৪-০ গোলের জয় দিয়ে লা লিগা শুরু করল বার্সেলোনা

মৌসুম শুরুর আগে বার্সেলোনায় একটা বড়সড় ঝড় বয়ে গেছে। বায়ার্নের কাছে ল’জ্জাজনক হারের পর, ক্লাবের ইতিহাস সঙ্গী লিওনেল মেসির ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার ঘোষণা। কোচকে অব্যা’হতি, সুয়ারেজ-ভিদাল-র‍্যাকিটিচদের মতো অভিজ্ঞদেরকে ছাঁটাই। সবমিলিয়ে নিজের রা’গ-ক্ষো’ভ সব উগরে দিয়েছেন মেসি।

মাঠে নামার পর অবশ্য সবই ভু’লে গেলেন। সেই চিরচেনা মেসি। বল নিয়ে ছুটছেন, প্রতিপক্ষ ডিফেন্স ভে’ঙে এগোচ্ছেন, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর একের পর এক প্রচেষ্টা। মনেই হলোনা, দীর্ঘ ঝড়ের কোনোকিছু আর অবশি’ষ্ট আছে! আগের মৌসুমের হতা’শা ভু’লে, জয় দিয়ে লা লিগার নতুন মৌসুম শুরু করেছে বার্সেলোনা। আনসু ফাতির জোড়া গোলে ভিয়ারিয়ালকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে কাতালানরা। পেনা’ল্টি থেকে গোল করেছেন লিওনেল মেসিও।

পুরোনোদের অনেকেই তাঁবু ছেড়েছেন। নতুনরা এসে সে জায়গা পূরণ করেছেন। ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ম্যাচের দিকে আরো একটা কারণে চোখ ছিলো ফুটবল দুনিয়ার। বার্সেলোনা ছাড়তে চেয়ে গেল কয়েক মাস ধরে নানা নাটক হয়েছে লিওনেল মেসি ও ক্লাব কর্তাদের মাঝে। শেষ পর্যন্ত গলেছে বরফ। চুক্তি নিয়ে নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত বুকে পাথর চেপে বার্সেলোনাতেই রয়ে গেছেন মেসি।

গেল ক’মাসের স্নায়ুযুদ্ধের পর, কেমনরূপে ফিরবেন মেসি? প্রশ্নটা ঘুরেফিরেই আসছিলো সমর্থকদের মনে। কাগজে কলমে শান্তির পরশ থাকলেও, এত তিক্ততার পর, প্রিয় ক্লাবের প্রতি আগের যে টান আর থাকবেনা সেটাইতো স্বাভাবিক হওয়ার কথা। তবে, মানুষটা যে লিওনেল মেসি। ফুটবল যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে তাকে তো আর অভিমান মানায়না। তাই মেসি খেললেন রাজার মতই।

আ’ক্রম’ণভাগে তার সঙ্গী ১৭ বছরের টগবগে তরুণ আনসু ফাতি। অন্যপ্রান্তে ফরাসী তারকা আঁতোয়া গ্রিজম্যান। বায়ার্ন মিউনিখ থেকে ফেরা কৌতিনিয়োও আছেন অ্যাটাকিংয়ে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের মিশেল। শুরু থেকেই আক্র’মণভাগের তা’ণ্ডবে কো’নঠাসা ভিয়ারিয়াল।

ন্যু ক্যাম্পে ১৫ মিনিটেই সৌরভ ছড়িয়েছেন ফাতি। জর্ডি আলবার অ্যাসিস্টে গোল করেন স্প্যানিশ উইঙ্গার। লিড পায় বার্সেলোনা। কোম্যান যুগের সূচনাল’গ্নে চার মিনিট পর আবারো ফাতি ঝলক। এবার তাকে সহায়তা করেছে কৌতিনিয়ো। ব্রাজিলিয়ান তারকার পাসে গোল করে কাতালানদের ২-০ তে লিড উপহার দেন কোম্যানের অন্যতম ভরসা।

দুই গোলের পর ফাতিকে কড়া নজরে রাখেন ভিয়ারিয়ালের র’ক্ষণভাগের ফুটবলাররা। ৩৪ মিনিটে তাকে ফাউল করেন বেন মারিয়ো গাসপার। শা’স্তিটাও দিতে দেরি করেননি রেফারি। পেনাল্টি পায় বার্সা। পেনাল্টি থেকে গোল করেন এ আর্জেন্টাইন তারকা। গোলশেষে উদযাপনটা স্বভাবসুলভ ছিলনা, তবে আর্জেন্টাইন জাদুকরের মুখে হাসি দেখা গেছে। কিছুটা হলেও স্বস্তি খুঁজে নিতে পারেন বার্সেলোনা সভাপতি বার্তোমেউ!

ছন্নছাড়া ভিয়ারিয়াল বিরতিতে যাওয়ার আগে করে বসে বড় ভুল। আ’ত্মঘা’তী গোল করেন পাওতেরেস। ৪-০ তে লিড পায় বার্সেলোনা। ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে ভিয়ারিয়াল।প্রথমার্ধ্বের ৪-০ লিডের পর, দ্বিতীয়ার্ধ্বে লিড কতটুকু বাড়াতে পারে বার্সা সেটিই ছিল দেখার বিষয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধ্বে কিছুটা অলস দৌড়াদৌড়ি করতেই ব্যস্ত ছিল বার্সা ফুটবলাররা। এই সময়ে বেশকিছু আক্র’মন চালিয়েছে ভিয়ারিয়াল।

বড় লিডের সুযোগে ম্যাচে অন্যান্যদেরকেও পরখ করে দেখেন কোচ রোনাল্ড কোম্যান। ফাতি ও কৌতিনিয়োকে পরিবর্তন করে ডেম্বেলে ও পেদ্রিকে সুযোগ দেন কোম্যান। এরপর মাঠে নামান সদ্যই য়্যুভেন্তাস ছেড়ে বার্সায় আসা পিয়ানিচ ও তরুণ ফুটবলার ত্রিনকাওকেও।

৮৬ মিনিটে ভিয়ারিয়াল গোলরক্ষ’কের দুর্দান্ত দক্ষতায় গোলব’ঞ্চিত হন মেসি। শেষমেশ ৪-০ গোলের জয় নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় বার্সা শিবিরকে। কোচ হিসেবে বার্সেলোনায় নিজের যাত্রাটা রঙীণ হলো কোম্যানেরও।