দু’র্নীতি তুলে ধরায় ঘুষের প্রস্তাব রেল কর্মকর্তার

রেলের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ট্রেন ইজারা দেয়া হয়েছে পছন্দের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে। দু’র্নীতির প্রমাণও পেয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এস আর ট্রেডিং নামের ঐ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে দুই কোটি টাকা। দু’র্নীতির বিষয়ে কথা বলতে গেলে সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তা সময় সংবাদকে দেন ঘুষের প্রস্তাব।

দৈনিক ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ইজারায় চলতো জামালপুর কমিউটার ট্রেন। পরে মাত্র ৭০ হাজার টাকায় এস আর ট্রেডিং-কে ইজারা দেয়া হয় সেটি। ১০ বছরে লোকসান ৩৬ কোটি টাকা। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে এমন দু’র্নীতির চিত্র।

একই অবস্থা দেওয়ানগঞ্জ কমিউটারের বেলায়ও। প্রতিদিন ৯০ হাজার টাকায় ইজারায় চলে এটি। ২০১২ সালে যাত্রী পরিবহনে ৫০ শতাংশ আর পণ্য পরিবহনে ১০০ শতাংশ ভাড়া বাড়ায় সরকার। ৮ বছর ধরে নতুন ভাড়া আদায়ও করছে ইজারাদার। কিন্তু রেলকে দেয়া হচ্ছে আগের ভাড়া।

নতুন ভাড়া অনুযায়ী দুই ট্রেনে প্রতিদিন ৭০ হাজার টাকা কম ইজারা ধরে তা পরিশোধ করতে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার দপ্তর থেকে একটি চিঠি দেয়া হয় এস আর ট্রেডিংকে। এতে ৮ বছরে লোকসান হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

অনিয়ম তদন্তে গঠিত ৫ সদস্যের কমিটির রিপোর্টে পূর্বাঞ্চলের তৎকালীন প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, ডেপুটি বাণিজ্যিক জোবেদা আক্তার ও এডিশনাল বাণিজ্যিক কর্মকর্তা এ এম এম শাহনেওয়াজকে দায়ী করে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। শাহনেওয়াজ এখন পূর্বাঞ্চলের চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট। এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে সময় সংবাদকে ঘুষের প্রস্তাব দেন তিনি।

পূর্বাঞ্চলের চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট এ এম শাহনেওয়াজ বলেন, রিপোর্টটা না করলেই ভালো হয়, আপনাকে একটা গিফট করবো ভাল কিছু। যদি আপনার কিছু চাহিদা থাকে বলেন, আমিও কিছু গিফট করলাম।

এদের বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী। রেলপথমন্ত্রী বলেন, যে প্রশ্নটি আপনি তুলেছেন সেটা আমার নলেজে নেই। কিন্তু এটা আমিই দেখবো। এরকম কিছু পেলে ব্যবস্থা নেব।

বর্তমানে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ৫৪টি ট্রেনের ৩৪টিই এস আর ট্রেডিং-এর দখলে।

সূত্র: সময় নিউজ।