শ্রীলংকা সফর নিয়ে এখনও আশা ছাড়ছে না বিসিবি

বাংলাদেশ দলের শ্রীলংকা সফর হবে তো? টাইগারপ্রেমীদের মনে এ প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শ্রীলংকা ক্রিকেটের (এসএলসি) পক্ষ থেকে এখনো পরিবর্তিত বায়োসিকিউর বাবল পাঠানো হয়নি বিসিবিকে। তবে নতুন ‘ট্যুর প্ল্যান’ না পেলেও বিসিবি এখনই আশা ছাড়ছে না। বরং সফর হবে- এমনটি ধরেই এগোচ্ছে। যেহেতু এসএলসি থেকে নতুন ‘ট্যুর প্ল্যান’ পাঠানো হয়নি, তাই এ বিষয়ে চুপ থাকাকেই শ্রেয় বলে মনে করছেন বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।

গতকাল তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে আমি এ মুহূর্তে কিছু বলতে চাচ্ছি না। আমাদের জন্য যেটি সহনীয় পর্যায়ে বা আমরা যেই জিনিসটি চাচ্ছি, সেটি আমরা তাদের জানিয়েছি। আমি মনে করি শ্রীলংকা বোর্ডও যেহেতু এখন কিছু বলছে না, তাই এটি আমাদের মধ্যেই থাক। বিষয়টি পাবলিকলি আমি বলতে চাচ্ছি না। এসএলসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যেহেতু আইসিসির সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে কমিটেড, তাই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা অংশগ্রহণ করব। সেহেতু আমাদের দুই বোর্ডের ইচ্ছা রয়েছে সিরিজটি আয়োজন করার ব্যাপারে।’

সব কিছু ঠিকই চলছিল, তবে প্রশাসনিক জটিলতায় হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের শ্রীলংকা সফর। শ্রীলংকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- শ্রীলংকায় পৌঁছানোর পর বাংলাদেশের খেলোয়াড়সহ সবাইকে বাধ্যতামূলক ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আর এটিই ঝামেলা। বিসিবিপ্রধান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শর্ত মেনে শ্রীলংকা সফর সম্ভব নয়। তবে শ্রীলংকা সফর সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে টাইগাররা। গত রবিবার থেকে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর অধীনে শুরু হয়েছে স্কিল ট্রেনিং।

সব কিছু ঠিক থাকলে ২৭ সেপ্টেম্বর লংকাগামী বিমানে চড়ার কথা ছিল মুমিনুলদের। বিসিবির সিইও বলছেন, প্রস্তুতি এবং সব কিছু ২৭ তারিখকে ধরে এগোলেও এ মুহূর্তে বিষয়টি একটু চ্যালেঞ্জিং। কেননা ভিসা এবং অন্যান্য কিছু জটিলতা রয়েছে। অবশ্য যতটুকু জানা গেছে, তাতে শ্রীলংকার তরফ থেকে সবুজসংকেত পেলেও নির্ধারিত সময়ে (২৭ সেপ্টেম্বর) দ্বীপরাষ্ট্র সফরে যাওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশের। ১ অক্টোবর উড়াল দিতে পারেন টাইগাররা। প্রথম টেস্ট মাঠে গড়াতে পারে ২৪ অক্টোবর।

নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানান, এসএলসি যে গাইডলাইন পাঠিয়েছিল, সেখানে কিছু রেসট্রিকশন ছিল; যেগুলো বাংলাদেশের জন্য খুবই কঠিন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়গুলো নিয়ে গত কিছু দিন ধরে আমাদের ভেতর যোগাযোগ হয়েছে। সর্বশেষ যে পরিস্থিতি সেটি হলো যে, আমরা স্পেসিফিক কিছু বিষয় তাদের কাছে জানিয়েছি এবং বিষয়গুলো নিয়ে তারা যেটি বলেছেন, তাদের যে কোভিড টাস্কফোর্স আছে বা অন্যান্য যেই অথরিটি আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের যে স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে, সেটি কতটুকু শিথিল করা যায় তা নিয়ে কাজ করছে।

আমরা আশা করছি শিগগিরই এ বিষয়গুলো নিয়ে তারা আমাদের জানাতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ বিষয়টি পুরোটা এসএলসির ওপর নির্ভর করছে না। বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করছে তাদের সরকারের যেই সিদ্ধান্ত, কোভিড টাস্কফোর্সেও সিদ্ধান্তের ওপর। আমরা যতদূর জানতে পেরেছি এসএলসি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং আমাদের অবস্থানটা বোঝানোর জন্য তারাও চাচ্ছে।’

শেষ পর্যন্ত যদি শ্রীলংকা সফর না হয়, তা হলে বিকল্প পরিকল্পনা করে রাখার কথাও জানালেন বিসিবির সিইও। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এ সিরিজ নিয়ে পরিকল্পনা না করি, তা হলে আমাদের অন্য পরিকল্পনা তো আছেই। সে ক্ষেত্রে আমরা খেলোয়াড়দের অনুশীলনটা নিয়মিত করব। আমরা যদি এ সিরিজটা করিও, তার পরও আমাদের একটি ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের একটি নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে। সেভাবেই আমরা আমাদের পরিকল্পনা করছি।’-আমাদের সময়।