রাত পেরোলেই বাবরি মসজিদ মা’মলার রায়

বত্রিশ জন অভিযু’ক্ত। সঙ্গে আরও লাখো অজ্ঞা’ত-পরিচয় করসেবক। ২৮ বছর মা’মলা চলায় অভিযু’ক্তদের মধ্যে, ১৬ জন আগেই প্র’য়াত। দেশের ইতিহাসে, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাবরি মসজিদ ধ্বং’স মা’মলার রায় বুধবার। অযো’ধ্যা জমি বিত’র্কে সুপ্রি’ম কো’র্টের রায়ের কোনও প্রভাব বাবরি মসজিদ ধ্বং’সের মাম’লায় পড়ে কিনা, তা নিয়ে এখন নানা মহলে চলছে জল্পনা। ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বং’সের ১০ মাস পর চার্জশিট দেয় সিবিআই।

সঙ্ঘ পরিবারের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে নাম ছিল লালকৃ’ষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর জোশী, উমা ভারতীর। উত্তরপ্রদেশে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, বিজেপি নেতা বিনয় কাটিয়ার, সাক্ষী মহারাজ, ভিএইচপি নেত্রী সাধ্বী ঋতম্ভরা এবং রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের সভাপতি নৃ’ত্য গোপাল দাস ও সম্পাদক চম্পত রাইয়ের নাম চার্জশিটে দেয় সিবিআই। সবমিলিয়ে ৪৮ জন ছিলেন অভিযুক্তের তালিকায়। মা’মলা চলাকালীন ১৬ জন মা’রা যান। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন, বিশ্বহিন্দুপরিষদ নেতা অশোক সিঙ্ঘ’ল, গিরিরাজ কিশোর, বি’ষ্ণুহরি ডালমিয়া ও শিবসেনা সু’প্রিমো বাল ঠাকরে।

২৮ বছরে নানা নাটকীয় টানাপো’ড়েনের সাক্ষী থেকেছে বাবরি মসজিদ ধ্বং’স মা’মলা। ঘটনার পর সাবেক ফৈজাবাদ জেলায় পুলিস ২টি এফআইআর দায়ের করে। ১৯৭ নম্বর এফআইআরে অ’জ্ঞাতপরিচয় লা’খো করসেবকের বিরু’দ্ধে অভি’যোগ দায়ের হয়। লখনউয়ের আদা’লতে শুরু হয় মা’মলা। ১৯৮ নম্বর এফআইআরে আডবাণী, জোশী, উমাদের বিরু’দ্ধে ষড়য’ন্ত্রের অভি’যোগ করা হয়। রায়বরেলির আদা’লতে শুরু হয় মা’মলা। তদন্ত শুরুর পর তিরানব্বইয়ের অক্টোবরে ২ মা’মলায় যৌথ চার্জশিট দেয় সিবিআই।

৪৮জন নেতার বিরু’দ্ধে কেন্দ্রীয় গো’য়েন্দা সংস্থাও মসজিদ ধ্বং’সে ষ’ড়য’ন্ত্রের অভি’যোগ আনে। ২০০১-এ আডবাণী-সহ ১৪ জন নেতাকে, ষ’ড়য’ন্ত্রের অভি’যোগ থেকে মুক্তি দেয় নিম্ন আদা’লত। ২০০৩-এ সিবিআই আর একটি চার্জশিট দিলেও, রায়বরেলির আদা’লতের নির্দেশে প্রমাণ না থাকায় ষ’ড়য’ন্ত্রের অভিযো’গ ছাড়াই আডবাণীদের বিরু’দ্ধে এগোতে থাকে মা’মলা। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকো’র্টও নিম্ন আদা’লতের নির্দেশ বহাল রেখে, আডবাণীদের ষ’ড়য’ন্ত্রের অভিযো’গ থেকে মুক্তি দেয়।

২০১১ সালে করা সিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৭ সালে সুপ্রিম কো’র্ট খা’রিজ করে দেয় এলাহাবাদ হাইকো’র্টের রায়। আডবাণী সহ ১৪ জন নেতার বিরু’দ্ধে ফিরে আসে ষড়য’ন্ত্রের অভি’যোগ। সুপ্রিম কো’র্টের নির্দেশেই, লখনউয়ের সিবিআই আ’দালতে, করসেবকদের বিরু’দ্ধে এবং আডবাণীদের বিরু’দ্ধে ২টি মা’মলার একসঙ্গে শুনানি শুরু হয়। প্রায় তিন দশক পর গত পয়লা সেপ্টেম্বর শেষ হয় সেই শুনানি। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কো’র্টের নি’র্দেশ ছিল, নিয়মিত শুনানি করে ২ বছরের মধ্যে মা’মলার নিষ্প’ত্তি করতে হবে।

একাধিকবার সেই সময়সীমা বাড়ানো হয়। মা’মলা শেষ করতে লখনউয়ের আদা’লতের বিচা’রক সুরেন্দ্র কুমার যাদবের অবসরের দিন পিছিয়ে দেয় শীর্ষ আদা’লত। বাবরি মসজিদ ভা’ঙার সময়ে ঘটনাস্থলে ছিলেন আডবাণী, জোশীরা। সাম্প্রদা’য়িক সংঘ’র্ষ, সংঘ’র্ষে উস্কা’নি, ফৌজ’দারি ষ’ড়য’ন্ত্র-সহ নানা অভিযো’গে অভিযুক্ত হন তাঁরা। লখনউয়ের আদা’লতে নিজেদের বয়ানে আডবাণী-জোশী দাবি করেন রাজনৈ’তিক প্রতিহিং’সার জন্যই ষড়য’ন্ত্রে অভি’যোগ আনা হয়। করোনা পরিস্থিতিতে ভি’ডিও কনফারেন্সে সাক্ষ্য দেন তাঁরা।

উমা-কল্যাণরা সশরীরে হাজিরা দেন। তবে, কল্যাণ সিং ছাড়া কেউই, নিজেদের নি’র্দোষ প্রমাণে কোনও নথি দেননি। মসজিদ ধ্বং’সে জন্য ফাঁ’সি দেওয়া হলেও তিনি নিজেকে ধন্য মনে করবেন বলে আদা’লতের বাইরে মন্তব্য করেন উমা ভারতী। আডবাণী, জোশীরা সব অভিযো’গ অস্বীকার করলেও লিবেরহান কমিশনের রিপোর্টে বলা হয় বাবরি ধ্বং’স না ছিল স্বতঃস্ফূ’র্ত, না ছিল অপরিক’ল্পিত। গত বছর নভেম্বরে অযোধ্যায় রামমন্দিরের পক্ষেই রায় দেয় সুপ্রিম কো’র্ট।

কিন্তু, সেখানেও শীর্ষ আদা’লতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আদা’লতের নির্দেশ অমা’ন্য করে, বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়। বাবরি মসজিদ ধ্বং’সে ভা’ঙা হয় আই’ন। হিসাব কষেই ন’ষ্ট করে দেওয়া হয় মানুষের উপাসনাস্থল। বাবরি ধ্বং’স মাম’লায় সাড়ে তিনশো জনের সাক্ষ্য শুনেছে নিম্ন আদা’লত। খতিয়ে দেখা হয় প্রায় ৬০০ নথি। ইতিমধ্যেই কেটে গেছে তিন দশক। মূল-মাম’লা উচ্চ আদা’লতে গড়ালে চূড়ান্ত নিষ্প’ত্তি হতে কতদিন লাগবে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সব মহলে।-জিনিউজ।