দুই শর্তে সৌদির রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেবে ঢাকা

সৌদি আরবে ৪৩ বছর ধরে থাকা রোহিঙ্গাদের অবশেষে পাসপোর্ট দিতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। তবে এজন্য জুড়ে দেয়া হয়েছে দুটি শর্ত। এর একটি হলো- তাদের কাছে বাংলাদেশের বৈ’ধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। আর দ্বিতীয়টি হলো- বাংলাদেশ থেকেই তাদের সৌদি আরবে যাওয়ার প্রমাণপত্র থাকতে হবে। এই দুটি শর্ত যারা পূরণ করতে পারবে, তারাই বাংলাদেশের পাসপোর্ট পাবেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তার দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশের বৈ’ধ নাগরিক ও এদেশে বসবাসের বৈ’ধ কাগজপত্র নেই, তারা এ সুবিধা পাচ্ছেন না। বিষয়টি স্প’ষ্ট করেই সৌদি আরবকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রিয়াদ জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিলেই যে তাদের এ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হবে, বিষয়টি এমন নয়।

মন্ত্রী আরো বলেন, মানবিক বিবেচনায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এ কারণেই তাদের দেশে থাকা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিতে বলে আমাদেরকে চাপে রেখেছে সৌদি আরব। এক্ষেত্রে রিয়াদের যুক্তি, রাষ্ট্রহীন কোনো লোককে সৌদি আরবে বসবাসের সুযোগ দিতে চায় না তারা। যেহেতু রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক, তাই তাদের পাসপোর্টের জন্য মিয়ানমারকেই চাপ দিতে বলেছে ঢাকা। মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব জানে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। তাই আমরা তাদের বলেছি, তোমরা মিয়ানমারকে আগে বলো।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই বেশির ভাগ শ্রমিক নিচ্ছে সৌদি সরকার। আর এ শ্রম বাজার ন’ষ্টের চক্রা’ন্ত চলছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট না দিলে সৌদি আরব থেকে অন্য বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর হু’মকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দু’ষ্টু প্রকৃতির লোক সব জায়গায় আছে। লোয়ার লেভেলের লোকেরা উস্কা’নি দেয়।’

সৌদি আরবে ১৯৭৭ সালে মা’নবিক বি’বেচনায় আশ্রয় পায় ৫৪ হাজার রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ মিশন পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, সেখানকার কারা’গারে থাকা ৪৬২ রোহিঙ্গার মধ্যে কেবল ৭০-৮০ জনের কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট আছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, তাদের ট্রাভেল পাস দিয়ে ফিরিয়ে আনা হবে।-ইন্ডিপেন্ডেন্ট নিউজ