গ্রামে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনে ২০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তুলতে ২০০ মিলিয়ন ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা) অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আজ শনিবার বিশ্বব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘বাংলাদেশ রুরাল ওয়াটার, স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিন ফর হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য এ অর্থ অনুমোদন দেয় সংস্থাটি।

এ প্রকল্প প্রায় ৬ লাখ মানুষকে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি এবং ৩৬ লাখের বেশি গ্রামীণ মানুষকে উন্নত স্যানিটেশন সেবা-সুবিধা দেবে। চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের ৭৮টি উপজেলার আওতাধীন এ প্রকল্প বাড়িতে ও পাবলিক প্লেসে পানি, স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত এবং জনগণকে যথাযথভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করবে। একই সঙ্গে এটি কোভিড-১৯ মহামা’রিসহ সংক্রা’মক রোগের প্রা’দুর্ভাব থেকে রক্ষা করবে মানুষকে।

প্রকল্পের আওতায় বাজার, বাসস্টেশন ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মতো পাবলিক স্পেসে ২ হাজার ৫১৪টি হাত ধোয়ার স্টেশন করবে। সেখানে পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার পাশাপাশি ওভারহেড ট্যা’ঙ্ক, সাবান এবং পানি নিষ্কা’শন ব্যবস্থা থাকবে। সবার জন্য প্রয়োজনীয় পানির প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং খোলা স্থানে মলত্যা’গ বন্ধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে জানিয়ে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ ও ভুটান) মের্সি টেম্বন বলেন, ‘তবে পানি ও স্যানিটেশনের মান এবং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও জীবনমান উন্নয়নের মধ্যে যোগসূত্র একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

এই প্রকল্পটি নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সেবা দেবে, যা ডায়রিয়াজনিত রোগ কমাবে; পু’ষ্টি ও স্বা’স্থ্য উন্নত করবে। বিশেষত দুর্ব’ল জনগোষ্ঠী এতে উপকৃত হবে।’ জলবায়ুগত পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সবচেয়ে বেশি সংবেদ’নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পানি বিশেষজ্ঞ ও টিম লিডার রোকেয়া আহমেদ বলেন, এ প্রকল্প জলবায়ুর প্রভাবসহায়ক বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা তৈরি করবে। একই সঙ্গে পয়ঃনি’ষ্কাশন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করে ভূমি ও ভূগর্ভ’স্থ পানির দূষ’ণ কমাবে।

প্রকল্পের আওতায় স্যানি’টারি ন্যাপ’কিন বিক্রির জন্য প্রায় দেড় শ নারী উদ্যোক্তাকে ক্ষুদ্রঋণ সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া এটি কমিউনিটি পর্যায়ে পানি ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব উৎসাহিত করবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলনের জন্য আচ’রণগত সচেতনতার প্রচার চালাতে এবং হাত ধোয়া, শিশুর পরিচ্ছন্নতা ও নারীর মাসিকের স্বা’স্থ্যবিধি সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কমিউনিটি স্বা’স্থ্যকর্মীদের ব্যবহার করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে এই ঋণ সহায়তা আসবে, এটি রেয়াতি সুবিধায় পাঁচ বছর বাড়তি সময়সহ ৩০ বছর মেয়াদে ঋণ সরবরাহ করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলারের বৃহত্তম আইডিএ প্রোগ্রাম চলছে।

সূত্র: ঢাকাটাইমস।