মানবাধিকার ল’ঙ্ঘন নিয়ে ভারতকে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের হুঁ’শিয়ারি

ভারতের সুপ্রিম কো’র্টের এক আদেশের বিষয়ে উ’দ্বে’গ প্রকা’শ করেছেন জাতিসংঘের একজন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ। দেশটির রাজধানী দিল্লির রেললাইন সংল’গ্ন বস্তি থেকে আড়াই লাখ মানুষ উ’চ্ছে’দ করতে ওই আদেশ দেয় সুপ্রিম কো’র্ট।

তবে পর্যাপ্ত আবাসন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত বালাকৃ’ষ্ণান রাজাগোপাল দিল্লিকে হুঁ’শিয়ার করে বলেছেন, এই প’দক্ষে’পের মাধ্যমে গু’রু’ত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চু’ক্তি অনুযায়ী ভারতের বা’ধ্যবা’ধকতা ল’ঙ্ঘি’ত হতে পারে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জেনেভার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।

গত আগস্টের শেষ দিকে দিল্লির রেললাইন সংল’গ্ন ৪৮ হাজার বসতি উচ্ছে’দের নির্দে’শ দেয় ভারতের সুপ্রিম কো’র্ট। বসতি স্থা’পনকারীদের সরে যেতে তিন মাসের সময়সীমা বে’ধে দেয় আদা’লত। পরে দ্বিতীয় আরেক আদেশে উ’চ্ছে’দ আদেশ সাম’য়িকভাবে স্থ’গিত করে বস্তিবাসীদের পুনর্বা’সনে চার সপ্তাহের সময় বে’ধে দেওয়া হয়।

ভারতীয় সর্বোচ্চ আদা’লতের দ্বিতীয় দফার ওই আদেশকে স্বাগত জানান জাতি’সংঘের বিশেষ দূত বালাকৃষ্ণান রাজাগোপাল। তবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে এই বিপুল সংখ্যক বস্তিবাসীর কোনও যৌ’ক্তিক পুনর্বা’সন পরিক’ল্পনা প্রণ’য়ণের জন্য মাত্র চার সপ্তাহ সময় যথে’ষ্ট হবে না।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, উচ্ছে’দের প্রাথমিক আদে’শ দেওয়ার আগে আদালত ক্ষ’তিগ্র’স্থ বস্তিবাসীদের কারো সঙ্গে আলোচনা করেনি কিংবা তাদের বক্তব্যও শোনেনি। আর প্রাথমিক আদেশে বিচারকেরা জানান, কেউ উ’চ্ছে’দ আদে’শ পা’ল্টানোর আবেদন আনলে তা অ’নুমো’দন করা উচিত হবে না।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত বালাকৃষ্ণান রাজাগোপাল বিবৃতিতে বলেন, ”এটি রেললাইনের ধা’রে বসবাসকারী নিম্ন আয়ের মানুষদের ন্যা’য়বিচার পাবার অধিকারের পুরাদস্তুর প্র’ত্যা’খ্যা’ন। এটি যদি বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে ভারত পরিষ্কারভাবে ইন্টারন্যাশনাল কনভেন্যা’ন্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’র ২.৩ ধা’রা ল’ঙ্ঘ’ন করবে। ওই ধা’রায় যে মূল মানবাধিকার নীতির কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে কেউ যদি মনে করে তিনি খা’মখে’য়ালি আচ’রণের শি’কা’র হয়েছেন তাহলে সেই সিদ্ধান্তের বি’রু’দ্ধে বিচারিক প’রিত্রা’ণ চাইতে পারবেন।”

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদনকৃত চু’ক্তি ”ইন্টারন্যাশনাল কনভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস” ১৯৭৬ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। এর অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ ভারত। রাজাগোপাল আরও বলেন, গৃহহী’ন মানুষদের যেকোনও ধ’রণের উ’চ্ছে’দ মা’রা’ত্ম’ক মানবা’ধিকার ল’ঙ্ঘ’ন বলে বিবেচিত হতে পারে। আর অর্থনৈ’তিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সং’ক্রা’ন্ত আন্তর্জাতিক চু’ক্তি অনুযায়ী ভারতের বা’ধ্যকতার ল’ঙ্ঘ’ন বলেও বিবেচিত হতে পারে এই প’দক্ষে’প।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদনকৃত এই চু’ক্তিটিও ১৯৭৬ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। আন্তর্জাতিক চু’ক্তি অনুযায়ী ভারতের বা’ধ্যবা’ধকতা বিবে’চনায় নিয়ে দিল্লির বস্তিবাসীদের উ’চ্ছে’দ সং’ক্রা’ন্ত মামলাটি পুনরায় বিবেচনা করতে দেশটির সুপ্রি’ম কো’র্টের প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘ দূত বালাকৃষ্ণান রাজাগোপাল। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে মানবাধিকার বিষয়ক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সর্বোচ্চ আ’দালতের জো’রালো খ্যাতি রয়েছে।