লা’শবাহী গাড়ি ধরে বারবার ‘ক্ষমা’ চাচ্ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের স্ত্রী

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে নিয়ে আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) লা’শবাহী ফ্রিজিং গাড়িটি সুপ্রিম কো’র্ট প্রাঙ্গণের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে। এ সময় মাহবুবে আলমের স্ত্রী বিনতা মাহবুব বাসা থেকে দৌড়ে গাড়ির কাছে আসেন। সকাল ১০টা বেজে ৪০ মিনিট তখন। অঝোরে কাঁ’দতে থাকেন। বিদায় বেলায় তিনি ম’রদেহবাহী গাড়ি ধরে বারবার বলতে থাকেন। ‘ক্ষমা করে দিও, ক্ষমা করে দিও তুমি; আমাকে ক্ষমা করে দিও।’ একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে এ দৃশ্য দেখা গিয়েছে।

সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের জানাজা সুপ্রিম কো’র্ট প্রা’ঙ্গণে সম্পন্ন হয়েছে। মাহবুবে আলম দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে সুপ্রিম কো’র্টে আ’ইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। সর্বশেষ টানা ১১ বছর দেশের প্রধান আ’ইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে এখানে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার সম্মানে আজ সোমবার সুপ্রিম কো’র্টের আপিল বিভাগ ও হাইকো’র্ট বিভাগ বসছে না বলেই আগেই জানানো হয়েছে। তার মৃ’ত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ আরও অনেকে।

মাহবুবে আলম গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকি’ৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যান। আজ সোমবার সকালে বেইলি রোডের সরকারি বাসায় তার মরদে’হ আনা হয়। সেখান থেকে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে তার মরদে’হবাহী গাড়ি সুপ্রিম কো’র্ট প্রঙ্গণের দিকে রওনা হয়। ১০টা ৪১ মিনিটের দিকে গাড়িটি সুপ্রিম কো’র্ট প্রাঙ্গণে পৌঁছায়।

সেখানে তার ম’রদেহে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান দীর্ঘদিনের সহকর্মী আ’ইনজীবীসহ রাজনৈ’তিক ব্যক্তিবর্গরা। তার মধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সোমবার সকাল থেকে মাহবুবে আলমকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার সহকর্মী ও রাজনৈ’তিক ব্যক্তিবর্গরা হাইকো’র্ট প্রাঙ্গণে জমায়েত হতে থাকেন। মাহবুবে আলম জ্ব’র ও গলাব্য’থা নিয়ে গেলো চার সেপ্টেম্বর সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনেই করোনা পরীক্ষা করালে তার রিপোর্টে পজি’টিভ আসে।

গেল ১৯ সেপ্টেম্বর তার শারী’রিক অবস্থার অবন’তি হলে তাকে আইসিউতে স্থান্তর করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই তিনি চি’কিৎসাধীন ছিলেন। ১৯৭৫ সালে সুপ্রিম কো’র্টের এ সিনিয়র আইনজীবী আ’ইন পেশায় নিযুক্ত হন। ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে মাহবুবে আলম সুপ্রিম কো’র্ট বারের ১৯৯৩ সালে সম্পাদক ও ২০০৫-২০০৬ সালে সভাপতি নি’র্বাচিত হন।

পরে ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হ’ত্যা, জাতীয় চার নেতা হ’ত্যা, সংবিধা’নের ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশো’ধনীসহ ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মা’মলার শুনানি করেন।

সূত্র: বিডি২৪লাইভ