সুবিধাজনক অবস্থায় আজারবাইজান, ব্যাপক ক্ষ’য়ক্ষ’তির শিকার আর্মেনিয়রা

আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কারাবাখ এলাকায় দখলদার আর্মেনিয়দের থেকে টালিশ গ্রাম ও এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি ‘সুবিধাজনক উঁচু স্থান’ আজারবাইজানের সেনারা দখল নিয়েছে। ৪০০ ভৌগলিক এলাকা লক্ষ্য করে ড্রো’ন, যু’দ্ধ বিমান, ক্ষে’পণা’স্ত্র ও কামানসহ বিভিন্ন উপায়ে ব্যাপক হা’মলা চালাচ্ছে আজারবাইজানের সেনারা। ধারণা করা হচ্ছে, এতে শতাধিক আর্মেনিয় সেনা নি’হত হয়েছে।

গত রোববার ভোরের দিকে আর্মেনিয়ান বাহিনী আজারবাইজানের আবাসিক এলাকা ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালালে সংঘ’র্ষ শুরু হয়। সোমবারের খবরে বলা হয়েছে, আর্মেনিয়ান অধিকৃত নাগার্নো-কারাবাখে আজারবাইজানের সামরিক বাহিনী নতুন মাত্রায় যু’দ্ধ শুরু করেছে। আর্মেনিয়ান দখলদার নেতা আরায়িক হা’র্টিউইয়ান আজারবাইজানের সাফল্যের কথা স্বীকার করে বলেছিলেন, নতুন সংঘ’র্ষের ফলে তারা আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর কাছে নাগার্নো-কারাবাখের কিছু এলাকা হারিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এসময় সামরিক ও বেসামরিক লোক নিহ’ত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়, আজারবাইজান সেনারা সীমান্তের উচু পাহাড়ি এলাকা থেকে আর্মেনিয়ান সশ’স্ত্র বাহিনীকে হটিয়ে এসব সুবিধাজনক স্থানগুলোর দখল নিয়েছে। পা’ল্টা আক্র’মণ করে আজারবাইজান সেনারা সাফল্যের দ্বা’রপ্রান্তে। লিখিত বিবৃ’তিতে আরো বলা হয়েছে যে বিপুল সংখ্যক আর্মেনিয়ান সেনা নি’হত হয়েছে এবং “শ’ত্রুদের” ব্যাপক ক্ষ’য়ক্ষ’তি হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় আর্মেনিয় বাহিনীর উপর ক্র’মাগত রকেট, আ’র্টিলারি ও বিমান হাম’লা চালিয়ে তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে বা’ধ্য হয়েছে। সাবেক সোভিয়েতভুক্ত এ দুটি দেশ ১৯৯০ সাল থেকেই আঞ্চলিক বিরো’ধে জড়িয়ে আছে। ২০১৬ সালে এসে তা মারা’ত্মক রূপ নেয়। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে এই সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

মহাসচিবের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, গুতেরেস অবিলম্বে উভয়পক্ষকে এই যু’দ্ধ বন্ধের জন্য জোরালো আহ্বান জানান। বিলম্ব না করে অর্থপূর্ণ আলোচনায় ফেরারও আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে নাগরনো কারাবাখ নিয়ে রোববার নতুন করে সংঘ’র্ষ শুরু হয়। ব্যাপক গোলা’গুলির পর পরিস্থিতি যু’দ্ধাবস্থায় পৌঁছায়।

এ প্রেক্ষাপটে আর্মেনীয় সরকার সামরিক আ’ইন জারি করে নিজ জনগণকে যু’দ্ধের জন্যে প্রস্তুত হতে বলেছে। আর্মেনিয়ার দাবি, প্রথমে আজারবাইজান বাহিনী তাদের বাহিনী লক্ষ্য করে গোলা ছোঁড়ে। কিন্তু আজারবাইজান বলছে, আর্মেনিয়ার বাহিনীই প্রথমে তাদের সেনা ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে গো’লাবর্ষণ করে। –ইয়েনি শাফাক ও ডেইলি সাবাহ