এবার ঋণ পরিশোধে সন্তান বিক্রি, দেখতে গেলে মাকে তাড়িয়ে দেন ক্রেতা!

সন্তানের প্রতি মায়ের দরদ অকৃত্রিম। যে কারণে অভাবের তাড়নায় নিজ ঔরসজাত সন্তানকে বিক্রি করে দিলেও সেই সন্তানের কথা মনে পড়তেই আ’ত্মহণনের চেষ্টা চালিয়েছেন হতভা’গ্য মা। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ তাৎক্ষ’নিক অভি’যান চালিয়ে শিশুটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে। গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার সাপমারী গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে সুলতান তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে সুমা আক্তারকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রায় ৬ মাস পূর্বে সুলতান-সুমার সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। সিজা’রিয়ান অপা’রেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তানটির জন্ম হওয়ার সময় স্বামী সুলতানের ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। সন্তানের লালন-পালন করতে গিয়ে আরো কিছু টাকা ঋণ করতে হয়। অভাবের সংসারে স্ত্রী সুমা আক্তারের নিকট সেই টাকা দাবি করেন সুলতান।

এক পর্যায়ে ঋণ শোধ করার জন্য তারা শিশু সন্তানকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। পরে একই এলাকার প্রতিবেশী কাপতুল মন্ডলের ছেলে শফিকের কাছে ৬ মাসের ঔরসজাত শিশু সন্তানকে তারা ৯১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। এদিকে বুধবার সকালে শিশুটির মা সুমা আক্তার তার শিশুর খোঁজে প্রতিবেশী শফিকের বাসায় যায়। এ সময় ক্রেতা শফিক শিশুটি তার বাসায় নেই বলে তাড়িয়ে দেয়। পরে নিজ বাসায় ফিরে ইউরিয়া সার খেয়ে সুমা আক্তার আ’ত্মহণনের চেষ্টা করেন।

স্থানীয়ভাবে সংবাদ পেয়ে সদর থানা পুলিশ অসুস্থ সুমা আক্তারকে উ’দ্ধার করে শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে শিশু বিক্রির ঘটনায় শিশুটির বাবা সুলতান মিয়াকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সদর থা’নার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে শিশুটির ক্রেতা শফিকের বাড়িতে অভি’যান চালান। সেখান থেকে শিশুটিকে উ’দ্ধার করে চি’কিৎসাধীন মা সুমা আক্তারের কোলে ফিরিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে সদর থা’নার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে শিশু সন্তানটিকে উ’দ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিশুটির বাবা সুলতানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থা’নায় আনা হয়েছে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ অনলাইন।