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই ম্যাচের পর পেরিয়ে গেছে আড়াই বছর। কিন্তু ফর্মহীনতা ও ইনজুরি মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর ফেরা হয়নি তাসকিন আহমেদের। গত বিপিএলে ছন্দময় বোলিং করে জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়লেও ইনজুরি সেই সম্ভাবনা শেষ করে দেয়। তবে তাসকিন দমে যাননি।

তার কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের কাছে হার মানতে শুরু করেছে সব বাধা। মিশন এখন তার- ‘বিশ্বমানের বোলার’ হওয়ার। লকডাউনের সময়টাতে ফিটনেস নিয়ে ঘাম ঝরানোর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তার বোলিংয়ে। গত কিছুদিন ধরে চলা অনুশীলনে ভয় ছড়ানো বোলিংয়ে কাবু করছেন ব্যাটসম্যানদের। লিটন-সৌম্য-মাহমুদউল্লাহ-তামিম কেউই তার সামনে খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না। দারুণ ও ছন্দময় বোলিংয়ে পেস বোলিং ওটিস গিবসনের বাহবাও পেয়েছেন তিনি।

তাই বলে আকাশে উড়ছেন না তাসকিন। তৃপ্তির ঢেকুর না তুলে বরং আরও উন্নতির জায়গায় দেখছেন তিনি। লক্ষ্য তার, বিশ্বমানের বোলার হওয়ার। সেই লক্ষ্যের কথাই শোনালেন আজ (মঙ্গলবার) অনুশীলন শেষে, ‘ফিটনেস আগের থেকে উন্নতি হয়েছে, আসলে উন্নতির শেষ নেই। বিশ্বমানের হতে হলে, আরও ধারাবাহিক হতে হলে কঠোর পরিশ্রম সবসময় করে যেতে হবে। এখনই শেষ নয়, সামনে আরও ভালো কিছু হবে আশা করছি। আমি আমার চেষ্টা অব্যাহত রাখবো, ভবিষ্যতে যেন আরও ভালো করতে পারি সে চেষ্টা থাকবে।’

২০১৪ সালে অপার সম্ভাবনা নিয়ে জাতীয় দলে তাসকিনের আগমন। এরপর একে একে তিন ফরম্যাটেই অভিষেক হয় তাসকিনের। ৫১টি সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলা এই পেসার টেস্ট খেলেছেন ৫টি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০১৭ সালে সর্বশেষ টেস্টের পর সাদা পোশাকে দেখা যায়নি তাকে। এই মুহূর্তে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে কোনও কথা বলতে চাইলেন না, তবে ইঙ্গিত দিলেন সব ফরম্যাটের প্রস্তুতিই নিচ্ছেন তিনি, ‘মাশাল্লাহ আগের থেকে ভালো ছন্দ পেয়েছি, ভালো লাগছে, কমফোর্টেবল। কোচদের সঙ্গে পেস, সিম পজিশন এসব নিয়ে কাজ করছি। আগের থেকে অনেক উন্নতি হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ সুস্থ থাকলে সামনে আরও উন্নতি হবে।’

কোয়ারেন্টিনে থেকে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা কেমন? তাসকিন জানালেন, ‘আসলে অনেকদিন পর সবাই একসঙ্গে হয়ে ট্রেনিং করতে পেরে ভালো লাগছে। অনেকদিন পর হাই ইন্টেন্সিভ ট্রেনিং ও একসঙ্গে ড্রেসিং রুম, টিম বাস শেয়ার, সবাই একত্রিত পরিবারের মতো শুরু করতে পেরে ভালো লাগছে।’